জাতীয়

সংসদ সদস্যর ছে’লের বরযাত্রীদের সঙ্গে টোল নিয়ে সং’ঘ’র্ষ, নববধূসহ আ’হত ১০

এবার পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পায়রা সেতুতে টোল আদায় নিয়ে পটুয়াখালীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেনের ছে’লের বরযাত্রীদের সঙ্গে পায়রা সেতুর টোল আদায়কারীদের সং’ঘ’র্ষে নববধূসহ অন্তত ১০ জন আ’হত হয়েছেন। সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেনের ছে’লে তাজ হোসেন তালুকদারের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টোলপ্লাজায় এ সং’ঘ’র্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পু’লিশসহ রে’ব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। টোল আদায়কে কেন্দ্র করে এ সং’ঘ’র্ষে আ’হত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতা’লে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে রাতভর পু’লিশ হেফাজতে রেখে শুক্রবার দুপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন এমপির বড় ছে’লে মাহিন হোসেন তালুকদার জয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধূ নিয়ে বরিশাল থেকে পটুয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল একটি গাড়ি বহর। পায়রা সেতু পার হয়ে টোলপ্লাজায় এসে টোল পরিশোধ না করেই যেতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন তারা। এ সময় এমপির ছে’লে তাজ তার মায়ের বরাত দিয়ে টোল পরিশোধে আ’প’ত্তি জানান।

এ নিয়ে প্লাজার লোকজনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে সং’ঘ’র্ষে লিপ্ত হন তিনি। সং’ঘ’র্ষে টোলপ্লাজার সিকিউরিটি গার্ড ইনচার্জ মো. রাসেল, টোলের ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. রাসেল ও টোল আদায়কারী সদস্য সবুজ, বাবু এবং তাজের এক বন্ধু আ’হত হন। এর মধ্যে সিকিউরিটি গার্ড রাসেল ও এমপিপুত্রের বন্ধু কি’শোর মা’রাত্মক জ’খ’ম হন। পরে রাসেলকে দুমকি উপজে’লা হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে পায়রা সেতু টোলপ্লাজার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কানিজ সুলতানা হেলেন এমপির বরাতে পাঁচটি গাড়ি বিনা টোলে সেতু পার হয়। একই গাড়ির বহর সন্ধ্যায় বরিশাল থেকে পটুয়াখালীর দিকে আসতে টোলপ্লাজায় আসে। এ সময় প্লাজায় দায়িত্বরত লোকজন টোল চাইলে এমপির ছে’লে ও বন্ধুরা টোল দেওয়া যাবে না বলে জানান। গাড়িতে কানিজ সুলতানা হেলেন ও এমপির স্টিকার না থাকায় তাদের টোল দিতে বলা হয়। এ নিয়ে তর্ক হলে টোলপ্লাজার লোকজনকে মা’রধর করেন এমপিপুত্র ও তার বন্ধুরা। খবর পেয়ে পু’লিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও বলেন, পু’লিশের উপস্থিতিতে এমপিপুত্র তাজ ও তার বন্ধুরা আমাকেও মে’রেছে। পরে পু’লিশ নিরাপত্তার জন্য আমাকে প্রশাসনিক ভবনের ওপরে নিয়ে গেলে আমি রক্ষা পাই। তবে অ’পর একটি সূত্র বলছে, ঘটনার সময় এমপির বরাত দিয়ে টোলপ্লাজায় কথা বলতে চাইলে টোলের লোকজন কানিজ সুলতানা হেলেনকে কটাক্ষ করে কথা বলেন। এ কারণে এমপির লোকজন রাগান্বিত হন এবং সং’ঘ’র্ষ বাধে। অ’ভিযোগের বিষয়ে জানতে তাজ হোসেন তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

কিন্তু অ’ভিযোগ অস্বীকার করে কানিজ সুলতানা হেলেন এমপি দাবি করেন, টোল পরিশোধ নিয়ে নয়, নববধূর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতেই টোলের লোকজন এ কা’ণ্ড ঘটিয়েছে। টোলের নামে ওরা নৈরাজ্য ও ডা’কাতি করছে। বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে অনেক ব্যস্ত আছি, পরে এর ব্যাখ্যা দেব। দুমকি থা’নার ওসি মো. আবদুস সালাম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অ’ভিযোগ করেনি। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থা’নার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পায়রা সেতু এলাকা দুমকি থা’নার আওতায়। তাই বিষয়টা তারা দেখবে। আম’রা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে চলে এসেছি। বাউফল-দুমকি সার্কেলের সহকারী পু’লিশ সুপার শাহেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আসলে ভুল বোঝাবুঝি ও অধৈর্যের কারণে এটা হয়েছে, যা আমাদের কা’ম্য নয়।

 

Back to top button