জাতীয়

আকাশে মেঘ জমলেই উধাও হয়ে যায় বিদ্যুৎ

এবারের ঈদের দিন সকালেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুতের আলো। সকালটাও তখন ঘুটঘুটে কালো। ঈদ উদযাপন করতে গ্রামে আসা মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ’পেক্ষা করেও পাচ্ছেন না বিদ্যুৎ। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মক’র্তারা ‘দিচ্ছি-দেব’ করতে করতে পেরিয়ে যায় টানা ২৭ ঘণ্টা। রাত পেরিয়ে বিদ্যুৎ ফিরেছে পরদিন বুধবার দুপুর ২টায়। তাও বেশিক্ষণ টেকেনি। কয়েক ঘণ্টা পর আবার বিদ্যুৎহীন। নোয়াখালীর উপকূলীয় সবুর্ণচরে বিদ্যুতের এমন লুকোচু’রি নতুন নয়, কারণে-অকারণে, সামান্য ঝোড়ো বাতাসে দীর্ঘ ‘বিদ্যুৎ বিরতি’ চলছে দিনের পর দিন। এতে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন এলাকার মানুষ।

এদিকে গ্রাহকরা বলছেন, আকাশে বিদ্যুৎ চ’মকালেই চ’মকে ওঠে পল্লী বিদ্যুৎ। লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পকারখানাসহ ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রায় অচল। বিদ্যুতের ভোগান্তির জন্য কখনও সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি, কখনও গাছ কা’টা আবার কখনও ট্রান্সফরমা’র বিকল হয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন উপজে’লা পল্লী বিদ্যুতের কর্মক’র্তারা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়ে সিফাত হিমেল নামে একজন ফেসবুকের দেয়ালে লিখেছেন, ‘বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কবিহীন এক জনপদে বাড়ি আমা’র। আমি ভাবতাম পাহাড়ি অঞ্চলেই কেবল এমন।’ একই রাতে হাবিবুল্লাহ নামে একজন লিখেছেন, ‘ঝড় নেই, বৃষ্টি নেই। তার পরও বিদ্যুৎ নেই। দুর্ভাগা সুবর্ণচর।’

গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসা রাজধানীর উত্তরার ব্যবসায়ী মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ঈদ কে’টেছে দুর্বিষহ। ছোট শি’শু ও না’রীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিদ্যুতের কারণে ট্যাঙ্কিতে পানি তোলা যায়নি। পানির অভাবে ক’ষ্টে’র সীমা ছিল না।’

সুবর্ণচর কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজে’লায় রয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের ৮১ হাজার গ্রাহক। এর মধ্যে সাধারণ গ্রাহক (আবাসিক) ৭৪ হাজার। বাকিগুলো বাণিজ্যিক, বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প, পোলট্রি ও শিল্পকারখানার। এখানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। চাহিদার শতভাগই সরবরাহ হচ্ছে।

এদিকে গ্রাহকরা বলেন, বিদ্যুৎবি’ভ্রাটের কারণে মোবাইল ফোন চার্জসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রী চালানো যাচ্ছে না। ধুঁকে ধুঁকে চলছে ছোট-বড় কলকারখানা। বাসাবাড়িতে পানিও নেই। কৃষিজমিতে সেচ দিতে পারছেন না চাষি।

এ সময় পোলট্রি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎবি’ভ্রাটের কারণে খামা’রের মুরগি মা’রা যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্যবসায়ী আহমেদুল হক বলেন, বিদ্যুতের অভাবে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনছেন।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. ফসিউল হক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সুবর্ণচরে বিদ্যুতের লাইন এসেছে বেগমগঞ্জ গ্রিড থেকে। বেগমগঞ্জ থেকে সুবর্ণচরে ৩০ কেভি লাইনের দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটার। ঝড় এলেই দীর্ঘ এ লাইনের বহু জায়গায় গাছপালা পড়ে। একটি বড় গাছ সরাতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টাও চলে যায়। তখন পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ না রাখলে দু’র্ঘ’ট’না ঘটতে পারে। সুবর্ণচরে গাছের অভাব নেই। একটু ঝড় এলেই গাছ হেলে পড়ে। ঝড়ের পর প্রতিটি খুঁটি পরীক্ষা না করে আম’রা বিদ্যুৎ সরবরাহ করি না। এ জন্য সময় লাগে।’

এ সময় ঈদের দিন ২৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেইন লাইনে সাত ঘণ্টা পরই বিদ্যুৎ চালু হয়েছে। যেসব স্থানে গাছ বেশি পড়েছে, সেসব লাইনে সময় বেশি লেগেছে।’

 

Back to top button