জাতীয়

‘রেলমন্ত্রীকে সাময়িক সময়ের জন্য পদত্যাগ করতে হবে’

‘বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে রেলমন্ত্রীর স্ত্রী’র তিন আত্মীয়কে জ’রিমানা করায় টিকিট পরিদর্শককে (টিটিই) বরখাস্তের ঘটনা ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত। এ ধরনের ঘটনা গভীর উদ্বেগ এবং ক্ষমতার অ’পব্যবহারের নির্লজ্জ ও নিকৃষ্টতম উদাহ’র’ণ। এর ফলে দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার বার্তা যে, শুধু ক্ষমতাশালীরাই নয়, তাদের প্রভাব বলয়ে থাকা আত্মীয়দের জন্যও আইন প্রযোজ্য হবে না।’

দু’র্নী’তিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) শনিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে। সংস্থাটি মনে করে, নৈতিক অবস্থান থাকলে এই ঘটনায় রেলমন্ত্রীর সাময়িক সময়ের জন্য পদত্যাগ করা উচিত।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ন্যয়-নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে পুরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট টিটিইকে তড়িৎ গতিতে বরখাস্ত করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় অনিয়মের কাছে মা’থানত করেই রুটিরুজি টিকিয়ে রাখার অন্যতম উপায়। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ত’দ’ন্তের স্বার্থে নৈতিক অবস্থান থেকে রেলমন্ত্রীকে সাময়িক সময়ের জন্য পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ক্ষমতার অ’পব্যবহারের একটি নির্লজ্জ ও নিকৃষ্টতম উদাহ’র’ণ। এখানে মূলত দুইভাবে ক্ষমতার অ’পব্যবহার। প্রথমত, রেলমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ অর্থাৎ তারা ধরেই নিয়েছে, রেলের প্রচলিত আইন তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট টিকিট পরিদর্শক তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করায়, তাকে কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সম’র্থনের সুযোগ না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা দেশবাসীর কাছে এই বার্তাটিই পৌঁছেছে যে, ক্ষমতার দাপট ও অনিয়মই হচ্ছে বাস্তবতা। তাছাড়া এই নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত এখনো গুটিকয়েক যারা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন- তাদের জন্য একটি শক্তিশালী নেতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।’

টিআইবি বলছে, যদিও এ ঘটনায় রেলমন্ত্রী নিজের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে গণমাধ্যমকে বলেছেন। তার আত্মীয় পরিচয়দানকারীদের চেনেন না বলে দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে রেলকর্তৃপক্ষ টিটিই বরখাস্তের জন্য যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অ’ভিযোগকে সামনে নিয়ে এসেছে। যার সঙ্গে রেলমন্ত্রীও একমত হয়েছেন। এমন বাস্ততবতায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, বিনা টিকিটের সেসব যাত্রী টিটিইকে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় কেন দিয়েছিলেন? তাদের সত্যিকার পরিচয় রেল কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছিলেন কিনা? অধিকন্তু যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অ’ভিযোগ বিষয়ে টিটিই’র বি’রু’দ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রেলমন্ত্রীর পরিচয় কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল? এসব বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

Shares
facebook sharing button Sharemessenger sharing button Sharewhatsapp sharing button Sharetwitter sharing button Tweetlinkedin sharing button Shareprint sharing button Print

Back to top button