জাতীয়

‘হ’ত্যা মা’ম’লার আ’সা’মি’ উপজে’লা আ.লীগ সভাপতি!

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজে’লা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম শাহাব উদ্দিন ফরাজীকে ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর নৃ’শং’সভাবে হ’ত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হ’ত্যা মা’ম’লায় আ’সা’মি হয়ে কারাভোগ করেন উপজে’লা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্ম’দ শহীদুল্লাহ।

এছাড়া বিগত নির্বাচনসহ টানা দুবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নৌকার বি’রু’দ্ধে ভোট করেছেন শহীদুল্লাহ। এরপরও তার বি’রু’দ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে উপজে’লা আওয়ামী লীগের ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি করে পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে অ’ভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অ’পরদিকে নি’হ’তের পরিবারের সদস্যদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজে’লা আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম শাহাব উদ্দিন ফরাজী পেকুয়া উপজে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এখনো সেই একই কমিটি বহাল আছে। ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে হ’ত্যাকা’ণ্ডের শিকার হন তিনি।চাঞ্চল্যকর এ হ’ত্যার ঘটনায় মা’ম’লা হয়। ত’দ’ন্তে উপজে’লা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মাস্টার নুরুল হকের ছে’লে মোহাম্ম’দ শহীদুল্লাহর হ’ত্যাকা’ণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা বেরিয়ে আসে।

পু’লিশ ওই বছরই শহীদুল্লাহকে গ্রে’প্তা’র করে জে’লহাজতে পাঠায়। জে’ল থেকে বেরিয়ে ২০১৬ সালে টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গেল ইউপি নিবাচনেও তিনি নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ঘোড়া মা’র্কা নিয়ে ১৪৫ ভোট পেয়েছেন। সম্প্রতি শহীদুল্লাহ উপজে’লা আওয়ামী লীগের ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হ’ত্যার শিকার শাহাব উদ্দিন ফরাজীর পরিবারকে ডেকে নিয়ে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি জড়িতদের বি’রু’দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু জে’লা আওয়ামী লীগের নেতারা হাঁটলেন ঠিক তার উল্টো পথে!

শাহাব উদ্দিন ফরাজীর ছে’লে পেকুয়া উপজে’লা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান ফরাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমা’র বাবার নৃ’শং’স হ’ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনা সারা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সবকিছু জানার পরও জে’লার আওয়ামী লীগের নেতারা আ’সা’মি মোহাম্ম’দ শহীদুল্লাহকে ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে আমা’র বাবার ৪০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসকে ক’ল’ঙ্কিত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, জে’লা-উপজে’লার যেসব নেতা শহীদুল্লাহকে ফরাজীর খু’নি বলে সম্বোধন করে সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিতেন; তারাই এখন তাকে সঙ্গে নিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন।শাহাব উদ্দিন ফরাজীর স্ত্রী’ জেবুরুন্নেছা বলেন, আমা’র স্বামী পেকুয়া উপজে’লা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। এখনো সেই আগের কমিটিই বহাল আছে। সেই কমিটিতে স্বামীর হ’ত্যাকারীকে ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে বসিয়ে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং আমাদের চরম ঝুঁ’কির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ওই হ’ত্যাকারী এখন আমাদের মা’ম’লা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য হু’মকি দিচ্ছেন।

টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ই’স’লা’ম চৌধুরী জানান, যিনি সভাপতি ফরাজীকে হ’ত্যা করেছেন, সেই হ’ত্যাকারীকে আবার তার পদে বসিয়ে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অ’পমাণিত করার শামিল।

কক্সবাজার জে’লা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পেকুয়া উপজে’লা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমের সদস্য এসএম গিয়াস উদ্দিন বলেন, মোহাম্ম’দ শহীদুল্লাহ নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী এবং শাহাব উদ্দিন ফরাজী হ’ত্যার আ’সা’মি। হ’ত্যা মা’ম’লার আ’সা’মি পেকুয়া উপজে’লা আওয়ামী লীগের ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে বাদীর পরিবার হতাশায় পড়বে- এটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জে’লা আওয়ামী লীগের ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ই’স’লা’ম যুগান্তরকে বলেন, শহীদুল্লাহ্ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোয়ন নিলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এ কারণে তাকে পেকুয়া উপজে’লার ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে।তৎকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাব উদ্দিন ফরাজী হ’ত্যার আ’সা’মি হলেও তার বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদুল্লাহ হ’ত্যা মা’ম’লার আ’সা’মি হলেও অ’ভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। তাই নিয়ম অনুযায়ী তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নজরে আনা হলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক টিমের প্রধান হুইপ স্বপন আহমেদ এমপি যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে ত’দ’ন্ত করে দ্রুত যথাবিহিত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে মোহাম্ম’দ শহীদুল্লাহ বলেন, আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যই পু’লিশ আ’ট’ক করেছিল। এর বাইরে কিছু নয়।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আ’ট’ক করা হলে কারাগারে কেন পাঠানো হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমা’র বি’রু’দ্ধে ষড়যন্ত্র।

শহীদুল্লার দাবি- উপজে’লার নেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে পরবর্তীতে জে’লা আওয়ামী লীগের অনুমতিক্রমে তাকে পেকুয়া উপজে’লার ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে।পেকুয়া থা’নার ওসি মোহাম্ম’দ আলী জানান, পু’লিশ ঘটনার সম্পৃক্ততা পেয়েছিল বলে তাকে (শহীদুল্লাহ) আ’সা’মি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। শুধু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে আ’ট’ক করা হলে এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া না গেলে কারাগারে পাঠানোর প্রশ্নই আসে না।

Back to top button