জাতীয়

বাণিজ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান সিপিবির

তেল নিয়ে কারসাজি ও দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) শনিবার দেশব্যাপী বি’ক্ষো’ভ সমাবেশ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার পল্টন মোড়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক এ এন রাশেদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেকসভাপতি মুজাহিদুল ই’স’লা’ম সেলিম, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদজহির চন্দন, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা ও লাকী আক্তার।

সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, দেশ এবং সরকার আজ লুটেরা ব্যবসায়ীদের হাতে ব’ন্দি। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা দেশ চালাচ্ছে।

বর্তমান সরকার এদের রক্ষক, পাহারাদার। তাই তো ঈদের সময় মানুষকে জি’ম্মি করে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়াল। এই সরকার সিন্ডিকেট মজুতদারদের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদেরই পুরস্কৃত করল। এই সরকারই এসব কারসাজির মূল হোতা। তিনি ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি সৃষ্টিকারীদের বি’রু’দ্ধে শা’স্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ওসরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি অবিলম্বে তেলের দাম কমানো ও বিশ্বপরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ ও দু’র্নী’তিমুক্তভাবে তেলসহ নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার দাবি জানান।

তিনি বলেন, দেন দরবার করে লুটেরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিছু পাওয়া যাবে না। বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। সারা দেশে রেশন ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করতে হবে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে দেশে তেলসহ নিত্যপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে ও তেলসহ মজুত পণ্যের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অযোগ্য মন্ত্রী আমলা আর কমিশন ভোগীদের বি’রু’দ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকার আজ ডবল ব্যর্থ। সাধারণ জনগণের আয় বাড়াতে পারেনি অথচ বেশি দামে নিত্যপণ্য কিনতে বাধ্য করে লুটেরা ব্যবসায়ীদের পকেট ভা’রি করছে। সাধারণ মানুষকে আজ প্রয়োজনের তুলনায় কম খেয়ে বাঁ’চার চেষ্টা করতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ যখন দিশেহারা তখন সরকারের মন্ত্রী বলছেন, ‘মূল্য বৃদ্ধির প্রশ্নে সরকারের কিছুই করার নেই। ’ আম’রা এই সমাবেশ থেকে বলি, ‘এই সরকারের আর দরকার নেই। সাধারণ মানুষের পকেট কা’টার সরকার আর না। দাম কমানোর উদ্যোগ না নিলে বামপন্থী অন্যান্য দলকে সাথে নিয়ে হরতাল অবরোধের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মুজাহিদুল ই’স’লা’ম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সরকার হলে দাম বাড়ানোর আগে সাধারণ মানুষের মতামত নিত। এটা না করে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার প্রথম দিনই ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এতে প্রমাণিত হয় এই সরকার জনগণের না। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সরকার।

তিনি বলেন, মুক্তিযু’দ্ধের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজ। কিন্তু সরকার সে পথ থেকে সরে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করছে। এই লুটেরা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে। লুটের টাকা তোলার জন্য জনগণের পকেট কা’টা হচ্ছে। তিনি আ’ন্দোলনে জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান।মিহির ঘোষ বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের বি’রু’দ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আম’রা এক দুঃশাসন পাল্টিয়ে আরেক দুঃশাসন আনতে চাই না। আম’রা চাই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে।

অধ্যাপক এ এন রাশেদা বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযু’দ্ধ একা করেনি। মুক্তযু’দ্ধ ছিল জনগণের যু’দ্ধ। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।সমাবেশ শেষে একটি বি’ক্ষো’ভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পার্টি কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এসব দাবিতে সিপিবির আহ্বানে দেশের বিভিন্ন জে’লা উপজে’লায় সমাবেশ বি’ক্ষো’ভ অনুষ্ঠিত হয়।

Back to top button