জাতীয়

লঞ্চে বাড়তি যাত্রীর সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

ঈদ উৎসব শেষ, ছুটিও শেষ। এখন কর্মস্থলে ফেরার তাড়া। অনেক মানুষ গ্রামে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে কর্মস্থলে ফিরছেন এখনো। তাই পটুয়াখালীর নৌপথনির্ভর রাঙ্গাবালী উপজে’লার লঞ্চঘাটে ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।এ সুযোগে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ একদিকে করছে অ’তিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ, অন্যদিকে নিচ্ছে বাড়তি ভাড়া।যাত্রীদের অ’ভিযোগ, ঈদ পুঁজি করে অ’তিরিক্ত যাত্রী পরিবহণে তাদের লঞ্চযাত্রা ঝুঁ’কিপূর্ণ হচ্ছে। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছেন, কোনো অ’তিরিক্ত যাত্রী কিংবা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন না তারা।

সরেজমিন উপজে’লার প্রধান লঞ্চঘাট ‘কোড়ালিয়ায়’ গিয়ে দেখা গেছে, কার আগে কে লঞ্চে উঠবে- ঘাটে চলছে সেই প্রতিযোগিতা। আগেভাগে লঞ্চে উঠে একটু জায়গা পাওয়ার আশায় এ তড়িঘড়ি যাত্রীদের। কিন্তু রাঙ্গাবালী-ঢাকাগামী লঞ্চে এতই যাত্রী পরিবহণ করা হয় যে তিলধারণের জায়গা নেই।

যাত্রীদের অ’ভিযোগ, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে। আবার ভাড়াও নিচ্ছে বাড়তি। আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছেন তারা।যাত্রীদের এমন অ’ভিযোগের সত্যতা চোখে পড়ে রোববার বিকালে ওই ঘাটে গিয়ে। যাত্রীর চাপ বেশি থাকলেও লঞ্চ বাড়ানো হয়নি।

ঘাটে গিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো যাত্রী পরিবহণের জন্য ওই দিন জাহিদ-৮ ও পূবালী-৬ নামক দুইটি লঞ্চ ছিল। তবে সবগুলোরই কেবিন ২-৩ দিন আগেই বুকিং হয়ে গেছে। এত যাত্রী পরিবহণ হয়েছে যে ডেকেও কোনো জায়গা নেই।ঢাকাগামী লঞ্চের যাত্রী মাহাদী হাসান মিরাজী বলেন, কেবিন পেতে হলে দালাল ধরতে হয়। তাও সোনার হরিণ পাওয়ার মতো অবস্থা। এই দালাল নির্মূল করার দাবি জানাচ্ছি।

ঘাটে লঞ্চের অ’পেক্ষায় থাকা ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্ম’রত মনির হোসেন বলেন, ভাই আজকে প্রচুর লোক ঘাটে। অথচ লঞ্চ দুইটা। এখন জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে লঞ্চে যেতে হবে। অথচ কোন সুযোগ সুবিধাও নেই। ভাড়াও বেশি।

জানা গেছে, রাঙ্গাবালী-ঢাকা নৌরুটের লঞ্চে আগে ডাবল কেবিন ছিল ২ হাজার ২শ থেকে আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু ঈদকে পুঁজি করে এখন ৪ হাজার টাকা। সিঙ্গেল কেবিন ছিল ১ হাজার ২শ থেকে ১ হাজার ৪শ, এখন ২ হাজার টাকা। আর ডেকের ভাড়া ছিল ৩৫০-৪৫০ টাকা। এখন সেই ডেকের ভাড়া ৫০০ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা। প্রায় দিগুণ ভাড়া নিলেও যাত্রীসেবা নেই। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বি’রু’দ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের অ’ভিযোগও রয়েছে যাত্রীদের।

এদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন তারা। কিন্তু যাত্রীরা বলছেন- আগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যদি কম নিত, তাহলে এখন বেশি নেয় কেন?

লঞ্চযাত্রীরা জানান, এ অঞ্চলের মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম লঞ্চ। রাঙ্গাবালীর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌপথ নির্ভর সেখানকার মানুষ। সারা বছরই তারা লঞ্চ নির্ভর। ক’রো’নাভাই’রাস মহামা’রির পর এবার ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়ি এসেছে। আবার ছুটি শেষে গন্তব্যে ফিরছে। এ সুযোগে ভাড়া বাড়িয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ থাকলেও তারা নিরুপায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার বিকালে রাঙ্গাবালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি লঞ্চ ছেড়ে যাবে।এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কোড়ালিয়া-বোয়ালিয়া ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মুহাম্ম’দ আব্দুস সালাম ভূঁইয়া (আশিক) বলেন, অ’তিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ করলে দায়ভা’র লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। যাত্রীসেবার জন্য লঞ্চ বাড়াতে আমি কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম। তবে বাড়তি ভাড়া নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

Back to top button