জাতীয়

হাসপাতাল থেকে আ’সা’মিদের টেনেহিঁচড়ে হাজতে নিয়ে যাওয়ায় ৪ এসআই বহিষ্কার

এবার জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আ’সা’মিদের টেনেহিঁচড়ে হাজতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অ’ভিযু’ক্ত চার পু’লিশ উপ-পরিদর্শককে সাময়িক বহিষ্কার ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা ত’দ’ন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট ত’দ’ন্ত কমিটি গঠন করে আগামী তিন দিনের মধ্যে ত’দ’ন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বহিষ্কৃত পু’লিশ সদস্যরা হলেন, পু’লিশ উপ-পরিদর্শক আলতাফ হোসেন (এসআই), সাইফুল ই’স’লা’ম (এসআই), ওয়াজেদ আলী (এসআই) ও মুনতাজ (এসআই)। এছাড়াও মোজাম্মেল হক (কনস্টেবল) ও সাথী আক্তারকে (না’রী কনস্টেবল) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ বুধবার ১১ মে সকালে অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাকির হোসেন সুমন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এমন অমানবিক ঘটনায় পু’লিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। উক্ত ঘটনার সঙ্গে জ’ড়ি’ত চার পু’লিশ কর্মক’র্তাকে সাময়িক বহিষ্কার এবং দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের ত’দ’ন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে ত’দ’ন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ত’দ’ন্তে যাদের নাম আসবে তাদের বি’রু’দ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ১০ মে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হা’ম’লায় আ’হত ও ক্ষতিগ্রস্ত ভিক্ষুক পরিবারকে উল্টো মা’ম’লায় জড়ানোর অ’ভিযোগ ওঠে প্র’তি’প’ক্ষের বি’রু’দ্ধে। গুরুতর আ’হতরা চিকিৎসাধীন থাকলেও তাদের আ’সা’মি করায় পু’লিশ তাদের পি’টি’য়ে ও টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে হাজতে পাঠায়। পু’লিশের এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

জানা যায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভা’র বাউসি বাজার এলাকার মৃ’ত মহির উদ্দিনের ছে’লে ভিক্ষুক আব্দুল জলিল (৬৪) ২০ শতক জমিতে বসতভিটা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। প্র’তি’প’ক্ষ মুজিবুর রহমান সম্প্রতি ওই জমি তাদের দাবি করায় দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে মা’ম’লা হলে আ’দা’লত আব্দুল জলিলের পক্ষে ডিক্রি দেন। আ’দা’লতের আদেশ অমান্য করে সোমবার সকালে প্র’তি’প’ক্ষ মুজিবুর রহমান দলবল নিয়ে আব্দুল জলিলের পরিবারের ওপর হা’ম’লা চালান। এ সময় রাম’দা, লোহার রড় ও লা’ঠির আ’ঘাতে আব্দুল জলিলসহ পরিবারের সবাই আ’হত হন।

এরপর গুরুতর আ’হত আব্দুল জলিল (৬৪), তার স্ত্রী’ লাইলী বেগম (৫০), বড় ছে’লে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), মেজো ছে’লে ওয়ায়েজ করোনি (২৫), ছোট ছে’লে হাম’দাদুল হককে (১৬) উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবারের অন্য সদস্য জসিম মিয়াকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়।এ ঘটনার পর মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে চিকিৎসাধীন ৪ জনসহ ১৫ জনকে আ’সা’মি করে থা’নায় মা’ম’লা করেন। মা’ম’লার পর মঙ্গলবার দুপুরে পু’লিশ হাসপাতা’লে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এজাহারভুক্ত ৪ আ’সা’মিকে আ’ট’ক করে। হাসপাতা’লের বিছানা থেকে পু’লিশ তাদের ‘চ্যাং দোলা’ করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাখানেক তাদের হাজতে রাখার পর বিকেলে আ’দা’লতে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে আব্দুল জলিলের জামাতা চান মিয়া, মে’য়ে জুলেখা বেগম ও ভাতিজা রানা মিয়া বলেন, তারা মা’ম’লা করতে গেলেও পু’লিশ তাদের মা’ম’লা নেয়নি। উল্টো আব্দুল জলিলকে থা’নায় আ’ট’কে রাখা হয়। পরে তার শা’রীরিক অবস্থা অবনতি হলে হাসপাতা’লে ভর্তি হন। রাতে উল্টো অ’ভিযু’ক্তরা মা’ম’লা করে।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক বলেন, মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার রাতে আব্দুল জলিলসহ অন্যদের আ’সা’মি করে মা’ম’লা দায়ের করেছেন। এরপর হাসপাতা’লে অ’ভিযান চালিয়ে আ’সা’মিদের আ’ট’ক করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে আ’ট’কের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ায় তাদের আ’ট’ক করা হয়েছে। না হলে পু’লিশ পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হতো।এ বিষয়ে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মক’র্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, আ’হতদের চিকিৎসা চলাকালীনই পু’লিশ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। চিকিৎসাধীন আ’সা’মিদের যেভাবে আ’ট’ক করা হয়েছে তা অমানবিক।

 

Back to top button