জাতীয়

প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা থাকলেও নিজের কাজে সন্তুষ্ট নন মেয়র

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দুই বছরে করা কাজ নিয়ে নিজেই সন্তুষ্ট নন বলে জানালেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ই’স’লা’ম। তবে বাকি তিন বছরে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

আতিকুল ই’স’লা’ম নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৮টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মোদ্দা কথা সুস্থ, সচল, আধুনিক ঢাকা গড়া। এর কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন মেয়র? মেয়র বলেছেন, খাল উ’দ্ধা’র আর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার জন্য ল’ড়ে গেছেন পুরো সময়। দায়িত্ব পেয়েছেন ক’রো’না মহামা’রির মধ্যে। তাতে কাজে কিছু সমস্যাও হয়েছে।

মেয়র আতিকুল ই’স’লা’ম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আম’রা খাল ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে উচ্ছেদ অ’ভিযান পরিচালনা করেছি। কিছু খাল উ’দ্ধা’রে সফলতা পেয়েছি, যা বাকি খাল উ’দ্ধা’রে সহায়ক হবে। সামনের সময় কোনো দখলদারকে দখলদারি ধরে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না। ’

ঢাকার মিরপুরের বাউনিয়া খালের উল্লেখযোগ্য অংশ দখলমুক্ত হয়েছে। মোহাম্ম’দপুরের বসিলা অংশে রামচন্দ্রপুর খালের অ’বৈ’ধ দখলও উচ্ছেদ করা হয়েছে। খালে এখন নৌকা চলাচল করতে পারে। তবে উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে খাল আছে ১৩টি।

মেয়রের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির বাস্তবায়ন উল্লেখ করার মতো নয়। দীর্ঘ প্রতিশ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলা হয়। কিন্তু অগ্রগতি আর হয় না।

মেয়র জানালেন, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত পরিকল্পনা—ঢাকা বাস রুট রেশনালাইজেশনের কাজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সবাইকে নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুযায়ী আট স্থানে এস্কেলেটরসহ নতুন ফুটওভা’র ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি কাজগুলো চলমান আছে।

নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে আইভিএম পদ্ধতিতে বছরব্যাপী মশা নিধন কার্যক্রম চালানো হবে। বস্তিবাসীর জন্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বর্ধিত ১৮ ওয়ার্ডে না’রীবান্ধব সমন্বিত প্রজনন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এলাকাভিত্তিক উন্মুক্ত পার্ক ও আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। আধুনিক পশু জবাই কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। সিটি করপোরেশন থেকে জানানো হয়েছে, উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ৩৪টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। গাবতলী সিটি পল্লীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য চারটি ১৫ তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে ৭৮৪টি পরিবারের থাকার ব্যবস্থা হবে। মোহাম্ম’দপুর কাঁচাবাজারের একটি জবাইখানা সংস্কারের কাজ চলছে। পার্ক-খেলার মাঠের কাজ চলমান আছে।

ইশতেহারের দ্বিতীয় অংশে সচল ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল—ফুটপাত দখলমুক্ত করে এলাকাভিত্তিক পথচারীবান্ধব ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য ফুটপাত নেটওয়ার্ক তৈরি করা। জেব্রা ক্রসিংয়ে পুশ বাটন স্থাপন করা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য গণস্থাপনা এবং গণপরিবহন নিশ্চিত করা। ব্যস্ততম এলাকায় বহুতল ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা। হকার পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

এর মধ্যে রাজধানীর চার জেব্রা ক্রসিংয়ে পুশ বাটন চালু করা হয়েছে। পথচারীরা এই বাটন টিপলে লাল বাতি জ্বলবে এবং তারা নির্বিঘ্নে রাস্তা পার হবে। কিন্তু এই চারটি বাটনই কোনো কাজে আসেনি। কারণ শহরের ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাই চলছে হাতের ইশারায়। সেখানে এই লাল বাতিকে কেউ আর তোয়াক্কা করছে না। ফলে এটিকে এখন একটি অবাস্তব প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিছু এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়নি। তবে মেয়র বলেছেন, কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন। কিছু কাজ তহবিল পেলে শুরু হবে।

ইশতেহারের তৃতীয় অংশে আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল—ঢাকা অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের অ’ভিযোগ শুনে ব্যবস্থা নেওয়া। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ঢাকা অ্যাপের মাধ্যমে জানুয়ারি, ২০২১ থেকে ১০ মে, ২০২২ পর্যন্ত ৯৮ হাজার ৫৯৯টি অ’ভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে সমাধান করা হয়েছে ৯৪ হাজার ৩১৪টি।

অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম-মৃ’ত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল মেয়রের। এগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সীমিত পরিসরে সেবাও নিচ্ছে কিছু মানুষ। তবে এগুলো নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চলছে।তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, কমিউনিটি সেন্টারগুলো আধুনিকায়ন করে বহু’মুখী ব্যবহার (আর্ট ক্লাস, গানের ক্লাস, ইয়োগা, আত্ম’রক্ষার প্রশিক্ষণ) নিশ্চিত করা যায়নি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ই’স’লা’ম বলেন, ‘দুই বছরে ইশতেহারের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তার পরও যতটুকু করেছি তাতে আমি নিজেও খুব একটা সন্তুষ্ট নই। ক’রো’নায় একটা সময় নষ্ট হয়েছে। তবে আগামী তিন বছরে বাকি কাজগুলো করতে হবে। ’

২০২০ সালের ১৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর সিটির দায়িত্ব নেন আতিকুল ই’স’লা’ম। এর আগেও মেয়র আনিসুল হক মা’রা যাওয়ায় ৯ মাস তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Back to top button