জাতীয়

আগের দামে তেল পেতে অ’ভিযানের অ’পেক্ষায় ক্রেতারা!

বরিশালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অ’ভিযানের অ’পেক্ষায় থাকেন ক্রেতারা। বিশেষ করে দ্ররিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আ’দা’লতের অ’ভিযান দেখতে পেলেই জানতে চাচ্ছেন- এটা ভোক্তা অধিকারের অ’ভিযান কি না।

আর যারা নিশ্চিত হতে পারছেন তারা ‘ন্যায্য মূল্যে’ সয়াবিন কেনার জন্য সেই বাজারে দীর্ঘক্ষণ অ’পেক্ষা করছেন।
বরিশাল শহরতলীর তালতলী বাজারে আবু বকর নামে এমনই একজন ক্রেতা বলেন, পত্র-পত্রিকা খুললেই দেখা যায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অ’ভিযানে বরিশালের বিভিন্ন বাজার থেকে আগে মজুদ করা সয়াবিন তেল উ’দ্ধা’র করে, তা আগের নির্ধারিত মূল্যেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। তাই আজ আমাদের এ বাজারে অ’ভিযান পরিচালনার দৃশ্য দেখে দাঁড়িয়ে আছি। তবে শুধু আমি নই, এভাবে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন যদি আগের দামে সয়াবিন কিনতে পারেন সেজন্য।

অ’ভিযান শেষে ১৬৫ টাকায় এক লিটার সয়াবিন কিনতে পেরে বেশ খুশি হয়েই আনোয়ার হোসেন নামে অ’পর ক্রেতা বলেন, দোকানদার বেশি লাভ করার জন্য আগের সয়াবিন তেল মজুদ করছিলো। কিন্তু লাভ হইলো না, ভোক্তার অ’ভিযানে পুরনো সেই সয়াবিন তেল আগের দামেই বিক্রি করলো। মাঝখানে আম’রা বাড়তি বাজারে একটু কম দামে সয়াবিন কিনতে পারলাম।

আবুল কাশেম নামে অ’পর ক্রেতা বলেন, গতকাইলও হুনছি বাজারে তেল নাই। আর আইজ ভোক্তার অ’ভিযানে তেল তো বাইর হইলোই, প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে নাহে চুন-কালি দিয়া পূর্বের মূল্যের তেলগুলা উ’দ্ধা’র করে পূর্বের দামেই বেচাইয়া দিলো। আর ভোক্তার অ’ভিযানের কথা হুইনা মুইও বাজারে গোনে বাইর-ই হইনাই। বিকাশে থাহা ঢাহা উঠাইয়া লাইনে খাড়াইয়া, দুই লিটার সয়াবিন কেনলাম মাত্র ৩২৮ টাহায়। হেতে লিটার ১৬৪ টাকা পরলো কিন্তু এহনকার তেলের দাম তো আরো বেশি। খাড়াইয়া থাইক্যা কিছু টাহা তো বাঁচলো।

বরিশাল জে’লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শাহ শোয়াইব মিয়া জানান, তালতলী বাজারে আজকের পরিচালিত অ’ভিযানে আগের মূল্যের ২৫০ লিটার বোতলজাত সয়াবিন উ’দ্ধা’র করা হয়। যা স্থানীয় জনগণের মাঝে ২ লিটারের প্রতি বোতল খুচরামূল্য ৩২৮ টাকা দামে এবং ১ লিটার প্রতি বোতল ১৬৫ টাকা দামে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়া প্রতিশ্রুত পণ্য যথাযথভাবে বিক্রয় না করা এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জ’রিমানা করা হয়।
অ’পরদিকে বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র ও সাফিয়া সুলতানা জানান, শুধু বরিশালের শহরতলীতেই নয়, আজ গৌরনদীর টরকি বন্দরেও অ’ভিযান চালানো হয়। সেখানে অ’ভিযানে সরকার নির্ধারিত মূল্য অ’পেক্ষা অ’তিরিক্ত দামে সয়াবিন তেল বিক্রয় করা এবং মূল্য তালিকা না থাকায় ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ টাকা জ’রিমানা করা হয়। পাশাপাশি টরকি বন্দর থেকে ৩৩ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল উ’দ্ধা’র করা হয় এবং পূর্বের মূল্যে ক্রয়কৃত ৩ হাজার ২৫০ লিটার তেল ১৩৬ টাকা দামে স্থানীয় জনগণের মাঝে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্ম’দ সেলিম জানান, জনস্বার্থে বাজার তদারকিমূলক এ অ’ভিযান অব্যাহত থাকবে।

Back to top button