জাতীয়

পিকে হালদারকে ৩ দিনের রি’মা’ন্ডে নেওয়ার আবেদন

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ জালিয়াত প্রশান্ত কুমা’র হালদার ওরফে পিকে হালদারকে তিন দিনের রি’মা’ন্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার একটি আ’দা’লতে তাকে রি’মা’ন্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানানো হয়।এর আগে আজই (শনিবার) পিকে হালদারসহ মোট ৬ জনকে গ্রে’প্তা’র করে ভা’রত সরকারের ত’দ’ন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

ভা’রতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পিকে হালদার নাম পাল্টে ভা’রতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গে অশোকনগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।শনিবার পিকে হালদারসহ মোট ৬ জনকে গ্রে’প্তা’র করা হয়েছে।

তার আগের দিন (শুক্রবার) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত সাত থেকে আটটি জায়গায় তল্লা’শি চালিয়েছেন ইডির গোয়েন্দারা। ভা’রতে পিকে হালদারের সম্পদের খোঁজে অ’ভিযানের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়। সীমান্ত লাগোয়া অশোকনগর, দম’দম, বাইপাস লাগোয়া একাধিক জোনে চলে তল্লা’শি।

ভা’রতে পিকে হালদারের পাচার করা টাকায় গড়া বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল বাড়ি ও কয়েকশ বিঘা মূল্যবান সম্পত্তি।ইডির গোয়েন্দারা প্রাসাদ বাড়ি ও কয়েকশ বিঘা মূল্যবান জমির হদিস পেয়েছেন। একইসঙ্গে তল্লা’শিতে কলকাতা ও এর আশপাশের বিভিন্ন জে’লায় বেআইনি আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বার্তা পেয়েই তল্লা’শিতে সক্রিয় হয়েছে ভা’রতীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বাংলাদেশ থেকে পলাতক প্রশান্ত কুমা’র হালদার ওরফে পিকে হালদারের পাঠানো বেআইনি অর্থ সুকুমা’র মৃধা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে সম্পত্তি কিনতে ব্যয় করা হয়েছিল। মূলত পিকে হালদারের খবর জানতে গিয়েই এদিন অশোকনগরে সুকুমা’র নামের ওই মাছ ব্যবসায়ীর বিপুল সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি।

বাংলাদেশের পিকেকা’ণ্ডে যু’ক্ত অ’প’রা’ধীদের নাগাল পেতে ভোরে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার বহু এলাকায় তল্লা’শি চালিয়ে কয়েকজনকে আ’ট’ক করা হয়েছে।সীমান্তের কাছে অশোকনগর, দম’দম, বাইপাসের কাছে একাধিক জোনে চলে এই তল্লা’শি। এর মধ্যে শুধু অশোকনগরেই বাংলাদেশ থেকে হাওলার মাধ্যমে আসা টাকায় তৈরি তিনটি বাড়িতে তল্লা’শি চালান গোয়েন্দারা। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে তল্লা’শি চালান ইডি কর্মক’র্তারা। এদিন উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে তিনটি জায়গায় একসঙ্গে অ’ভিযান চালান তারা।

পু’লিশ সূত্রে জানা গেছে, অশোকনগরের মাছ ব্যবসায়ী সুকুমা’র মৃধা মূলত বাংলাদেশে থাকেন। পিকে হালদার মা’রফত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অ’ভিযোগ রয়েছে তার বি’রু’দ্ধে। সাতটি ভু’য়া সংস্থার নামে টাকা তোলা হতো। ব্যাংক থেকে ৩০০ কোটি টাকা বেআইনি লেনদেন হয়।

পিকে হালদার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তার বি’রু’দ্ধে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা লোপাটের অ’ভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। পিকে হালদার সিন্ডিকে’টের বি’রু’দ্ধে অদ্যাবধি ৩৪টি মা’ম’লা করা হয়েছে। অ’ভিযোগ উঠার পরই দেশ থেকে পালিয়ে যান পিকে হালদার।

জানা গেছে, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুসহ সিন্ডিকে’টের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পিকে হালদার দেশ থেকে সট’কে পড়েন। এ অর্থের বড় একটি অংশ কানাডা, ভা’রত ও সিঙ্গাপুর পাচার করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সিন্ডিকেট।

সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।

1
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing button

Back to top button