জাতীয়

সিটি নির্বাচন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ

বাংলাদেশে স’হিং’সতার ভয়ের মধ্যে ২০২১ সালের গ্রামীণ কাউন্সিল নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি ভোট বর্জন করেছে, তাদের মতে একটি তির্যক রাজনৈতিক পরিবেশ এ নির্বাচনে সুষ্ঠু অংশগ্রহণে বাধা। বিগত দুটি জাতীয় নির্বাচনে অসদাচরণের ব্যাপক অ’ভিযোগ আনা হয়েছে এবং রাজনৈতিক স’হিং’সতা বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রামীণ পরিষদের অ’তীত ভোট’কে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ঢাকাভিত্তিক অধিকার গোষ্ঠী আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতে, জানুয়ারি থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত স’হিং’সতায় ৮৫ জন নি’হ’ত এবং ৬০০০ জনের বেশি আ’হত হয়েছেন। ১০.৫ মিলিয়নেরও বেশি যোগ্য ভোটার ৮৩৫ টি কাউন্সিলে প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন কিছু জায়গায় অনিয়ম বা স’হিং’সতার কারণে কার্যক্রম স্থগিত করার পরে। মোট ৪৫৭১টি কাউন্সিল, যা ইউনিয়ন পরিষদ নামে পরিচিত এবং স্থানীয়ভাবে কমিউনিটি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক পরিষেবার জন্য দায়ী, পর্যায়ক্রমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৃহস্পতিবারের নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের জন্য ২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে তাদের অবস্থান সুসংহত করার একটি সুযোগ বলে আল-জাজিরা ১১ নভেম্বর ২০২১ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টিতে বার্থ হলে এর প্রভাব পড়বে ২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে। দেশ বিদেশে এ নির্বাচনকে ঘিরে ও রয়েছে অনেক উৎসাহ ও উদ্বেগ। স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রতিফলিত হয়েছে আওয়ামী লীগের এ নির্বাচনকে গুরুত্ব দেয়ার মনোভাব। গত ১৩ মে বাসস জানায়, আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কুমিল্লা মহানগর সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। তিনি আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ল’ড়বেন। গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে কুসিক ছাড়াও ৩টি উপজে’লা পরিষদ, ৬টি পৌরসভা এবং অষ্টম ধাপের ১৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৭ মে, যাচাই-বাছাই ১৯ মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ মে। আগামী ১৫ জুন এ সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন লাভ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভিড় জমান দলীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় প্রার্থী রিফাতের পক্ষে নৌকার স্লোগান দিয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করেন উৎসাহী নেতাকর্মীরা। কুমিল্লায় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নৌকা প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্বান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর, মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জহিরুল কা’মাল, উপজে’লা চেয়ারম্যান আমিনুল ই’স’লা’ম টুটুল, সদর উপজে’লা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নিয়াজ পাভেল, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর আল আমিন সাদী, কৃষকলীগের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সোহেল হায়দার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ই’স’লা’ম রিন্টুসহ বিভিন্ন পর্যারের নেতারা। (সূত্র: কুমিল্লার কাগজ)

এদিকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই কুমিল্লাবাসীর মধ্যে যে চাপা উ’ত্তে’জ’না ছিল এর পরিসমাপ্তি ঘটল আরফানুল হক রিফাতকে নৌকা প্রতীক দেওয়ার মধ্য দিয়ে। উল্লেখ্য, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কুমিল্লার ১৪ জন নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দেন।

স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি নেতা ও বর্তমান মেয়র মো. মনিরুল হক (সাক্কু), বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোহাম্ম’দ নিজাম উদ্দিন (কায়সার) ও ই’স’লা’মী শাসনতন্ত্র আ’ন্দোলনের মো. রাশেদুল ই’স’লা’ম। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১১৮ জন এবং কাউন্সিলর (সংরক্ষিত) পদে ২৫ জন মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আরফানুল হক রিফাত বলেন, নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী) আমা’র ওপর আস্থা রেখেছেন, আমাকে নৌকা উপহার দিয়েছেন; সেজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আগামী ১৫ জুনের নির্বাচনে নৌকাকে জয়ী করে আমি তার আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে পারব বলে আশা করছি।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসে। শেখ হাসিনা এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পর্যায়ক্রমে দেশ শাসন করেন। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার অ’প্রতিরোধ্য জয় ছিল সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন; যা অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে গৃহীত হয়েছিল এবং খালেদা জিয়ার দল নানা অ’ভিযোগ তুলে তখন থেকে বেশ কয়েকটি নির্বাচন বয়কট করে আসছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্তহীনতায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদের প্রস্তুতি ও কর্মকৌশল নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি।

Back to top button