জাতীয়

৩ দিনের রি’মা’ন্ডে পি কে হালদার

হাজার কোটি টাকা আর্থিক কেলেঙ্কারির অ’ভিযোগ নিয়ে বছর কয়েক ধরে পালিয়ে থাকা পি কে হালদার নামে পরিচিত প্রশান্ত কুমা’র হালদারের তিন দিনের রি’মা’ন্ড মঞ্জুর করেছেন আ’দা’লত।

দুদিনের অ’ভিযানে শনিবার (১৪ মে) প্রশান্ত কুমা’র (পি কে) হালদার ধ’রা পড়েন ভা’রতের গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ফাঁদে। এ সময় পি কে হালদারের স্ত্রী’ ও ভাই প্রা’ণেশ হালদারসহ ছয়জনকে গ্রে’প্তা’র করা হয়। রোববার (১৫ মে) বারাসাতের আ’দা’লতে তোলা হলে ত’দ’ন্তের স্বার্থে তাদের ১৭ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনা জে’লার অশোকনগরে সুকুমা’র মৃধার বিশাল বিলাসবহুল বাড়ির সন্ধান পায় ভা’রতের গোয়েন্দা সংস্থা। সুকুমা’র মৃধা পি কে হালদারের অর্থ দেখভাল করতেন। স্থানীয়রা মৃধাকে মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে জানতেন। পি কে হালদার ছিলেন সুকুমা’র মৃধার প্রতিবেশী। ভা’রতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, এ দুজনের যোগসাজশেই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অশোকনগরে একাধিক সম্পত্তির মালিক হয়েছেন হালদার-মৃধা জুটি। এর মধ্যে শুক্রবার (১৩ মে) তিনটি বাড়িতে তল্লা’শি চালানো হয়। যার একটিতে এতদিন একাই থাকতেন সুকুমা’র মৃধার জামাতা বাংলাদেশি নাগরিক সঞ্জীব হালদার। পি কের ভাই প্রীতিশ হালদারও থাকতেন সুকুমা’র মৃধার বাড়িতে। স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রা’ণেশ হালদার নামে পরিচিত ছিলেন।

পি কে হালদারের আরেক সহযোগী স্বপন মিত্রের বাড়িতেও অ’ভিযান চালায় গোয়েন্দা সংস্থা। তল্লা’শি চালিয়ে একাধিক নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল এক কর্মক’র্তা। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকেও আ’ট’ক করা হয়।গোয়ন্দা সংস্থাটি বলছে, শুধু অশোকনগর নয়, কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন এলাকা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জে’লার অ’ভিজাত এলাকায় পি কে হালদার চক্রের একাধিক বাড়ি ও অফিসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানেও তল্লা’শি চালিয়েছে ইডি।

পি কে হালদার কীভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, সেই র’হ’স্যের জট এখনো খোলেনি।২০১৯ সালের ২২ অক্টেবর রাত পর্যন্ত দেশেই ছিলেন প্রশান্ত কুমা’র হালদার। ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দু’র্নী’তি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি দেয় ইমিগ্রেশনকে। দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে আবারও তার বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে বলে দুদক।

দুদক এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ যখন চিঠি চালাচালি করছে তখনো সীমান্ত পাড়ি দেননি পি কে হালদার। আ’দা’লতে জমা দেওয়া ইমিগ্রেশন পু’লিশের তথ্য বলছে, দুদকের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে যশোরের বেলাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়েন পি কে হালদার।

বিষয়টি শুধুই কাকতালীয় ছিল, নাকি প্রশান্ত কুমা’রকে পালাতে কেউ সহায়তা করেছিলেন–এই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। যদিও ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং দুদক একে অ’পরের ওপর দায় চাপিয়ে আসছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দেশ ত্যাগের পর পি কে হালদারের অবস্থান নিয়ে একেক সংস্থা একেক রকম তথ্য দিয়ে আসছে। কখনো বলা হয়েছে তিনি কানাডায় আছেন, আবার কখনো শোনা গেছে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের কথা। একবার দেশে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করলেও নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন গ্রে’প্তা’র না করার। সেই আশ্বা’স না মেলায় টিকিট কে’টেও ফেরেননি প্রশান্ত কুমা’র।

 

Back to top button