জাতীয়

পিকে হালদারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি

বাংলাদেশ থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় প্রধান অ’ভিযু’ক্ত প্রশান্ত কুমা’র (পিকে) হালদারের গ্রে’প্তা’রের বিষয়ে ভা’রত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো তথ্য (ডকুমেন্ট) আসেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কা’মাল।

রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম।

পিকে হালদারের গ্রে’প্তা’রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আম’রা শুনেছি যে, পিকে হালদার গ্রে’প্তা’র হয়েছেন। তবে আমাদের কাছে এখনও তার বিষয়ে অফিসিয়াল কিছু জানানো হয়নি।

তাকে দেশে ফেরাতে আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা প্রশ্নে বলেন, আমাদের যে কাজ আম’রা আইনগত ব্যবস্থা নেব।পিকে হালদার বাংলাদেশে মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আম’রা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে অনেক দিন ধরেই ফেরত চাচ্ছি। সে গ্রে’প্তা’র হয়েছে।

শনিবার ভা’রতের অর্থসংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) উত্তর চব্বিশ পরগনা জে’লার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে পিকে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রে’প্তা’র করে। পরে তাকে আ’দা’লতে তোলে ইডি।এক বিবৃতিতে ইডি বলেছে, হাজার কোটি টাকা পাচারকারী পিকে হালদার নাম পাল্টে ভা’রতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে বসবাস করতেন। প্রদেশের উত্তর চব্বিশ পরগনা জে’লার অশোক নগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

শনিবার সেখান থেকে পিকে হালদারসহ মোট ছয়জনকে গ্রে’প্তা’র করেছে ভা’রতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে শুক্রবার দিনভর কলকাতা ও উত্তর চব্বিশ পরগনার অন্তত ৯টি স্থানে অ’ভিযান চালায় ইডি। সেই সময় উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পোলেরহাটে দুটি বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় পিকে হালদারের ব্যক্তিগত আইনজীবী সুকুমা’র মৃধার অ’বৈ’ধ সম্পত্তির খোঁজে অ’ভিযান শুরু করে ভা’রতের এই সংস্থা। কর্মক’র্তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এই তল্লা’শি অ’ভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে অনেক নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন।

তার আগের দিন (শুক্রবার) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত সাত থেকে আটটি জায়গায় তল্লা’শি চালিয়েছেন ইডির গোয়েন্দারা। ভা’রতে পিকে হালদারের সম্পদের খোঁজে অ’ভিযানের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়। সীমান্ত লাগোয়া অশোকনগর, দম’দম, বাইপাস লাগোয়া একাধিক জোনে চলে তল্লা’শি।

ভা’রতে পিকে হালদারের পাচার করা টাকায় গড়া বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল বাড়ি ও কয়েকশ বিঘা মূল্যবান সম্পত্তি।ইডির গোয়েন্দারা প্রাসাদ বাড়ি ও কয়েকশ বিঘা মূল্যবান জমির হদিস পেয়েছেন। একই সঙ্গে তল্লা’শিতে কলকাতা ও এর আশপাশের বিভিন্ন জে’লায় বেআইনি আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বার্তা পেয়েই তল্লা’শিতে সক্রিয় হয়েছে ভা’রতীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বাংলাদেশ থেকে পলাতক প্রশান্ত কুমা’র হালদার ওরফে পিকে হালদারের পাঠানো বেআইনি অর্থ সুকুমা’র মৃধা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে সম্পত্তি কিনতে ব্যয় করা হয়েছিল। মূলত পিকে হালদারের খবর জানতে গিয়েই এদিন অশোকনগরে সুকুমা’র নামের ওই মাছ ব্যবসায়ীর বিপুল সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি।

পিকে হালদার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তার বি’রু’দ্ধে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা লোপাটের অ’ভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। পিকে হালদার সিন্ডিকে’টের বি’রু’দ্ধে অদ্যাবধি ৩৪টি মা’ম’লা করা হয়েছে। অ’ভিযোগ ওঠার পরই দেশ থেকে পালিয়ে যান পিকে হালদার।

জানা গেছে, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুসহ সিন্ডিকে’টের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পিকে হালদার দেশ থেকে সট’কে পড়েন। এ অর্থের বড় একটি অংশ কানাডা, ভা’রত ও সিঙ্গাপুরে পাচার করেন।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সিন্ডিকেট।

সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।

Back to top button