জাতীয়

বাংলার রূপে মুগ্ধ জার্মান জামাই !

নেট দুনিয়ায় বাংলার আংশিক রূপ দেখে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ জাগে জার্মান নাগরিক ড. প্যাট্রিক মুলারের। বাস্তবে বাংলার রূপ দেখতে প্রথমবারের মত বাংলাদেশি শ্বশুরবাড়ি এসে বিমোহিত তিনি।জার্মান নাগরিক ড. প্যাট্রিক মুলার লালমনিরহাট শহরের স্টেডিয়াম পাড়া এলাকার আকতার হোসেনের মে’য়ে মৌসুমি আক্তার ইভা’র স্বামী।

জানা গেছে, জার্মান আর বাংলাদেশি দম্পতি প্যাট্রিক ইভা’র স’ম্প’র্ক প্রে’ম আর বিয়ের কাহিনী যেন সিনেমাকেও হার মানায়। ২০১৬ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য জার্মানে পাড়ি জমান লালমনিরহাটের মে’য়ে মৌসুমি আক্তার ইভা। লেখাপড়ার পাশাপাশি বার্লিন শহরের একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি নেন ইভা। সেই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে এসে ইভা’র সঙ্গে পরিচয় হয় অর্থনীতিতে পিএইচডি করা ড. প্যাট্রিক মুলারের। পরিচয় থেকে প্রে’মের স’ম্প’র্ক গড়ে ওঠে তাদের। একপর্যয়ে নিজেরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের আড়াই বছর পরে তাদের সংসারে আসে ইউহান নামে ছে’লে সন্তান।

বিয়ে এবং সন্তানের জন্ম হলেও দীর্ঘ সময় বাবা-মা বা পরিবারের আপনজনের কাছে আসতে পারেননি ইভা। ইচ্ছা শক্তি থাকলেও কর্মব্যস্ততায় দীর্ঘ সময়েও শ্বশুরবাড়ি আসতে পারেননি জার্মান নাগরিক বেসরকারি একটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তা ড. প্যাট্রিক মুলার।

অবশেষে বাংলার রূপ নয়ন ভরে দেখতে এবং বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন করতে গত ২৯ এপ্রিল ছুটে আসেন বাংলাদেশের লালমনিরহাটে শ্বশুরবাড়িতে। এদিকে প্রথমবারের মতো জামাই দেশে আসছেন এবং জার্মানি জামাই -এ খবরে ঘুম হারাম শ্বশুর আকতার ও শাশুড়ি মাকসুদা আক্তারের। বিদেশি জামাইকে কিভাবে বরন করবেন সেই চিন্তায় বিভোর তারা।

প্রথম’দিন বিদেশি জামাইয়ের জন্য চাইনিজ রান্না হলেও সে দিকে নজর নেই জামাই প্যাট্রিক মুলারের। তিনি বাঙালি খাবারে বেশ খুশি। নিজের ইচ্ছায় হাত দিয়ে বাঙালি খাবার গ্রহন করেন জামাই প্যাট্রিক। খাবারের স্বাদে বেশ খুশি। শুধু বাংলার রূপ আর খাবারে নয়, বাংলার মানুষের সরলতায় মুগ্ধ জার্মানি মুলার।গেল ১৫ দিনে শ্বশুরবাড়ির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ান ড. প্যাট্রিক মুলার। গ্রামের মানুষদের সঙ্গে অল্প সময়েও দারুন সখ্যতা গড়ে তোলেন। বিদেশি জামাইয়ের আচরণে মুগ্ধ লালমনিরহাটবাসী।

লালমনিরহাটের গ্রামীন পরিবেশের গ্রামীন মানুষদের সঙ্গে ধান কা’টা, ধান মাড়াই, পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধ’রা, গ্রামীন আঁকা-বাঁকা পথে বাইসাইকেল চালানো কোনটার মজা বাদ দেননি জার্মান জামাই প্যাট্রিক মুলার। স্ত্রী’ ইভাকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামীন দৃশ্যে বাংলা গানের শুটিং করতেও ভোলেননি। আনন্দের বাংলাদেশ ভ্রমণের স্মৃ’তি হিসেবে ধরে রাখতেই শুটিং করেন মুলার।

১৫ দিনের ভ্রমণ শেষে শুক্রবার (১৩ মে) বিকেলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বিদায় নেন ড. প্যাট্রিক মুলার। শ্বশুরবাড়ি থেকে বিদায় বেলার দৃশ্য ছিল আরও বেদনার। বাংলার মানুষের মায়া ত্যাগ করায় নিজে যেমন কেঁদেছেন, শ্বশুরবাড়ি ও এলাকার লোকজনকেও কাঁদিয়েছেন তিনি। মে’য়ে জামাই আর নাতিকে বিদায় দিতে কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন তার শ্বশুর-শাশুড়ি।

বিদেশি জামাইয়ের এত সুন্দর আচরণ হবে। গ্রামবাসীকে এত বিমোহিত করবে। সেটা ভাবতে পারেননি ইভা’র বাবা-মা। গ্রামবাসীও বিদেশি জামাইয়ের ব্যবহারে মুগ্ধ। এলাকা জুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন বিদেশি জামাই ড. প্যাট্রিক মুলার।জার্মান নাগরিক ড. প্যাট্রিক মুলার বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলার রূপ দেখে বাংলাদেশে ভ্রমণের আগ্রহ ছিল। বাংলাদেশি মে’য়ের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে প্রে’ম। প্রে’ম থেকে বিয়ে। বিয়ের পরে বাংলার রূপ স্ব-চোখে দেখার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। সেই স্বপ্ন পূরণে শ্বশুরবাড়ি আসা। নেট দুনিয়ায় দেখা রূপের চেয়েও চ’মৎকার বাংলার রূপ। সব মিলে আনন্দে কে’টেছে। মনে থাকবে বাংলাদেশ ভ্রমণ। আবারও আসিব ফিরে এই বাংলায়। তবে শুধু জামাই রূপে নয়, বাঙালি হতে। বাংলাদেশি স্ত্রী’ পেয়ে বেশ খুশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মৌসুমি আক্তার ইভা বলেন, পরিচয়-প্রে’ম-বিয়ে সব সিনেমা’র মত মনে হয়েছে। ড. প্যাট্রিক মুলার প্রে’মিক হিসেবে যেমন মজার। স্বামী হিসেবেও বেশ যত্নবান, সন্তানের বাবা হিসেবেও খুব দায়িত্বশীল মানুষ। বিদেশি বলে নয়, চ’মৎকার মানুষ হিসেবে তার প্রে’মে পড়েছিলাম। খ্রিস্টান ধ’র্মাবলম্বী হলেও যে যার ধ’র্ম পালন করছি। কোনো সমস্যা নেই, বেশ সুখেই আছি।

ইভা’র বাবা আকতার হোসেন বলেন, প্রথম দিকে চিন্তায় ছিলাম। বিদেশে কেমন ছে’লের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে? মে’য়ের সংসার কেমন হবে? এসব চিন্তা করতাম। কিছুদিন পরে ফোনে কথা বলে কিছুটা চিন্তামুক্ত ছিলাম। নাতির সঙ্গে ভিডিওতে কথা হতো কিন্তু কোলে নিতে পারতাম না। বাড়ি আসায় বাস্তবে জামাইয়ের সঙ্গে মিশে আম’রাও তার সরলতায় মুগ্ধ। মে’য়ে জামাই আর নাতির জন্য দোয়া চাই সবার কাছে।

Back to top button