জাতীয়

মনোনয়ন না পেয়ে দল থেকে আ’লীগ নেতার পদত্যাগ

দলের মনোনয়ন না পেয়ে সোনারগাঁ উপজে’লা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু।সোমবার (১৬ মে) দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় স্কাইলার্ক রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তবে পদত্যাগপত্রে স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

গত ১৩ মে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান জে’লা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনি। আরিফ মাসুদ বাবু এবারও চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরিফ মাসুদ বাবু বলেন, আমা’র বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ম’রহু’ম অ্যাডভোকেট সাজেদ আলী মিয়া সোনারগাঁ উপজে’লা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযু’দ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনে নৌকা মা’র্কা নিয়ে নির্বাচিত (এম.সি.এ) ছিলেন। আমা’র ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ম’রহু’ম মোবারক হোসেন নারায়ণগঞ্জ জে’লা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সোনারগাঁ উপজে’লা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য এবং ১৯৮৬ স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের দুঃশাসনের আমলেও বিপুল ভোটে নির্বাচিত সদস্য হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের দলের হাল ধরেন।

তিনি আরও বলেন, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সভাপতি হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ম’রহু’ম আরেক ভাই আবুল হাসনাত। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় সাবেক সংসদ সদস্য আরেক ভাই কায়সার হাসনাত মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন। সে সময় আ’ন্দোলন করতে গিয়ে পু’লিশি নি’র্যা’তনের স্বীকার হয়ে গ্রে’প্তা’র হন তিনি। পরবর্তীতে যার পুরস্কার হিসাবে শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে কায়সার হাসনাতের হাতে নৌকা তুলে দেন। ফলশ্রুতিতে সোনারগাঁয়ের তিনবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বিএনপির রেজাউল করিমকে ৮৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চ’মকে দেন এবং সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

মাসুদ বাবু বলেন, কিন্তু অ’ত্যন্ত দুঃখের বিষয় ২০১৪ সালে এসে জোটের কারণে কায়সার হাসনাতকে মনোনয়ন না দিয়ে জাতীয় পার্টিকে এ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। আম’রাও নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে জোট’কে স্বাগত জানালাম। পরবর্তীতে নেত্রী আমাদের মূল্যায়ন করে আমা’র আরেক ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ম’রহু’ম মোশারফ হোসেনকে উপজে’লা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দেন। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালনকালে গতবছর মা’রা যান। পরবর্তী উপ-নির্বাচনে আম’রা ভেবেছিলাম আমাদের পরিবারেই নৌকা প্রতীক দিবেন। কিন্তু সে সময় নৌকা আমাদের না দিয়ে একজন সিনিয়র নেতাকে দিলেন, আম’রা মেনে নিয়ে ওনাকে সম’র্থন দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়ে দিলাম। সর্বশেষ মোগরাপাড়া ইউনিয়ন, যা আমাদের ৭০ বছরের ইতিহাস। এ ইউনিয়ন আওয়ামী রাজনীতির পুন্যভূমি, যার ধারক-বাহক হলো আমাদের পরিবার। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ১০ বছর যাবত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করে আসছিলাম। স্বচ্ছ থেকে রাজনীতি করার বিনিময়ে আজ নৌকা থেকে বঞ্চিত হলাম।

‘যে পরিবারে তিন প্রজন্ম আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য হয়েছে, যা সারা বাংলাদেশে হাতেগোনা ১০টি পরিবারও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজ সেই পরিবারটিকে সামান্য একটি ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা থেকে বঞ্চিত হতে হলো। এর চেয়ে ক’ষ্টে’র আর কী হতে পারে? আমি মনে হয় আমা’র দলকে কিছুই দিতে পারিনি।’ যোগ করেন মাসুদ বাবু।তিনি বলেন, আমা’র জন্য পরিবারের ৭০ বছরের সাফল্য অর্জন ম্লান হতে চলেছে। তাই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে সব ব্যর্থতার দায়ভা’র নিয়ে সোনারগাঁ উপজে’লা আওয়ামী লীগের আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Back to top button