জাতীয়

রেলপথমন্ত্রীর স্ত্রী’র ভাগ্নেকে ক্ষমা চাইতে বলা হলো ত’দ’ন্ত প্রতিবেদনে

বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ায় রেলপথ মন্ত্রীর আত্মীয়কে জ’রিমানা করা টিটিই (ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার) শফিকুল ই’স’লা’ম নি’র্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে জমা দেওয়া রেলওয়ের ত’দ’ন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরখাস্ত আদেশের বার্তা প্রদানকারী পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মক’র্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন এবং এর সঙ্গে জ’ড়ি’ত সহকারী বাণিজ্যিক কর্মক’র্তা (এসিও) নুরে আলমের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি ত’দ’ন্ত কমিটি।

যদিও ডিসিওকে এরই মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছে রেল কর্তৃপক্ষ।আর মিথ্যা অ’ভিযোগ করায় ত’দ’ন্ত প্রতিবেদনে মন্ত্রীর স্ত্রী’র ভাগ্নে প্রান্তকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। প্র’রো’চ’নার অ’ভিযোগে ওই ট্রেনের গার্ড (পরিচালক) শরিফুল ই’স’লা’মের বি’রু’দ্ধে শা’স্তির সুপারিশ করা হয়েছে।
ত’দ’ন্ত কমিটির প্রধান পাকশী রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মক’র্তা সাজেদুল ই’স’লা’ম ৪৭ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ই’স’লা’মের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় ত’দ’ন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্যসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিআরএম শাহীদুল ই’স’লা’ম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ত’দ’ন্তে টিটিই শফিকুল ই’স’লা’মের বি’রু’দ্ধে তোলা অ’ভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি, যে কারণে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘কোনো কারণে গার্ড টিটিইর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এই কারণে গার্ড যাত্রীকে উসকানি বা প্র’রো’চ’না দিয়ে টিটিইর বি’রু’দ্ধে অ’ভিযোগ করিয়েছেন। ত’দ’ন্ত কমিটি গার্ড শরিফুলের বি’রু’দ্ধে বিভাগীয় শা’স্তির সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে অ’ভিযোগকারী ট্রেনযাত্রীকে রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয়ে এসে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অন্য দুই যাত্রী অ’প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ’

টিটিই বরখাস্তের সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ই’স’লা’ম সুজনের স্ত্রী’ শাম্মী আক্তার মনি জ’ড়ি’ত ছিলেন কি না—জানতে চাইলে ডিআরএম শাহীদুল ই’স’লা’ম বলেন, ‘ঘটনা ট্রেনের মধ্যে যাত্রীর সঙ্গে। সে কারণে শুধু সেই বিষয়ে ত’দ’ন্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো বিষয় এর সঙ্গে আনা হয়নি। আর ত’দ’ন্তে অ’ভিযোগকারী বা অ’ভিযু’ক্তের বক্তব্যে মন্ত্রীর স্ত্রী’র কোনো কথা বা অ’ভিযোগ উঠে আসেনি। ’

তবে গার্ড শরিফুল ই’স’লা’ম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ত’দ’ন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেখিনি। দেখার পর বুঝতে পারব কেন আমাকে অন্যায়ভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। ’ তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি খুলনা থেকে আন্ত নগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় এসিও নুরে আলম মুঠোফোনে জানান, রেলপথ মন্ত্রীর স্ত্রী’র তিন আত্মীয় ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ঢাকায় যাবেন। তাঁদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে কোন বগিতে আসন খালি আছে, তা জানতে চান। তখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কা’ম’রায় কিছু আসন ফাঁকা দেখতে পান। এরপর ঈশ্বরদী স্টেশনে ওই তিন যাত্রী এলে ট্রেনের অ্যাটেন্ড্যান্ট খন্দকার মাসুদ আলম ও এসি অ’পারেটর আকাশ হাওলাদারকে যাত্রীদের ট্রেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। ওই দিন ট্রেনে ডিএমইওর অ’সুস্থ মা-বাবা থাকায় তিনি তাঁদের খোঁজ নিতে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় ওই তিন যাত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তখন তাঁরা জানান, টিটিই শফিকুল তাঁদের টিকিট করে দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘টিটিই টিকিট করে দিলে আমা’র কি করার আছে?’ এর বেশি কিছু বলেননি। এখন কেন তাঁকে দোষারোপ করা হচ্ছে, তা তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না।

এ বিষয়ে টিটিই শফিকুল ই’স’লা’ম বলেন, ‘গার্ড শরিফুল ই’স’লা’মকে স’ন্দেহ করি। কারণ এর আগেও তিনি আমা’র বি’রু’দ্ধে মিথ্যা অ’ভিযোগ করেছিলেন। ’

এ বিষয়ে অ’ভিযোগকারী যাত্রী ইম’রুল কায়েস প্রান্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমা’র সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় আমি টিটিইর বি’রু’দ্ধে অ’ভিযোগ করেছি। রেল কর্তৃপক্ষ ত’দ’ন্ত করে কী পেয়েছে এবং কী করবে সেটা আমা’র ব্যাপার না। ডিআরএম কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইব কেন?’

 

Back to top button