জাতীয়

‘ই’স’লা’মপ্রিয় নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে ভ’য় পায় সরকার’

বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশপ্রে’মিক ও ই’স’লা’মপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ হলে সরকারের অবস্থা শোচনীয় হবে তা আম’রা গুরুত্ব না দিলেও অ’বৈ’ধ সরকার ভালো করেই বুঝে।

নেতৃবৃন্দ রাজধানীর এক মিলনায়তনে বাংলাদেশ ই’স’লা’মী ছাত্রশি’বির আয়োজিত ‘বন্ধু সংগঠনের সাথে মতবিনিময় ও ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। ছাত্রশি’বিরের সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশি’বিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ই’স’লা’ম, জাগপা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ সভাপতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান, বাংলাদেশ মু’সলিম ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম, নাগরিক ছাত্র ঐক্য সভাপতি মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র মিশন সেক্রেটারি শরিফুল ই’স’লা’ম প্রমুখ।

ছাত্রশি’বিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ই’স’লা’ম বলেন, অশুভ ফায়দা হাসিলের জন্যই দীর্ঘসময় ধরে বহুসংখ্যক শীর্ষস্থানীয় আলেমকে একসাথে ব’ন্দি করে রেখেছে সরকার।কারাব’ন্দি আলেম’দের অনেকে বয়োজ্যেষ্ঠ ও দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তারা অ’সুস্থ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া কারাব’ন্দি আলেম’দের প্রতিটি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মা’ওলানা ইকবাল হুসাইন নামে একজন প্রথিতযশা আলেম কারা হেফাজতে মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। কেউ কেউ সোজা হয়ে হাঁটা চলা পর্যন্ত করতে পারছেন না। সম্প্রতি ১১৬ জন আলেমের বি’রু’দ্ধে কথিত শ্বেতপত্র প্রকাশ একই ষড়যন্ত্রের অংশ। অন্যদিকে পুরো দেশকেই এক প্রকার কারাগারে পরিণত করেছে সরকার। দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার কিছুই অবশিষ্ট নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আওয়ামী নি’পীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এ আইন ব্যবহার করে নিরাপরাধ সাংবাদিকদের হ’ত্যা, জে’ল, জুলুম, নি’র্যা’তন করা হচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরাও রেহাই পাচ্ছে না। দেশ স্বাধীনের পর যত কালো আইন হয়েছে, ডিজিটাল আইন তার মধ্যে অন্যতম। এ আইন ব্যবহার করে গণমাধ্যমের কণ্ঠ চেপে ধরে রাখা হয়েছে যা দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকরাই বলছেন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে র’ক্তে অর্জিত সোনার বাংলা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে তাতে কোনো স’ন্দেহ নেই। কিন্তু তা দেশপ্রে’মিক ছাত্রজনতা মেনে নিতে পারে না। মুক্তির প্রত্যাশায় মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এদেশে অ’পশাসনের বি’রু’দ্ধে তীব্র গণআ’ন্দোলনের ইতিহাস বিরল নয়। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সময়ে এসেছে। অ’ভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে নামতে হবে। গণমানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ঐকবদ্ধ দূর্বার গণআ’ন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আর এ আ’ন্দোলনের অগ্রভাগে থাকতে হবে ছাত্রসমাজকেই।

জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীন দেশ। কিন্তু এদেশে জনগণের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। ছাত্রশি’বিরের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। তবুও ছাত্রশি’বির দেশ ও ই’স’লা’মের কল্যাণে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আম’রা আশাকরি এ ধারা অব্যাহত থাকবে। একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে গণআ’ন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য আমি শি’বির সভাপতিসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জাগপা ছাত্রলীগ যে কোনো গণআ’ন্দোলনে অ’তীতের মতো রাজপথে ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ সভাপতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। জাতির প্রত্যাশা পুরণে শক্তিশালি নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত ও বিস্তৃতি নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশে সংগঠনের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ও স’ম্প’র্ক বৃদ্ধি করতে হবে।

সর্বস্তরের মানুষকে আ’ন্দোলন সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আ’ন্দোলনের মাধ্যমে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ সব সময় দেশে তাহ’জিব-তামাদ্দুন রক্ষায় আপোষহীন। দেশ ও ই’স’লা’ম রক্ষায় আম’রা জীবন দিয়ে ময়দানে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত আছি।

মু’সলিম ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের কড়াল গ্রাস থেকে বাঁ’চাতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে সে ঐক্য মঞ্চে বললে হবে না। সেটা ময়দানে কার্যকর করতে হবে। দানবীয় সরকার হটাতে শক্তিশালী গণআ’ন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। ছাত্রসমাজকে সজাগ ও সচেতন করতে হবে। একটি অর্থবহ ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা ও আ’ন্দোলনে মু’সলীম ছাত্রলীগ অগ্রভাগে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ঈদ মু’সলিম’দের জীবনে অ’তি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি ও অ’পশাসনের কারনে মানুষ আনন্দে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। বাংলাদেশ মু’সলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও মু’সলমানদের বি’রু’দ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। প্রকাশ্যে দাড়ি টুপির অবমাননা করা হচ্ছে। আলেম’দের হেয় করতে তালিকা করা হচ্ছে। বিভিন্ন হলে ছাত্রদের শি’বির ট্যাগ লাগিয়ে নি’র্যা’তন করা হচ্ছে। নানা সময় ই’স’লা’ম বিরোধী কাজ সংগঠিত করে ই’স’লা’মপন্থীদের উস্কে দিয়ে ফায়দা হাসিলের ষড়যন্ত্রও অব্যাহত রয়েছে। আমাদের জন্য আরো দূর্ভাগ্যের বিষয় হলো ই’স’লা’মপন্থীদের মাঝে ঐক্য নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো ঐক্য ছাড়া অ’পশক্তি মোকাবেলা সম্ভব নয়। নাগরিক ঐক্য সুদৃঢ় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এ আয়োজন সেই প্রত্যাশিত ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আম’রা মনে করি।

ছাত্রমিশনের সেক্রেটারি শরিফুল ই’স’লা’ম বলেন, দেশে অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘরোয়া প্রোগ্রাম থেকেও নির্বিচারে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রে’প্তা’র করছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে জাতির অধিকার আদায় ও সোনার বাংলা উপহার দেয়ার জন্য আজকের এ সুন্দর আয়োজনের জন্য ছাত্রশি’বিরকে ধন্যবাদ। জাতির প্রত্যাশা পূরণে এখনি প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজনে। ছাত্রশি’বির এ জমিন র’ক্ত দিয়ে সিক্ত করেছে। তাদের দক্ষ ও ত্যাগী জনশক্তি রয়েছে। ছাত্রশি’বির জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে বলে আম’রা বিশ্বা’স করি। ছাত্রমিশন বরাবরই ছাত্রসমাজে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার অংশীদার। আগামী দিনেও ছাত্রমিশন রাজপথে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

Back to top button