জাতীয়

সুনামগঞ্জের ব’ন্যা পরিস্থিতি অ’পরিবর্তিত

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত না হলেও পাহাড়ি ঢল থেমে নেই। বুধবার বিকালে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমা’র ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জে’লায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সার্বিক ব’ন্যা পরিস্থিতি অনেকটা অ’পরিবর্তিত আছে। ব’ন্যার পানিতে জে’লার ছাতক ও তাহিরপুরে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় জে’লা সদরের সঙ্গে এ দুটি উপজে’লার সরাসরি যান চলাচল বন্ধ আছে।ছাতক ও দোয়ারাবাজারে শতাধিক পরিবার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আশ্রয় নিয়েছে। উপজে’লা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ই’স’লা’ম জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত কম থাকায় জে’লার ব’ন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। গতকালের চেয়ে আজ ১৭ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। মঙ্গলবার বিকালে সুরমা’র পানি বিপদসীমা’র ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার বিকালে সুরমা’র পানি বিপদসীমা’র ১৮ সেন্টিমিটিার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি ভালো থাকলে জে’লার ব’ন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতি হবে।এদিকে সুরমা নদীর তীর উপচে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ শহরের মধ্যবাজার, তেঘরিয়া, উকিলপাড়া, সাহেববাড়ি, নবীনগর, বড়পাড়া, জলিলপুর, মল্লিকপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করলেও রাতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এসব এলাকায় পানি কিছুটা কমেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসনের কর্মক’র্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে জে’লার ছাতক, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজে’লায় ব’ন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজে’লা বেশি প্লাবিত হয়।

ছাতক উপজে’লায় প্রায় ছয় হাজার পরিবার পানিব’ন্দি হয়ে পড়েছে। ছাতক পৌর শহরের পুরোটাই এখন ব’ন্যার পানিতে প্লাবিত।ছাতক উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) মামুনুর রহমান বলেন, ছাতক পৌর শহরসহ উপজে’লার আটটি ইউনিয়ন ব’ন্যাকবলিত। এর মধ্যে ই’স’লা’মপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়ন বেশি আ’ক্রা’ন্ত। উপজে’লায় চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ৮০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

জে’লা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মক’র্তা মো. শফিকুল ই’স’লা’ম জানান, এ পর্যন্ত জে’লার বিভিন্ন উপজে’লায় ব’ন্যাকবলিত পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।জে’লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানিয়েছেন, জে’লায় ব’ন্যার পানিতে বিভিন্ন উপজে’লায় ৭২০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে এসব ধানের ক্ষতি হবে না। তবে বৃষ্টির কারণে কা’টা ধান শুকানো নিয়ে কৃষকরা সমস্যায় আছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে সনামগঞ্জে সৃষ্ট ব’ন্যা পরিস্থিতিতে ব’ন্যাকবলিত উপজে’লাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। জে’লার ছাতক উপজে’লার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপজে’লায় ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা না হলেও প্লাবিত হওয়া ও আশ্রয়কেন্দ্র খোলায় ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে।

সুনামগঞ্জ জে’লা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মক’র্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, ব’ন্যাকবলিত উপজে’লাগুলোতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ছাতকে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।জে’লা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মক’র্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব’ন্যাকবলিত উপজে’লাগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় আসছে না। ঝুঁ’কির কারণে অ’ভিভাবকরাও ছে’লেমে’য়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাচ্ছেন না। ছাতক উপজে’লায় ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি বিদ্যালয়ে ব’ন্যা আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে।

এ ছাড়া দোয়ারাবাজার উপজে’লায় ২৩টি, সদর উপজে’লায় ২০টি বিদ্যালয় প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।জে’লা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মক’র্তা এসএম আব্দুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢলে জে’লায় ২১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আসছে না। পানি নেমে গেলেই আবার পাঠদান শুরু হবে।

Back to top button