জাতীয়

যে কারণে কুসিকে তারা তিনজন মেয়র প্রার্থী

আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের দুজন করে মেয়র প্রার্থী নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এতে পালটে যেতে পারে ভোটের সব হিসাব-নিকাশ-এমনটি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত এবং দলটির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হয়েছেন প্রয়াত প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানের ছে’লে এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মাসুদ পারভেজ খান ইম’রান।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতা-সদ্য সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সারও হয়েছেন মেয়র প্রার্থী। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত লংঘন করায় তাদের দুজনকে ইতোমধ্যেই বহিষ্কার করে বিএনপি।

কুসিক নির্বাচনে ছয়জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও মূলত দুই দলের চার প্রার্থীই নগরীতে আলোচনার কেন্দ বিন্দু। আসছে নির্বাচনে কী কারণে সাক্কু, ইম’রান ও কায়সার প্রার্থী হয়েছেন? নির্বাচনে তাদের মিশন কী?-এসব বিষয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তারা তিনজনই।

মনিরুল হক সাক্কু

নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, বিগত দুটি নির্বাচনে কুমিল্লা নগরীর জনসাধারণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে, আমি নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করেছি, বর্তমান সরকার কুমিল্লা সিটির উন্নয়নে আমাকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছে, কুমিল্লার জনসাধারণকে নিয়ে আমা’র আগামীর স্বপ্ন, এ নগরীর উন্নয়নসহ অসম্পন্ন সব কাজ সম্পাদন করতে আমি তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হয়েছি, বিএনপি যেহেতু দলীয়ভাবে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না তাই দল থেকে পদত্যাগ করেই নির্বাচনে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদিও আমাকে পরবর্তীকালে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের চেয়ে জনসাধারনের প্রত্যাশার গুরুত্ব আমা’র কাছে বেশি, দল এবং রাজনীতির চেয়ে জনসেবাই আমি প্রাধান্য দিচ্ছি, নগরবাসী আমাকে আবারও তাদের মেয়র হিসাবে দেখতে চায়, তাই জনতার প্রত্যাশা পূরণে আমি প্রার্থী হয়েছি। তিনি বলেন, আমা’র বিপুলসংখ্যক কর্মী সম’র্থক এবং সাধারণ ভোটারের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি ভোটে অংশ নিচ্ছি। আমা’র বিশ্বা’স নগরবাসী আমাকে তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে জয়ী করবে।

মাসুদ পারভেজ খান ইম’রান

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইম’রান বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নই। আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। আমা’র প্রতিটি শিরায় উপ-শিরায় রাজনীতি বিদ্যমান। আমা’র পরিবার কুমিল্লা নগরীতে বিপুলসংখ্যক কর্মী সম’র্থকের প্রতিনিধিত্ব করে, সেই সুবাদে কুমিল্লা নগরীতে আমা’র অসংখ্য সম’র্থক এবং ভোটার রয়েছে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই শুরুতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছি, পরে দল আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় আমা’র সম’র্থক এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। আমি কারও জয়ের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে নয়, নিজে ভোটে জয়ী হওয়ার প্রত্যয় নিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। তিনি বলেন, আমা’র এ নির্বাচন এ শহরের মানুষকে জি’ম্মিদশা থেকে মুক্ত করার নির্বাচন, কুমিল্লাকে মা’দ’ক ব্যবসায়ীদের অভ’য়ারণ্য থেকে মুক্ত করার নির্বাচন, কুমিল্লাকে রক্ষা করার জন্যই আমি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। আমা’র এ নির্বাচন কোনো ব্যক্তি অথবা মা’র্কার বি’রু’দ্ধে নয়, আশা করি আসছে ১৫ জুন ভোটে জয়ী হয়ে কুমিল্লাবাসীর সেবা করতে পারব।

নিজাম উদ্দিন কায়সার

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, সাক্কুর জয়ের পথের কাঁ’টা হতে আসিনি। এ নির্বাচনে এসেছি কুমিল্লা সিটির মেয়র নির্বাচিত হতে। কুমিল্লাবাসী পরিবর্তন চায়, দু’র্নী’তিমুক্ত নগরভবন দেখতে নগরীর তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। তরুণ ভোটাররা আমাকে তাদের প্রার্থী হিসাবে বেছে নিয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নানা অনিয়ম-দু’র্নী’তির বি’রু’দ্ধে জনসাধারণ সোচ্চার হয়েছে। তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে। আমা’র জনপ্রিয়তা এবং জনসাধারণের সরকারবিরোধী ক্ষোভসহ ই’স’লা’মী মূল্যবোধের জনসম’র্থন নিয়ে আমি মেয়র পদে বিজয়ী হতে চাই। এ ক্ষেত্রে এবার আমা’র জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ এসেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির সব যৌক্তিক আ’ন্দোলনের সঙ্গে আমিও একমত। এই মুহূর্তে বিএনপির সব দাবির প্রতি আমা’র সম’র্থন রয়েছে। তার পরও সরকারবিরোধী জনমত, আমা’র কর্মী-সম’র্থক এবং ই’স’লা’মী মূল্যবোধের জনসাধারণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছি। আশা করি এবারের নির্বাচনে আমা’র জয় হবে।

Back to top button