জাতীয়

হাজী সেলিমের আত্মসম’র্পণ ঘিরে আ’দা’লত পাড়ায় কড়া নিরাপত্তা

অ’বৈ’ধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গো’প’নের মা’ম’লায় বিচারিক আ’দা’লতে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্ম’দ সেলিমের আত্মসম’র্পণ কেন্দ্র করে আ’দা’লত পাড়ায় নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রয়েছে ব্যাপক উপস্থিতি। রোববার দুপুর থেকে আ’দা’লত পাড়ার রেবতী ম্যানশনের সামনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

আজ দুপুর ২টায় ঢাকার বিশেষ জজ আ’দা’লত-৭ এর বিচারক শহিদুল ই’স’লা’মের আ’দা’লতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আত্মসম’র্পণ করবেন হাজী সেলিম।এদিকে অ’বৈ’ধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গো’প’নের অ’ভিযোগে দুদকের মা’ম’লায় বিচারিক আ’দা’লতে আত্মসম’র্পণের আবেদন করে যে কোনো শর্তে জামিনের আবেদন করেছেন হাজী মোহাম্ম’দ সেলিম।

রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আ’দা’লত-৭ এর বিচারক শহিদুল ই’স’লা’মের আ’দা’লতে আত্মসম’র্পণ করে এ আবেদন করেন হাজী সেলিমের আইনজীবী।এদিন দুপুর ২টার দিকে আ’দা’লতে সশরীরে উপস্থিত হবেন হাজী সেলিম। এরপর এ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কারাগারে উন্নত চিকিৎসা ও প্রথম শ্রেণির ডিভিশন চেয়ে আরও দুইটি আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনে হাজী সেলিমের আইনজীবী শ্রী প্রা’ণ নাথ উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে ওপেন হার্ড সার্জারির সময় মস্তিষ্কে র’ক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন যাবত বাক-শক্তিহীন অবস্থায় রয়েছেন হাজী সেলিম। তিনি দেশ ও বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। জে’লে থাকলে চিকিৎসার অভাবে ও বাক-শক্তিহীনের কারণে যে কোনো দু’র্ঘ’ট’না ঘটতে পারে। এ কারণে যে কোনো শর্তে তার জামিন আবেদন করছি। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না। তাই আপিল শর্তে আত্মসম’র্পণ পূর্বক তার জামিন আবেদন করছি।

গত ২৫ এপ্রিল দুপুর ৩টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আ’দা’লত-৭ এর বিচারক শহিদুল ই’স’লা’মের আ’দা’লতে হা’ই’কো’র্ট থেকে মা’ম’লার নথি এসে পৌঁছায়। এদিন হা’ই’কো’র্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে রায়ের নথি পাঠানো হয়।দু’র্নী’তি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, আইন অনুযায়ী আজ থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে বিচারিক আ’দা’লতে আত্মসম’র্পণ করতে হবে। আর হা’ই’কো’র্টের রায়ের ফলে তার সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা নেই।

এর আগে হাজী সেলিমকে বিচারিক (নিম্ন) আ’দা’লতে দেওয়া ১০ বছরের কারাদ’ণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জ’রিমানার রায় বহাল রাখেন হা’ই’কো’র্ট।২০২১ সালের ৯ মা’র্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ই’স’লা’ম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশ পায় রায়।

এছাড়া জ’রিমানার টাকা অনাদায়ে হাজী সেলিমকে আ’দা’লত আরও এক বছরের সশ্রম কারাদ’ণ্ড দেন এবং রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আ’দা’লতে আত্মসম’র্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আত্মসম’র্পণ না করলে জামিন বাতিল করে তার বি’রু’দ্ধে গ্রে’প্তা’রি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এছাড়া জ’ব্দ করা হাজী সেলিমের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে বলা হয়।

জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বি’রু’দ্ধে লালবাগ থা’নায় অ’বৈ’ধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গো’প’নের অ’ভিযোগে মা’ম’লা করে দুদক। এরপর ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল হাজী সেলিমকে ১৩ বছরের কারাদ’ণ্ড দেন বিচারিক আ’দা’লত।পরে ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর হাজী সেলিম এই রায়ের বি’রু’দ্ধে হা’ই’কো’র্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হা’ই’কো’র্ট ১৩ বছরের সাজা বাতিল করে রায় দেন।

এরপর হা’ই’কো’র্টের ওই রায়ের বি’রু’দ্ধে সর্বোচ্চ আ’দা’লতে আপিল করে দুদক। শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হা’ই’কো’র্টের ওই রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে হাজী সেলিমের আপিল পুনরায় হা’ই’কো’র্টে শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় দেন হা’ই’কো’র্ট। সেখানে বিচারিক আ’দা’লতের দেওয়া ১৩ বছরের কারাদ’ণ্ড কমিয়ে ১০ বছর বহাল থাকে।

Back to top button