রাজনীতি

সরকারের আছেটা কী, শুধু পু’লিশ

সরকারের আছেটা কী? শুধু পু’লিশ- মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘৭১ সালে পু’লিশ-আর্মি মানুষ মা’রছে, কিন্তু তাদেরই আত্মসম’র্পণ করতে হয়েছে। আর পু’লিশ কখনো জনগণের দাবির বিপক্ষে যায় না। আম’রাই তো ঠিক মতো রাস্তায় নামতেছি না, পু’লিশকে দোষ দিয়ে লাভ কী? অকারণে আম’রা ভ’য় পাচ্ছি।’মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে দলের যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসলাম চৌধুরী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দুষ্টুমি করেই হোক বা এমনি হোক একজনকে টুস করে ফেলে দেওয়া, আরেকজনকে চুবানো- এটা তো হ’ত্যার হু’মকি। অ্যাটেম্পট টু মা’র্ডার।তিনি বলেন, আমাদের যে এত আইনজীবী ফোরাম আছে তারা কি এর বি’রু’দ্ধে মা’ম’লা করেছে। করে নাই। আর আম’রা কোনো কথা বললে দেশের আনাচে কানাচে খালি মা’ম’লা-ই হয়।

সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমি জানি আ’দা’লতে গেলে এই মা’ম’লা (সরকারের বি’রু’দ্ধে মা’ম’লা করলে) টিকবে না। যে দেশের আ’দা’লত সরকারের অ’পকর্মকে লালন-পালন করে, সাফাই গায়, যে দেশে সরকারের দু’র্নী’তি, মুদ্রাপাচার, না’রী নি’র্যা’তন থেকে খু’ন-গু’ম নিয়ে টেলিভিশনের ট’কশোতে লোক ভাড়া করে সাফাই গায়, সেই দেশে আম’রা কোন অবস্থায় আছি সেটা বুঝতে হবে।

তিনি বলেন, এখন যদি আম’রা হাশরের ময়দান পর্যন্ত অ’পেক্ষা করি তাহলে চলবে না। পৃথিবীতে আপনার দায়িত্ব আপনাকেই পালন করতে হবে। এখানে শুধু আসলাম চৌধুরীর মুক্তি পাওয়া বড় কথা না। গোটা জাতিই তো ব’ন্দি। এই ব’ন্দিদশা থেকে মুক্তি করতে পারলে তো তিনি নিজেই আপনার সামনে এসে দাঁড়াবেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনটা কেমন হলো- প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ১৪শ ভোট’কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট যান নাই। ভোটের বাক্স ভর্তি হয়ে গেছে। তারপর ১৫৩টা সিট আগের থেকে নাই। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনাই। বিএনপি পারে নাই? ওই না পারাটাই শেষ, তারপর কি চেষ্টা করছি আম’রা? কেন করলাম না?

তিনি বলেন, আম’রা নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তার জন্য আমাদের আবেগ অনুভূতির কোনো অভাব নাই। তো খালেদা জিয়া যে হাঁটতে হাঁটতে জে’লে গেলেন, আর ব’ন্দি অবস্থায় জে’ল থেকে গেলেন বাসায়- আম’রা কী করলাম। আম’রা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি, কিন্তু কার কাছে করছি? শেখ হাসিনার কাছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, আম’রা প্রতিদিনই ঐক্যের কথা বলছি। একটা মানুষ পেলাম না যে বলছে ঐক্য ছাড়া চলবে। তাহলে আমাদের আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে সমস্যাটা কী? একজনকে দাওয়াত দিলে আরেজন আসবেন না, তাহলে ঐক্য হলো কই?

তিনি বলেন, আমাদের তাদের ভ’য় পাবার কোনো কারণ নেই, তাদের যে বিচার হবে সেই বিচার থেকে মুক্তি পাবার কোনো উপায় নেই। আজকে আম’রা ভ’য় পাই কাকে? নিজেকে নাকি সরকারকে? নিজেকে যদি ভ’য় না পাই তাহলে সরকারকে ভ’য় পাবার কারণ কী?সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ব’ন্দি মানে বাংলাদেশটাই ব’ন্দি। তাই বিএনপির কর্মী হিসেবে আমাদের কাজটা আমাদেরকে করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, যারা মনে করছেন আমাদের নামের তালিকা করে মা’ম’লা দেবেন, জে’লে ঢুকাবেন, সাজা দেবেন। আপনাদেরকে বলে দিতে চাই, আপনাদের নামের তালিকা হচ্ছে না এই গ্যারান্টি কে দেবে? আপনাদের নামের তালিকা করা হচ্ছে। এই তালিকা দিন দিন বড় হচ্ছে। একদিন সময় আসবে বৈশাখ মাসের হালখাতার মত একটা একটা করে নাম ধরে সব হিসাব করা হবে।অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহ’জাহান, কৃষকদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শাহ’জাহান মিয়া সম্রাট সহ আয়োজক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Back to top button