জাতীয়

দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে বললেন ওবায়দুল কাদের

রাঙামাটি জে’লা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্দিনে যারা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে দলে কাজ করেছিলেন, সেইসব দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে দলকে আরও শক্তিশালী করুন। ত্যাগীদের মূল্যায়ন করলে দল সব সময় শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কেউ দলের বাইরে থেকে থাকলেও তাদের আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনো কলহ থাকলে তা ঘরের মধ্যে মীমাংসা করে নিতে হবে। জনগণের পাশে থেকে দলকে মজবুত করতে হবে।

তিনি বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সামনের নির্বাচনে আবার দলকে অবশ্য ক্ষমতায় আনতে হবে। সেই লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রাঙামাটি জে’লা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অ’তিথি হিসাবে ভা’র্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।সম্মেলন সফল ও সার্থক করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠন করবেন। কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন, যারা বিগত দুঃসময়ে ঝুঁ’কি নিয়ে শ্রম দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক’ষ্ট করে অনেক ঝুঁ’কি মোকাবিলা করে রাঙামাটিসহ পাহাড়ে আওয়ামী লীগকে আজ শক্তিশালী অবস্থানে গড়ে তুলেছেন, সেজন্য দল কৃতজ্ঞ। পাহাড়ে ঝুঁ’কি এখনো রয়েছে। অনেক সময় সেখানে খু’ন, র’ক্তপাত দেখতে পাই। আম’রা পাহাড়ে হানাহানি র’ক্তপাত আর চাই না। এগুলো বন্ধ করতে হবে। সীমান্ত সড়ক থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কার্লভাট, অবকাঠামো, আর্থ-সামাজিকসহ সবক্ষেত্রে পাহাড়ের উন্নয়নে নজর দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চেঙ্গি নদীর ওপর দিয়ে নানিয়ারচর সেতুর নির্মাণ শেষ হয়েছে। সে’নাবাহিনীর সহায়তায় সেতুটির বাস্তবায়ন করা হয়। শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখু’ন। তার হয়ে ওয়াদা করছি, পার্বত্য শান্তিচুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন করবে আওয়ামী লীগ সরকার। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে যেসব প্রতিশ্রুতির কথা বলা আছে, সেগুলোর প্রতিটি বাক্য ও শব্দের অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। একমাত্র ভূমি জটিলতা ছাড়া পাহাড়ে আর অন্য কোনো সমস্যা নেই।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ই’স’লা’ম আলমগীর অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে গেছে। জুনে তা উদ্বোধন হবে। এ নিয়ে সারা বাংলার মানুষ আনন্দে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু বিএনপি ও মির্জা ফখরুলের বুকে ব্যথা ও বিষের জ্বালা ছড়িয়েছে।

সকাল ১০টায় রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি।উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি। এছাড়া দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, ধ’র্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ই’স’লা’ম, তিন পার্বত্য জে’লার মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা প্রমুখ বিশেষ অ’তিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জে’লা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতুব্বর। সম্মেলনে জে’লা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং ১০ উপজে’লা ও তৃণমূলের ২৪৬ জন কাউন্সিলরসহ প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মী যোগ দেন।প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যখন অশান্ত ছিল গো’লাগু’লি হতো তখন শান্তি স্থাপনের জন্য জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি কমিটি হয়। সেখানে আমিও ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিনা গো’লাগু’লিতে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে সম্ভব হয়েছিল। পৃথিবীতে এ ধরনের নজির কোথাও নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনের জন্য শেখ হাসিনাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল হানিফ বলেন, ফখরুল ই’স’লা’ম আলমগীরসহ বিএনপি এখন বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে বলে মিথ্যাচার অ’পপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের বলব, বাংলাদেশ কখনো শ্রীলংকা আ’ফ’গা’নিস্তান হবে না। কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনা আছেন, তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে। বিএনপি বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না। তাই তারা নানা ষড়যন্ত্রে জ’ড়ি’ত থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে সব সেক্টরে উন্নয়ন কর্মকা’ণ্ড বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু বিএনপি জামায়াত তা পছন্দ করে না। কারণ তারা পা’কিস্তানের সৃষ্ট।

বিকালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে দীপংকর তালুকদারকে আবারো বিনা ভোটে জে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এ পদে বর্তমান সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমা’র চাকমা প্রার্থী হলেও উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের সমঝোতায় নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন নিখিল।

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধে নিখিল শেষবারের মতো দীপংকরকে পদটি ছেড়ে দেন বলে জানিয়েছেন জে’লা আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল।পরে এ অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৩৮ ভোট পেয়ে আবারো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. মুছা মাতুব্বর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কা’মাল উদ্দিন পেয়েছেন ১০২ ভোট। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অন্যদের নিয়ে বসে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠাবেন বলে জানানো হয়েছে।

Back to top button