জাতীয়

ব’ন্যায় সিলেটে এক ইউনিয়নেই গৃহহারা ২শ পরিবার!

ব’ন্যা, ঝড় তুফানে গৃহহীন হয়েছেন অনেকে। তাদের একজন কৃষক আব্দুস শুকুর।চার সন্তান এবং স্ত্রী’কে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। ব’ন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় ঘর মেরামত করার সাম’র্থ্যও নেই তার।তার মতো বানের তোড়ে ভেসে গেছে অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ি। কারো ঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে তুফানে। সেসব পরিবারের লোকজন এখন আশ্রয় নিয়ে থাকছেন অন্যের বাড়িতে। তাদের মা’থা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই।

মঙ্গলবার (২৪ মে) ব’ন্যা পরবর্তী সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজে’লার তোয়াকুল ইউনিয়নের ঘোড়ামা’রা গ্রাম ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।একই গ্রামের শুজুর মিয়ার বসতঘর গত সোমবারের তুফানে মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে গেছে। নতুন ঘর নির্মাণ কিভাবে করবেন নিজেই জানেন না।তিনি বলেন, ‘ব’ন্যায় ঘরে পানি উঠেছে। আর তুফানে ঘর মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। তাই খুব ক’ষ্ট করে অন্যের বাড়িতে থাকছি। ’ঘোড়ামাড়া গ্রামের ই’স’লা’ম উদ্দিনের কাঁচা বসতঘরও পড়ে গেছে। তিনিও পরের ঘরে আছেন।

পশ্চিম পেকের খাল গ্রামের মৎস্যজীবী দিনেশ বিশ্বা’স এবং রতন বিশ্বা’সের বাড়িতে উঠেছে ব’ন্যার পানি। আর তুফানে পড়ে গেছে বসতঘর।এই এলাকায় যারা পানিব’ন্দি হয়েছেন, বাড়ির উঠানে থাকা চুলায় তাদের রান্না করা সম্ভব হয়নি। টিনের টুকরোতে, বেতের ঝাঁপিতে মাটির চুলো বানিয়ে রান্না করে দু’মুঠো অন্নের স্বাদ পাচ্ছেন কেবল। দুর্বিসহ জীবনযাপন তাদের। চোখে না দেখলে বিশ্বা’স করা কঠিন, কিংবা আষাঢ়ের গল্পের মতে হতে পারে! অবস্থা দৃষ্টে সেসব দিনমজুরদের নিদারুণ ক’ষ্টে যে কারো চোখের জল আসবে।

স্থানীয় ঘোড়ামাড়া, তুরুবাগ, পশ্চিম পেকেরখাল, লস্করকান্দি ঘুরে দেখা গেছে, ছালমা, দিনেস, মনফর, জৈন উদ্দিন, মাসুক, পাখি বিশ্বা’স, ইন্তাজ আলী, তজমুল আলীদের পরিবারের রান্না চলছে টিন আর ঝাঁপিতে (টুকরি) তৈরি চুলায়।গ্রামের ছুরন বিবির গল্প যেন আসমানির গল্পকেও হার মানায়। তিনি বলেন, ‘বাফরে (বাবারে) কিজাত (কি রমক) ক’ষ্টে যে আছি, কিতা কইতাম? ছুলাত (চুলায়) আ’গু’ন ধ’রানিও যায় না। ’সম্প্রতিকালের ব’ন্যায় শুকুর মিয়া, ই’স’লা’ম, দিনেস ছুরন বিবির মত গৃহহারা হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।সরেজমিন দেখা গেছে, গোয়াইনঘাট উপজে’লার ৮ নম্বর তোয়াকুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামের হাজারো মানুষ এখনো পানিব’ন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধুমাত্র এই ওয়ার্ডে অন্তত ১০ পরিবার সম্পূর্ণরূপে গৃহহারা হয়েছেন। এই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ এখনো পানিব’ন্দি অবস্থায় রয়েছেন।স্থানীয় ইউপি সদস্য উম’র আলী বলেন, তার ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা দেড় সহস্রাধিক। অধিকাংশ এলাকা এখনো পানিব’ন্দি। ফসলি জমি পানি তলিয়ে গেছে আগেই। ব’ন্যা ও ঝড়-তুফানে বসতঘর ভে’ঙে গৃহহারা হয়ে পরা মানুষগুলো অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে থাকছেন।

তিনি বলেন, অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যে সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাটের ৮ নম্বর তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্ম’দ লুকমান মিয়া বলেন, ব’ন্যায় তার ইউনিয়নের প্রায় ২শ’ মানুষ গৃহহারা হয়েছেন। এছাড়া পুরো ইউনিয়ন জুড়ে উপজে’লা সদরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা পুনরায় কার্পেটিং, ইটসলিং করতে হবে।

তিনি বলেন, সোমবার উপজে’লা প্রশাসনের মাসিক সভায় ব’ন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ইউপি সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করতে বলে দেওয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মো. তাহমিলুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার উপজে’লা চেয়ারম্যান, প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ব’ন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলেই আম’রা ত্রাণ ও দু’র্যোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে।

Back to top button