জাতীয়

দুবাই যাওয়ার ৬ দিন পর সড়ক দূর্ঘটনায় প্রবাসী যুবককের মৃ’ত্যু

দুবাই যাওয়ার ৬ দিন পর সড়ক দূর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসী মোঃ এরশাদ হোসেন (২১) নামের এক যুবকের মৃ’ত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নি’হ’ত যুবকের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজে’লার বাকশীমূল পশ্চিমপাড়ার জামাল হোসেনের ছে’লে। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নি’হ’তের একমাত্র বোন পপি আক্তার।

স্থানীয়রা ও নি’হ’তের বোন পপি আক্তার জানান, বিদেশ যাওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তে এরশাদ তার মা মিনুয়ারা বেগম ও বাবা জামাল হোসেনের বুকে জড়িয়ে চোখের জল ফেলে বলেন, তোম’রা আমা’র জন্য আর চিন্তা করিও না। আমি দুবাইতে গিয়ে মাসে মাসে টাকা পাঠাবো, আমাদের ঋণ শোধ করিয়ে নিও আমাদের আর অভাব থাকবে না। এ কথা বলে এরশাদ মা-বাবার কাছ থেকে বিদায় নেয়।

এরশাদ হোসেন বুড়িচং ফজলুল রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজি থেকে এইচ এস সি পাস করার পর পরিবারের অভাব অনাটন দেখে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ পু’লিশের চাকরির জন্য আবেদন করে এবং চাকরি নিশ্চয়তার জন্য অসাধু কর্মক’র্তাদের সাথে ৬ লক্ষ টাকা ঘুষের কথাবার্তা বলে কিন্তু কয়েকমাস পর ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হবে এমন খবর শুনে পরিবারের মন ভে’ঙে যায়। এতো টাকা কোথায় থেকে দিবে? মা-বাবা তো পারবে না, কারণ অভা’রের সংসার।তাই এরশাদ সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিলেন বিদেশ চলে যাবে, দেশে আর ঘুষ দিয়ে চাকরি করবে না।

কিস্তিতে টাকা উত্তোলন করে দালালের মাধ্যমে গত ৩০ মে দুবাইতে যান এরশাদ। সেই দেশে যাওয়ার ৬ দিনের মা’থায় রবিবার (৫ জুন) বিকেলে দুবাই সারজা এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় মা’রা যায় এরশাদ। সেই দেশের স্থানীয়রা আ’হত অবস্থায় উ’দ্ধা’র করে দুবাই আল কাসমিয়া হসপিটালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। ওই দালাল নি’হ’তের পরিবারে ফোন দিয়ে মৃ’ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে রিমন নামের এক প্রবাসী পুনরায় বাড়িতে ফোন দিয়ে মৃ’ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরশাদের মৃ’ত্যুতে মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকা মানুষসহ বন্ধুদের মাঝে শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। নি’হ’ত এরশাদসহ ২ ভাই ও এক বোন রয়েছে।এখন লা’শের অ’পেক্ষা প্রহর গুনছেন পরিবার।

Back to top button