জাতীয়

এবারের বাজেট সম্পূর্ণ ‘বাস্তবতা বর্জিত’

আজ (বৃহস্পতিবার) ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মু’স্তফা কা’মাল। তবে এ বাজেট’কে সম্পূর্ণ বাস্তবতা বর্জিত আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিত্বহীন এই সরকার দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের কোভিড পরবর্তী চরম মুল্যস্ফীতিজনিত দুঃসহ জীবনযাপন ও দৈনন্দিন সংগ্রামের বিষয়টি সম্পূর্ণ বিস্মৃ’ত হয়ে এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করেছে, যা দেশের মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষায় তৎপর হয়েছে। অ’বা’ক হবার কিছু নেই, এতে করে লাভবান হবে সরকার সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ গোষ্ঠী। অন্যদিকে নতুন বাজেটের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আরো চরম অবস্থায় পতিত হবে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।বৃহস্পতিবার ২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট সম্বন্ধে মতামত জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, বাজেটের আকার বেড়েছে স’ন্দেহ নেই, কিন্ত এই ঢাউস বাজেটের যে দিকটি সরাসরি দেখা যায় না সেটা হচ্ছে, অবাধ মুদ্রা সরবরাহের বিষয়টি। কেউ জানে না, বাংলাদেশ ব্যাংক কত নতুন নতুন নোট ছাপিয়ে বাজার ছয়লাব করে দিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ণ আম’দানি নির্ভর অর্থনীতিতে জনগণের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। ইনফ্লেশন সরকারি হিসেবে ৬ শতাংশের কিছু ওপরে কিন্তু বাস্তবে সেটা ১২ শতাংশ, অর্থাৎ সরকারি হিসেবের দ্বিগুন। বর্তমান বছরের বাজেটের ফলে এই পরিস্থিতি আরো নাজুক আকার ধারণ করবে । এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয়, ডলারের বিপরীতে স্বল্পতম সময়ে টাকার মা’রাত্মক অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উর্দ্ধগতি জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এই বাজেটে তার কোনো সমাধান নেই।

তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি বিষয়টি লক্ষ্য করুন। ৩৬ শতাং, অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশেরও বেশী। ফলে সরকারের দেশী-বিদেশী ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের বিষয়টি নাই-বা ব্যখ্যা করলাম। এর চাপও কিন্তু দরিদ্র জনগণের ওপরেই পড়বে। আর নতুন ট্যাক্স আরোপের বিষয়টি লক্ষ্য করুন। কর্পোরেট ট্যাক্স কমেছে, কিন্ত ট্যাক্স ফ্রি তিন লাখ টাকার সীমা এক টাকাও বাড়েনি। তাই মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, দরিদ্র দেশের একটি বাজেটের মৌলিক দিক হলো- উন্নয়ন বাজেট বনাম রাজস্ব বাজেটের অনূপাত। আম’রা দেখছি, একদিকে উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ নিয়েছে ভৌত অবকাঠামোর মেগা প্রজেক্টগুলো। সাথে সাথে আশংকা হচ্ছে মেগা দু’র্নী’তির। কাজেই অধিকতর ব্যাখ্যায় না যাওয়াই হয়তো উত্তম। পাশাপাশি অনুন্নয়ন ব্যয় অথবা এখন যাকে অন্য নামে বলা হয় পরিচালনা ব্যয়, তার পরিমাণ ৪ লাখ কোটির ওপর। রাজনৈতিক সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রশাসন ও সা’পোর্ট সিস্টেমকে খুশি রাখতে হবে তো!

তিনি বলেন, বাজেটে বিরাট অংকের ভর্তুকি। লক্ষ-কোটি টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো কার পকে’টে যায়? আম’রা অ’তীতে দেখেছি, কিভাবে একই টেলিফোন নাম্বারে কতবার প্রণোদনা যায়, কার কাছে যায়! এগুলো এখন মানুষের কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন আসবে, বিগত দুই বছরে যে লক্ষ-হাজার কোটি টাকার ওপরে প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল, সে টাকা গেল কই ? তার মধ্যে একটি টাকাও কি পরিশোধ করা হয়েছে ? জনগণ জানতে চায়। শুনি, রফতানি না কি হু হু করে বাড়ছে। তাহলে প্রণোদনার টাকা পরিশোধ হচ্ছে না কেন ? কারা কারা এই প্রণোদনা পেয়েছে ও কি পরিমাণ পরিশোধ করেছে, তার ওপরে সরকারের শ্বেতপত্র চায় জনগণ।

সবশেষ দেশের প্রবীণ এ রাজনীতিক বলেন, বক্তব্য এ পর্যায়ে দীর্ঘ করব না। বিস্তৃত আলোচনা যথাসময় হবে। এক কথায় বলেতে হয়, এ বাজেট জনগণের জন্য নয়, এবারের বাজেট বর্তমান কঠিন সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ একটি ‘বাস্তবতা বর্জিত’ বাজেট, কেবলমাত্র সরকারের আশীর্বাদপুষ্টদের জন্যই করা হয়েছে।

 

Back to top button