খেলাধুলা

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না তিনি

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য কারেম্বু বাংলাদেশে এসেছেন। ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গী তিনি।দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে অবস্থান করে এ দেশের ফুটবলপ্রে’মীদের সঙ্গে মিশে গেছেন এ সাবেক ফরাসি তারকা। তার জানা হয়ে গেছে— ফুটবল উন্মাদনায় কতটুকু বুঁদ হতে পারে বাংলাদেশিরা।

যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিয়েই যত সম’র্থন, জল্পনা-কল্পনা। কারেম্বুর ফ্রান্স নিয়ে তেমন ভাবনা নেই এ দেশে।বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিক এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এই ফরাসি ফুটবলার। কথা বলেন বাংলাদেশ সফর ও তার ক্যারিয়ার নিয়ে।

তাকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেন, কাতার বিশ্বকাপে কোনো দলকে ফেবারিট মানছেন? আর্জেন্টিনা – ব্রাজিল নাকি তার দেশ ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন কারেম্বু?জবাবটা যেন বুদ্ধি করে এড়িয়েই গেলেন কারেম্বু। কারণ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে নিয়ে উন্মাদনার বিষয়টি ভালোই টের পেয়েছেন কারেম্বু।

তাই কারেম্বু জানালেন, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান।তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ের মতো এই বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ফেবারিট। তবে অবশ্যই আমা’র ফেবারিট ফ্রান্স। তবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন বাংলাদেশে। উভ’য় দলের সমান সম’র্থক রয়েছে।’১৯৯৮ বিশ্বকাপের জিনেদিনে জিদানের সতীর্থ ছিলেন কারেম্বু। সেবার জিতেছিলেন বিশ্বকাপ।

সেই স্মৃ’তিচারণ করে কারেম্বু জানালেন, বিশ্বের যেখানেই যান তিনি, সেখানেই ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কথা ওঠে।তিনি বলেন, ‘সেই বিশ্বকাপে আম’রা চ্যাম্পিয়ন হব কেউ ভাবেনি। আম’রা ফ্রান্সের জন্য খেলেছিলাম। নিজেদের সেরাটা শতভাগ দেওয়ায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

বিশ্ব ফুটবলে অনেক ফুটবলারের বিশ্বকাপ ট্রফি থাকলেও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি নেই। এ দিক থেকেও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন এই ফুটবলার, ‘দু’টি ট্রফিই গুরুত্বপূর্ণ। দু’টি বড় টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হতে পেরে গর্বিত।’এ সময় বাংলাদেশের প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করলেন না কারেম্বু। বললেন, বাংলাদেশের সবার আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ তিনি।

কারেম্বু বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা খুবই আন্তরিক। এই একদিনে আরও অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। সবার ভালোবাসায় আম’রা মুগ্ধ।’বাংলাদেশের ফল-মূল ও খাদ্য স’ম্প’র্কে আগেই জানতেন কারেম্বু। বললেন, ‘বাংলাদেশের লিচু, আম স’ম্প’র্কে আগেই কিছু ধারণা ছিল। তা দারুণ। এখানে এসে আম ও লিচু খেয়েছি। অনেক ভালো লেগেছে। আসলে যে দেশেই যাই আমি চেষ্টা করে ঘুরে দেখার।’

কারেম্বুর লিচু প্রে’ম নিয়ে বাফুফের এক কর্মক’র্তা বলেছেন, ‘বুধবার বিমান বন্দর থেকে হোটেলে আসার পথে রাস্তার পাশে আম এবং লিচুর দোকান দেখে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন কারেম্বু এবং গাড়ি দাঁড় করান নিজের। এরপর গাড়ি থেকে নেমে তিনি মোবাইলে আম-লিচুর ছবি তোলেন। বিকেলে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকে সেই ছবিগুলো দেখিয়ে জানতে চান এগুলো কী?’

তার কৌতূহল দেখে বাফুফে সভাপতি তখন সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগের মাধ্যমে কারেম্বুর হোটেলের রুমে আম আর লিচু পাঠিয়ে দেন।বিষয়টি রাষ্ট্রপতি শুনলে তিনি বললেন, ‘সাথে একটি বড় কাঁঠালও পাঠিয়ে দিন তার কক্ষে।’

Back to top button