রাজনীতি

টিপু হ’ত্যা: যেভাবে ওমানে আ’ট’ক হন মু’সা

রাজধানীর মতিঝিল থা’না আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ই’স’লা’ম টিপু এবং কলেজছা’ত্রী সামিয়া আফরান প্রীতি হ’ত্যা মা’ম’লায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় ওমান থেকে সুমন শিকদার মু’সাকে গ্রে’প্তা’র করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশ (ডিবি)।

মা’ম’লার ত’দ’ন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, কি’লিং মিশনের ১২ দিন আগে শাহ’জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দুবাই যান মু’সা। ত’দ’ন্তে মু’সার নাম আসার পরই বাংলাদেশ পু’লিশের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশ থেকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সহযোগিতা চাওয়া হয় ইন্টারপোলের কাছে। এরই মধ্যে গত ৮ মে দুবাই থেকে ওমানে যান মু’সা। ওমানের সালালায় অবস্থিত হযরত আইয়্যুব (আ.) এর কবর জিয়ারত করে ১২ মে ফের দুবাই ফিরে যাচ্ছিলেন তিনি।

ডিবি জানায়, মু’সা ওমানে আ’ট’ক হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সমঝোতায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে টিপু হ’ত্যা মা’ম’লার ত’দ’ন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় স’ন্দেহ হয় ওমান পু’লিশের। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটের ছবির সঙ্গে মিলিয়েও নিশ্চিত হতে পারছিলেন না দেশটির পু’লিশ সদস্যরা।

তাৎক্ষণিকভাবে ওমান পু’লিশের এনসিবি শাখা যোগাযোগ করে বাংলাদেশ পু’লিশের এনসিবি শাখার সঙ্গে। ওই ব্যক্তিই মু’সা জানিয়ে আ’ট’ক রাখার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পু’লিশ। এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে মু’সাকে আ’ট’ক রাখে ওমান পু’লিশ। জানা গেছে, হযরত আইয়্যুব (আ.) এর কবর জিয়ারত করতেই ওমান গিয়েছিলেন মু’সা।টিপু হ’ত্যাকা’ণ্ডের র’হ’স্য উন্মোচন ও অ’ভিযানের নেতৃত্বদানকারী গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের অ’তিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহিদুর রহমান রিপন ওমান থেকে মু’সাকে দেশে ফিরিয়ে আনার নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে আরও ছিলেন অ’তিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রফিকুল ই’স’লা’ম ও পু’লিশ সদরদপ্তরের এনসিবি বিভাগের সহকারী পু’লিশ সুপার মোহাম্ম’দ ফয়েজ উদ্দীন।

এডিসি শাহিদুর রহমান রিপন জাগো নিউজকে বলেন, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বাংলাদেশ পু’লিশ দুবাই পু’লিশের মাধ্যমে মু’সাকে আ’ট’কের চেষ্টা শুরু করে। বিষয়টি টের পেয়ে দুবাই থেকে ওমানে চলে যান তিনি। পরে ওমান পু’লিশের মাধ্যমে মু’সাকে শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফেরত আনা হয়।

তিনি বলেন, আ’লো’চি’ত এই হ’ত্যা মা’ম’লায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রে’প্তা’র করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আ’দা’লতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে শুটার মাসুমের জবানব’ন্দিতে হ’ত্যার পরিকল্পনায় মু’সার নাম আসে।টিপু হ’ত্যা মিশনের সব ঠিকঠাক করে গত ১২ মা’র্চ বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন মু’সা। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তিনি শুটার মু’সা নামে পরিচিত। জোড়া খু’নের ত’দ’ন্তে তার নাম আসার পরই নড়েচড়ে বসেছিলেন গোয়েন্দারা।

কি’লিং অ’পারেশনের ১২ দিন আগে শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে পালান মু’সা। এরপর বাংলাদেশ পু’লিশের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশ থেকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। মু’সা প্রথমে দুবাই গেলেও পরে সেখান থেকে ওমান পালিয়ে যান। এরপর ওমানের সঙ্গে ইন্টারপোলের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ।মু’সার বি’রু’দ্ধে রাজধানীর মতিঝিল, মিরপুরের পল্লবী থা’নাসহ বিভিন্ন থা’নায় হ’ত্যা, অ’স্ত্র মা’ম’লাসহ ১১টি মা’ম’লা রয়েছে। তিনি ঢাকার শীর্ষ স’ন্ত্রা’সী প্রকাশ-বিকাশ গ্রুপ ও মানিক গ্রুপের সদস্য। মতিঝিল এজিবি কলোনিতে যুবলীগ নেতা রিজভী হাসান ওরফে বোঁচা বাবু হ’ত্যা মা’ম’লার অন্যতম আ’সা’মি সুমন শিকদার ওরফে মু’সা। রিজভী হাসান হ’ত্যা মা’ম’লার বাদী তার বাবা আবুল কালাম। এই আবুল কালাম আবার জাহিদুল ই’স’লা’মের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। রিজভী হ’ত্যা মা’ম’লা মিটমাটের জন্য সুমন শিকদারসহ আ’সা’মিরা জাহিদুলের কাছে গিয়ে ব্যর্থ হন।

ত’দ’ন্তসংশ্লিষ্ট পু’লিশ ও র্যাবের কর্মক’র্তারা বলছেন, দলীয় প্র’তি’প’ক্ষ জাহিদুলকে হ’ত্যা করতে রিজভী হাসান হ’ত্যা মা’ম’লার আ’সা’মিদের ব্যবহার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, তিন-চার মাস আগে টিপু হ’ত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিকাশ-প্রকাশ গ্রুপের অন্যতম সদস্য মু’সার সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন মতিঝিল ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওম’র ফারুক। এর মধ্যে প্রথমে মু’সাকে ৯ লাখ টাকা দেন তিনি। মা’র্চের ১২ তারিখে টাকা নিয়ে দুবাই চলে যান সুমন শিকদার ওরফে মু’সা।

এদিকে আজ শুক্রবার (১০ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিবির অ’তিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ডাবল মা’র্ডারের ঘটনায় বগুড়া থেকে গ্রে’প্তা’র শুটার মাসুম মোহাম্ম’দ ওরফে আকাশের স্বীকারোক্তিমূলক জবাবব’ন্দিতে মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে মু’সার নাম আসে। পরে জানা যায়, মু’সা ঘটনার আগেই ১২ মা’র্চ দেশ ছেড়ে সংযু’ক্ত আরব আমিরাত চলে যান। তার সন্ধান পেতে ৬ এপ্রিল পু’লিশ সদরদপ্তরের এনসিবি শাখায় যোগাযোগ করা হয়। পু’লিশ সদরদপ্তর ৮ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইন্টারপোলের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করে। এর মধ্যে ৮ মে জানা যায় মু’সা দুবাই থেকে ওমানে প্রবেশ করেছেন। ওমান পু’লিশ গত ১২ মে মু’সাকে গ্রে’প্তা’র করে। বাংলাদেশ পু’লিশের একটি টিম ওমানে গিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুন) মু’সাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।ডিবি প্রধান বলেন, মু’সাকে না পেয়ে মা’ম’লার ত’দ’ন্তে হিমশিম খাচ্ছিলাম। তবে এনসিবির মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তায় মু’সাকে ওমান থেকে গ্রে’প্তা’র করে দেশে আনা হয়েছে।

Back to top button