জাতীয়

নিরাপদ সড়ক আ’ন্দোলনে নৈরাজ্য: ফখরুলদের আ’দা’লতে হাজিরের নির্দেশ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আ’ন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যু’ক্ত হয়ে ঢাকা শহরে নৈরাজ্য চালানোর অ’ভিযোগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ই’স’লা’ম আলমগীরসহ তিনজনকে আ’দা’লতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ই’মাম প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তাদের আ’দা’লতে হাজির হওয়ার নির্দেশ জারি করেন।অ’ভিযু’ক্ত অ’পর দুইজন হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (১২ জুন) আ’দা’লতের পেশকার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিচারক প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আগামী ১৪ জুলাই তাদের আ’দা’লতে হাজির হওয়ার জন্য এ সমন জারি করেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ই’স’লা’মের আ’দা’লতে মা’ম’লার বাদী এবি সিদ্দিকী আ’সা’মিদের বি’রু’দ্ধে গ্রে’প্তা’রি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থা’নার পু’লিশ পরিদর্শক (ত’দ’ন্ত) মোহাম্ম’দ সেন্টু মিয়া ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আ’সা’মিদের বি’রু’দ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মা’ম’লার অ’ভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছা’ত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) এবং দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব (১৭) নি’হ’ত হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই কলেজের শিক্ষার্থীসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ এবং রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করেন।ঘা’ত’ক বাসচালকের ফাঁ’সির দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চলা, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত এবং হাফ ভাড়ার ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে রাজধানীতে বি’ক্ষো’ভ করেন। পরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এ আ’ন্দোলন।

শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ এ আ’ন্দোলনকে রাজনীতিকরণসহ সারাদেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির জন্য আ’সা’মি মির্জা ফখরুল, আমীর খসরু মাহমুদ ও রিজভী নির্দেশনা বা হুকুম দেন।২০১৮ সালের ৪ আগস্ট আ’সা’মি আমীর খসরু ঢাকা শহরসহ সারাদেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কুমিল্লার নওমী নামের এক কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আ’ন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদলের কর্মীদের নামানো এবং ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি অডিওক্লিপ সেসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাই’রাল হয়। যেখানে শোনা যায়, কুমিল্লায় অবস্থানরত নওমী নামে এক কর্মীর সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। নওমীকে তিনি বলছেন, ঢাকা এসে লোকজন নিয়ে নেমে পড়তে।অ’পরদিকে মির্জা ফখরুল ই’স’লা’ম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর হুকুমে নিরাপদ সড়ক চাই আ’ন্দোলনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রদলের লোকজন ঢুকে পড়ে। এছাড়া তাদের হুকুমে রাজধানীর উত্তরায় আ’ন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রদলের কর্মীদের ঢুকিয়ে এনা পরিবহনের দুটি বাসে অ’গ্নিসংযোগ, জিগাতলায় আওয়ামী লীগ অফিসে ভাঙচুর এবং হা’ম’লা চালিয়ে কর্মীদের আ’হত, মিরপুরে মা’রপিট, হা’ম’লা ও গু’লির ঘটনা ঘটায়।

ওইসব ঘটনায় ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম এইচ এম তোয়াহারের আ’দা’লতে মা’ম’লা’টি করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। আ’দা’লত বাদীর জবানব’ন্দি গ্রহণ করে তেজগাঁও থা’নাকে বিষয়টি ত’দ’ন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন।চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থা’নার পু’লিশ পরিদর্শক (ত’দ’ন্ত) মোহাম্ম’দ সেন্টু মিয়া একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সিআর মা’ম’লা’টি সার্বিক ত’দ’ন্তে, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও দাখিল করা অডিওভ’য়েস রেকর্ড এবং পত্রিকার কাটিং পর্যালোচনায় আ’সা’মিরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আ’ন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যু’ক্ত হয়ে ঢাকা শহরে নৈরাজ্য চালায়।জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নৈরাজ্য কাজে সম্পৃক্ত করতে উস্কানি দেয়। যা পেনাল কোড (ফৌজদারি মা’ম’লার দ’ণ্ডবিধি) ১৫৩/১০৯ ধারায় প্রাথমিকভাবে অ’প’রা’ধ সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।

Back to top button