জাতীয়

সব দেশেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে

নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করতে আইন সংস্কার করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রস্তাব দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে সকল দলের অংশগ্রহণ ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতসহ মোট ১০টি সুপারিশ করেছে।

সোমবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাতে এসব সুপারিশ করা হয়। তাদের এসব সুপারিশের প্রেক্ষিতে সিইসি বলেছেন, সব দেশেই নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই হচ্ছে। ভা’রতেও হচ্ছে, বিলেতেও হচ্ছে, আ’মেরিকাতে হচ্ছে। সরকার কিন্তু সরকার। দল ও সরকার ভিন্ন জিনিস।

মন্ত্রীরা পক্ষপাত করবেন না- এমন শপথ নেন জানিয়ে সিইসি আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থে উনারা (মন্ত্রীরা) নির্বাচনকালীন সরকারে থেকে সরকারের মতোই আচরণ করবেন। একজন মন্ত্রী কিন্তু দলের নয়, সরকারের। আম’রা চাই তারা আমাদের সহযোগিতা করুক।

সোমবার (১৩ জুন) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, সব দেশেই তো দলীয় সরকারের অধীনেই হচ্ছে। ভা’রতেও হচ্ছে, বিলেতেও হচ্ছে, আ’মেরিকাতে হচ্ছে। সরকার কিন্তু সরকার। দল ভিন্ন জিনিস। আম’রা যদি এই বিভাজনটা স্পষ্ট করতে পারি, এই মেসেজটা দিতে পারি, যখন কেবিনেট যেটাকে বলা হয়- রাষ্ট্রপতি থেকে বা প্রধানমন্ত্রী থেকে ডেপুটি.., এটাই কিন্তু মূল সরকার। বাকি যারা আছে সেটা কিন্তু আমলাতন্ত্র। কাজেই যে সরকার যেটা আছে, তারা কিন্তু শপথ নিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবো, সমআচরণ করবো, পক্ষপাতিত্ব করবো না। উনারা বলেন নাই যে আম’রা আমাদের দলকে আগামীতে আরো বেশি করে হেল্প করবো। স্বভাবতই উনারা বলেন না। আমা’র বিশ্বা’স উনারা উনাদের শপথটা জানেন। নির্বাচনের সময় অন্তত একাট সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থে উনারা নির্বাচনকালীন সরকারের থেকে সরকারের মতোই আচরণ করবেন। সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কোনো দলের মন্ত্রী হিসেবে নয়।

নির্বাচনকালীন সরকার স’ম্প’র্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। অ’পজিশন থেকে যে দাবিগুলো করা হচ্ছে এগুলো নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই, যে তত্বাবধায়ক সরকার, যে এই সব বিভিন্ন সরকার, সেটা কিন্তু আমাদের বিষয় নয়। এটা সাংবিধানিক বিষয় পলিটিক্যাল লিডাররা যদি একমত হন তারা দেখবেন। আমা’র কাছে মনে হয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বর্তমানে যে আইন আছে, সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। তার সঙ্গে আমাদের ইন্টারঅ্যাকশন বেড়ে যাবে। একজন মন্ত্রী কিন্তু দলের নয়। আম’রা চাই তারা আমাদের সহযোগিতা করুক।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বর্তমান যে সরকার তার ধরণ পাল্টে যাবে, তখন পলিসি নিয়ে উনারা কাজ করবেন না। পৃথিবীর সব দেশেই এটা আছে। নির্বাচনের কাজে আমাদেরকে সহায়তা করতে হবে।

সিইসি আরো বলেন, আইন কানুন যেটা আছে সরকার আমাদের সহযোগিতা করতে বাধ্য। সকল নির্বাচনে আম’রা সরকারের কাছে সহয়তাগুলো চাইবো এবং অবশ্যই সরকার সে সহযোগিতাগুলো করবে বলে আশাকরি। সহায়তা মূলত পু’লিশ প্রশাসন ও জনপ্রশাসন কেন্দ্রীক আর ডিফেন্স মিনিস্ট্রি। অন্য কোনো মিনিস্ট্রি নিয়ে আমাদের মা’থা ঘামানোর কোনো দরকার নেই। জনপ্রশাসন যেহেতু জে’লা মেজিস্ট্রেট’কে হ্যান্ডেল করেন, তারপর পু’লিশ প্রশাসনকে হ্যান্ডেল করেন হোম মিনিস্ট্রি, আর সশন্ত্র বাহিনীকে যদি ইনভলব করা হয়, তাহলে ডিফেন্স মিনিস্ট্রি লাগবে। আর একই কথা বারবার বলেছিল অসংখ্যকবার, নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হওয়া খুবই প্রয়োজন। যেভাবেই হোক যদি মূল বিরোধী দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে নির্বাচন স্বচ্ছ হোক, অস্বচ্ছ হোক, যাই হোক ওটার কিন্তু গুরুত্ব, গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে যাবে। কারণ ডেমোক্রেসির মূল কথাই হচ্ছে পজিশন এবং অ’পজিশন।

তিনি বলেন, আম’রা নির্বাচনের মাধ্যমে যেটা দেখি সেটা কিন্তু গভমেন্ট নয়। তারপর জয়ী হয়ে যেটা পার্লামেন্টে আসে দ্যাট ইজ পার্ট অব দি গভমেন্ট, লেজিসলেটার এবং লেজিসলেটার কিন্তু যারা বিরোধী দলে থাকেন তারা ট্রেজারি বেঞ্চ। তাদের কাজই হচ্ছে সমালোচনা করা। এই সমালোচনার মাধ্যমেই কিন্তু এক ধরণের জবাবদিহিতা গড়ে ওঠে এবং সতর্কতা হয়। এজন্য আম’রা চাই নির্বাচনটা অংশহগ্রহণমূলক হোক।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, উনাদের বলেছি, আপনারাও যারা পলিটিকস করেন না, পলিটিক্যালস ঊর্ধ্বে একটা অবস্থান আপনাদের আছে। প্রতিদিন যে আক্রমণাত্মক কমেন্টগুলো দিচ্ছে, সেখানে সরিয়ে নিয়ে এসে যদি টেবিলে মুখোমুখি করা যায়, তাহলে আলোচনা হবে গঠনমূলক। টেবিলের বাইরে গিয়ে যদি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য পরস্পর পরস্পরের বি’রু’দ্ধে দেয়, তাহলে কিন্তু দূরত্ব কমবে না। কারণ আম’রা চাচ্ছি নির্বাচনে সকল পার্টি অংশগ্রহণ করুক।

সিইসি আরো বলেন, পু’লিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নির্বাচন যদি স’হিং’সতার কারণে বিঘ্নিত হয়ে যায় আমাদের ক্ষমতা আছে যে কোনো একটি সেন্টার বা নির্বাচনটা বাতিল করে দেবো। আম’রা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবো। বিরুপ পরিবেশ যাতে না হয়, আম’রা চাইবো নির্বাচনে যাতে ভোটাররা যেতে পারে এবং নির্বিঘ্নে যেন ভোট দিতে পারে, সেই খবরটা আম’রা রাখবো। আর প্রচন্ড রকম স’হিং’সতা যদি হয়ে যায়, তাহলে আম’রা ক্ষমতা যেটা রয়েছে, দায়িত্ব রয়েছে আমি বলবো সেই সেন্টার বা কনস্টিটোয়েন্সি (আসন) বাতিল করে দিতে পারবো।

Back to top button