জাতীয়

ইউপি সদস্যের বাড়িতে ফেনসিডিল বার: মা-ছে’লে আ’ট’ক

বাংলানিউজে ভিডিওসহ খবর প্রকাশের পর সেই ইউপি সদস্যের ফেনসিডিলের বারে অ’ভিযান চালিয়ে মা ছে’লেকে আ’ট’ক করেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থা’না পু’লিশ।সোমবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ উপজে’লার গোড়ল ইউনিয়নের মালগাড়া গ্রাম থেকে তাদের আ’ট’ক করা হয়।

আ’ট’করা হলেন- কালীগঞ্জ উপজে’লার গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাদশা মিয়ার স্ত্রী’ স্বপ্না বেগম (৪৪) ও তার ছে’লে শাহিন আলম (২০)। তারা মালগাড়া গ্রামের বাসিন্দা।এর আগে রোববার (১২ জুন) বাংলানিউজে “ইউপি সদস্যের বাড়িতেই ফেনসিডিলের বার!” শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কালীগঞ্জ থা’নার উপ পরিদর্শক (এসআই) মৃগেন্দ্র নাথ বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিজ বাড়ির পাশের একটি বাড়ি থেকে তাদের আ’ট’ক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছে ১১১টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫ বোতল ফেনসিডিল উ’দ্ধা’র করা হয়েছে। মুলহোতা ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের বি’রু’দ্ধে কালীগঞ্জ থা’নায় মা’দ’কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মা’ম’লা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিস্তারিত তথ্য মঙ্গলবার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় পু’লিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হবে।স্থানীয়রা জানান, ভা’রতীয় সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম মালগাড়া চো’রাচালানের আখড়া। এখানে সব থেকে বেশি পাচার হচ্ছে মা’দ’ক। বিভিন্ন ধরনের মা’দ’কের মধ্যে স্থানীয় মা’দ’কসেবীদের কাছে বেশি পছন্দ ফেনসিডিল। সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসায় জ’ড়ি’ত বাদশা মিয়া। ব্যবসা ঠিক রাখতে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে গোড়ল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
জনপ্রতিনিধির লেবাসে চলছে মা’দ’ক ব্যবসা। খুচরা-পাইকারি দুই রকম ব্যবসাই রয়েছে তার। ভা’রতীয় ব্যবসায়ীরা বড় চালান পাচার করে সোজা বাদশার বাড়িতে পাঠান। সেখান থেকে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায় এসব মা’দ’ক।

দীর্ঘদিন এ ব্যবসার সঙ্গে জ’ড়ি’ত থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকেও হাত করে ফেলেছেন বাদশা মিয়া। তাই মা’দ’কবিক্রেতা ও পরিবহনকারীরা প্রায় দিন প্রশাসনের হাতে আ’ট’ক হলেও বড় ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া রয়েছেন ধ’রা-ছোঁয়ার বাইরে। অ’বৈ’ধ কোনো সুবিধার বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করছে বলে স্থানীয়দের অ’ভিযোগ।
চাহিদা বিবেচনায় স্থানীয় মা’দ’কসেবীদের জন্য নিজ বাড়িতেই ফেনসিডিলের বার খুলেছেন ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া। তার বিশাল বাড়ির বারান্দায় বসার ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রতিনিয়ত মা’দ’কসেবীরা তার বাড়িতেই ভিড় জমান। হাতের কাছে নিরাপদ মা’দ’ক সেবনের ব্যবস্থা পেয়ে উঠতি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কি’শোর-তরুণ ছুটছে ওই ফেনিডিলের বারে। এভাবেই নষ্ট হচ্ছে এলাকার তরুণ সমাজ। যুবসমাজ রক্ষায় অ’বৈ’ধ এ বার বন্ধ করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কা’মনা করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।

ইউপি সদস্য বাদশার স্ত্রী’ স্বপ্না বেগম নিজেই তার বাড়িতে ফেনসিডিল বারে চাহিদামত ফেনসিডিল পরিবেশন করেন। ফেনসিডিল সেবনে যা প্রয়োজন সবই রয়েছে তাদের টেবিলে। ১০০ মিলিগ্রাম এক বোতল ফেনসিডিলের খুচরা দাম ধ’রা হয় এক হাজার থেকে ১১শ টাকা। যার যত গ্রাম দরকার, তাকে তত গ্রাম গ্লাসে ঢেলে দিয়ে টাকা নেন।ইউপি সদস্যের বাড়িতে মা’দ’ক সেবনে প্রশাসনের ঝামেলা নেই- এটা ভেবে মা’দ’কসেবীদের বর্তমান নিরাপদ বার ইউপি সদস্য বাদশার বাড়ি। স্থানীয়দের এমন অ’ভিযোগে সোর্স নিয়োগ পাঠিয়ে ফেনসিডিল বিক্রি ও বারে খুচরা বিক্রির একাধিক ভিডিও আসে বাংলানিউজের এ প্রতিবেদকের হাতে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি সদস্য বাদশার স্ত্রী’ স্বপ্না বেগম টাকা নিয়ে নিজেই পাশের রুম থেকে ফেনসিডিল এনে টেবিলের গ্লাসে পরিবেশন করছেন। পুরো বোতল নয়, বোতলের অর্ধেক বা এক চতুর্থাংশ ফেনসিডিল সেবন করারও ব্যবস্থা রয়েছে। যত টাকা, ততটুকুই গ্লাসে পরিবেশন করা হয়।ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি সদস্যের স্ত্রী’ স্বপ্না বেগম এক দিন ২০ টাকা কম পাওয়ায় সোর্সের সঙ্গে খা’রা’প আচরণ করেন।
সোর্স বলেন, এখানে প্রশাসন আসে না?স্বপ্না বেগম বলেন, এটা মেম্বারের বাড়ি। এখানে প্রশাসনের ক্ষমতা আছে? ম্যাজিস্ট্রেট হলে সমস্যা।
একদিন সোর্স দাম কম দেওয়ায় খা’রা’প আচরণ করেন স্বপ্না বেগম। তখন স্বপ্না বেগম বলেন, আজ দাম বাড়ায় ৫০০ মাল ফেরত দিয়েছি। যেখানে কম পাবেন, সেখানে যান। এখানে আসছেন কেন? ইনটেক খান, খোলা খাবেন কেন?

সোর্স বলেন, মেম্বারের বাড়ি, এখানে নিরাপত্তা বেশি। সেজন্য আসি।
দ্বিতীয় দফায় সোর্স ফেনসিডিলের টাকা সরাসরি ইউপি সদস্য বাদশা মিয়ার হাতে দেওয়ার সময় বিগত দিনে স্ত্রী’র খা’রা’প আচরণের বর্ণনা দেন। যা শুনে তিনি (বাদশা) তার স্ত্রী’কে বিষয়টি নিয়ে শাসন করেন। বলেন, ২০ টাকার জন্য তোকে এ কথা বলতে হবে কেন?

নগদ টাকা না থাকায় অন্য একদিন সোর্স অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথা বললে স্বপ্না বেগম একটি মোবাইল ফোন নম্বর দেন। ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হলেই কেবল ফেনসিডিল পরিবেশন করেন তিনি। ওই নম্বরটিতে কল করলে আনোয়ার নামে একজন ফোন ধরে বলেন, বাদশা মেম্বারকে চিনি, তবে এটা তার নম্বর নয়। মূলত সরাসরি নিজেদের নম্বর না দিয়ে এ কাজের জন্য অনলাইন ব্যাংকিংয়ের এক এজেন্টের নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অ’ভিযোগ উঠেছে।তবে এসব বিষয় অস্বীকার করে গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাদশা মিয়া বলেন, কার সঙ্গে কথা বলছ? আমাকে চিন? কথাবার্তা ভালো করে বলবা।

এ বিষয়টি নিয়ে রোববার (১২ জুন) বাংলানিউজে ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় ভাই’রাল হলে জে’লা পু’লিশ ওই অ’বৈ’ধ ফেনসিডিল বার ভে’ঙে দিতে দফায় দফায় অ’ভিযান চালায়। মুলহোতা ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া আত্মগো’প’ন করেন। সোমবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় গো’প’ন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থা’না পু’লিশ অ’ভিযান চালিয়ে ওই গ্রাম থেকে ইউপি সদস্যের স্ত্রী’ স্বপ্ন বেগম ও তার ছে’লে শাহিন আলমকে আ’ট’ক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১১টি ইয়াবা ও ২৫ বোতল ফেনসিডিল উ’দ্ধা’র করা হয়। এ ঘটনায় মা’দ’কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মা’ম’লা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Back to top button