জাতীয়

৬ মাস গরুর সঙ্গে গোয়ালঘরে রাখলেও ছে’লেদের ছাড়িয়ে আনলেন সেই মা’ই

অনেক ক’ষ্টে ছে’লেদের বড় করে তুলেছেন মা। কিন্তু স্ত্রী’ পেয়ে ছে’লেরাই মাকে গরুর সঙ্গে রেখেছিলেন গোয়ালঘরে। ঠিকমতো দিতেন না খাবারও। এভাবেই কে’টে যায় প্রায় ছয় মাস। অবশেষে বিষয়টি নজরে এলে সেই মাকে উ’দ্ধা’র করে পু’লিশ। আ’ট’ক করা হয় ছে’লেদেরও। অথচ ছে’লে আর পুত্রবধূদের ছাড়িয়ে আনলেন মা-ই। এ ঘটনাটি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজে’লার চারিগ্রাম ইউনিয়নের। গতকাল সোমবার বিকেলে ৮৫ বছর বয়সী মা আয়োশা বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই ছে’লে ও তাদের স্ত্রী’দের জামিন মঞ্জুর করে আ’দা’লত।

এ বিষয়ে চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাজেদুল আলম স্বাধীন বলেন, বৃদ্ধা আয়েশা বেগমকে দেখার মতো আর কেউ নেই। তাই এলাকার মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে ছে’লে কালাম মিয়া, মোস্তফা কা’মাল ও পুত্রবধূ ম’র্জিনা আক্তারের জামিন করানো হয়েছে। জামিন শুনানির সময় আ’দা’লতে মা আয়েশা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে মায়ের সঙ্গে কোনো খা’রা’প আচরণ করবেন না বলেও অঙ্গিকার করেছেন ছে’লে ও ছে’লেদের স্ত্রী’রা। ঠিকমতো সেবাযত্ন ও দেখভাল করবেন। ১২ জুন রাতে দুই ছে’লে ও পুত্রবধূদের নামে সিংগাইর থা’নায় মা’ম’লা করেন আয়েশা বেগম। রাতেই পু’লিশ তাদের গ্রে’প্তা’র করে থা’নায় নিয়ে যায়। সোমবার দুপুরে তাদের আ’দা’লতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সিংগাইর থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) সফিকুল ই’স’লা’ম মোল্ল্যা জানান, চারিগ্রাম গ্রামের ওই মাকে তার ছে’লে ও পুত্রবধূরা প্রায় ছয় মাস ধরে গোয়ালঘরে গরুর সঙ্গে রেখেছিলেন। ঠিকমতো খাবার দিতেন না। খা’রা’প আচরণ করতেন। প্রতিবেশীরা তাকে খাবার দিলে এবং সেবাযত্ন করতে গেলে তাদের সঙ্গেও খা’রা’প ব্যবহার করতেন ছে’লে ও তাদের স্ত্রী’রা।

পরে ঘটনাটি পু’লিশ সুপারকে জানায় স্থানীয়রা। এরপর রোববার বিকেলে ওই বৃদ্ধাকে গোয়ালঘর থেকে উ’দ্ধা’র করে পু’লিশ। একই সঙ্গে দুই ছে’লে ও স্ত্রী’দের আ’ট’ক করা হয়। এ ঘটনায় রোববার সকালে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে ছে’লে মো. কালাম মিয়া, মোস্তফা কা’মাল এবং পুত্রবধূ ম’র্জিনা আক্তার ও বিলকিস আক্তারকে আ’সা’মি করে থা’নায় মা’ম’লা করেন ওই বৃদ্ধা। পরে আ’সা’মিদের আ’দা’লতে পাঠানো হয়।

এ সময় ওসি সফিকুল ই’স’লা’ম আরো জানান, এলাকাবাসীর অনুরোধে পরে মা-ই আ’দা’লতে ছে’লে ও পুত্রবধূদের জন্য জামিন আবেদন করেন। পরে আ’দা’লত তাদের জামিন মঞ্জুর করে।

Back to top button