জাতীয়

পরীক্ষার খাতায় ‘এমপি আনার গ্রুপ’ লেখা সেই ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৪ শিক্ষার্থী ফেল

‘‘আম’রা ছাত্রলীগ, যেখানে যাব সেখানেই বুলেট। রোজা থেকে পরীক্ষা দিচ্ছি, গোল্ডেন এ প্লাস পাবো। পরীক্ষার খাতায় গ্রুপের জায়গা লিখে দিয়েছি, ‘‘এমপি আনার গ্রুপ’’ (স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার)। স্যাররা এ প্লাস না দিলে বোর্ডমোড ভে’ঙে ফেলবো।’’ পরীক্ষার হল থেকে ফেসবুক লাইভে এসে কথাগুলো বলছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজে’লা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন ওরফে সুমন। তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রিজম কম্পিউটার একাডেমির কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ের ছয় মাসমেয়াদি কোর্সের শিক্ষার্থী।

গত ৮ এপ্রিল ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মনির হোসেনসহ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা ওই কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি ৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের জন্য লাইভে আসেন। এবার সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আবদুর রহমানের সই করা ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, মনির হোসেনকে বহিষ্কারের পাশাপাশি প্রিজম কম্পিউটার একাডেমির বাকি ১৪ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

সেদিন ফেসবুক লাইভে মনির হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের পরীক্ষা চলছে, সবাই লিখছে আমি বসে আছি। সবাই লিখছে বাংলায়, আমি তো বাংলায় লিখি না, ইংলিশে লিখি। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পরীক্ষার হলে ফেসবুকে লাইভ করব। সেই ইচ্ছা আজ পূরণ হলো। ম্যাডামও দেখি আমাকে ভিডিও করছে। স্যাররা ঘুমাচ্ছে, আমি ইংরেজিতে লিখেছি, সালামও লিখেছে।’’

একপর্যায়ে পাশের শিক্ষার্থীর কাছে মনির হোসেন জানতে চান, ‘‘দেখি, তুই কী লিখেছিস?” তখন ভিডিওতে দেখা যায়, সে লিখেছে, “না লিখে আম’রা এ+ পেতে চাই।” লাইভে ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেন, ‘‘ওই পাশে একটা খালা পরীক্ষা দিচ্ছে। আমাদের ভিডিও ভাইস চেয়ারম্যান দেখছে, ভাইস চেয়ারম্যান মন্তব্যে লিখেছে , গল্প না করে তোরা খাতায় লেখ। এমপি সাহেবও দেখছেন নাকি, তিনি আর ভাইস চেয়ারম্যান এক মোটরসাইকেলে আছেন।’’

লাইভে অন্যদের উদ্দেশে মনির হোসেন বলেন, ‘‘কী সুন্দর পরীক্ষার হল, পরীক্ষা দিচ্ছি। অ্যাই, তোরা তো জীবনে পরীক্ষা দিতে পারবিনে, এই দেখ সালামও আছে। পরীক্ষার হলে লাইভে আছি, আমা’র প্রা’ণের সংগঠন কালীগঞ্জ উপজে’লা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অ’ভিনন্দন। এ প্লাস তো পাবই, ম্যাডাম’রা সবই বলে দিচ্ছে। পরীক্ষার খাতায় গ্রুপের জায়গা লিখে দিয়েছি, ‘এমপি আনার গ্রুপ’। জয়ও তাই লিখেছে।’’ লাইভের একপর্যায়ে তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত এক শিক্ষিকাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘‘ম্যাডাম, আপনি কিছু বলেন আমা’র লাইভে?’’

এ সময় পরীক্ষার হলে অর্ধশত শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা মনির প্রিজম কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র নামের যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন সেখানকার শিক্ষক সমির দাস ও তার সহযোগী নওরিন আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষার হল থেকে এভাবে ফেসবুক লাইভে আসায় অনেকেই সমালোচনা করেন। একপর্যায়ে ফেসবুক থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেন মনির হোসেন।

এ ঘটনা ত’দ’ন্তে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান ইনস্ট্রাক্টর সোহরাব হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ত’দ’ন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়। সেখানে মনির হোসেনের পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে ঘটনার রাতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্জ কালীগঞ্জ উপজে’লা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করেন।

 

Back to top button