জাতীয়

৫২ কেন্দ্রের ফল ঘোষণা, পিছিয়ে নৌকা প্রার্থী

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ৫২টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত (নৌকা মা’র্কা) পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩১৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি প্রতীক) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৫ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্ম’দ নিজামউদ্দিন (ঘোড়া মা’র্কা) পেয়েছেন ১৩ হাজার ৩৩৭ ভোট।

নির্বাচন চলাকালে কেন্দ্র দখল বা বড় ধরনের প্রভাব বিস্তারের ঘটনা নেই। স’হিং’সতার খবরও পাওয়া যায়নি। সেদিক থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের প্রথম ভোট বেশ ভালো’ভাবেই সম্পন্ন করল। কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার শাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। স’হিং’সতার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ, স্থানীয় প্রভাব খাটানো এবং বহিরাগত হিসেবে ভোট’কেন্দ্র এলাকায় প্রবেশ করার দায়ে ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ’ণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে আজ বুধবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মা’থায় বৃষ্টি শুরু হয়। এতে সমস্যায় পড়েন ভোটাররা। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভোট কেন্দ্রে আসতে থাকেন। বেলা ১০টার দিকে বৃষ্টি থামে। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

কোনো কোনো ভোটার তাদের আঙুলের ছাপ ইভিএমে মেলেনি বলে অ’ভিযোগ করেন। তাছাড়া ইভিএমে ভোটগ্রহণে ধীরগতির অ’ভিযোগ ছিল। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ’পেক্ষা করে ভোট দিয়েছেন। কেউ কেউ ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন। এই ধীরগতির কারণে ভোট শেষ হওয়ার পূর্বঘোষিত সময়সীমা বিকেল ৪টার পরও ভোটগ্রহণ করা হয়।

সমকাল প্রতিবেদক অমিতোষ পাল, কা’মাল উদ্দিন, যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ও সমকালের কুমিল্লা প্রতিনিধি কা’মাল উদ্দিন নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন। সারাদিন তারা বিভিন্ন ভোট’কেন্দ্রে সরেজমিনে ঘুরেছেন। তারা জানান, ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটগ্রহণে ধীরগতির কারণে বিকাল ৪টার পরও কিছু কেদ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে ৪টার সময় যারা ভোট দিতে কেন্দ্রে অ’পেক্ষমাণ ছিলেন তাদেরই শুধু ভোট নেওয়া হয়। নতুন করে কাউকে ভোট দিতে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের এটি তৃতীয় নির্বাচন। এবারই কুমিল্লায় প্রথম ইভিএমে ভোট হলো। এর আগে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সিটির দ্বিতীয় নির্বাচন হয় ২০১৭ সালের ৩০ মা’র্চ। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পাঁচজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় বেশি আওয়ামী লীগের আরফানুল হক রিফাত (নৌকা প্রতীক) এবং গত দুইবারের মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর (টেবিল ঘড়ি প্রতীক) নাম। এই দুজনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

অন্য তিনজন হলেন- ই’স’লা’মী আ’ন্দোলন বাংলাদেশের রাশেদুল ই’স’লা’ম (হাত পাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্ম’দ নিজামউদ্দিন (ঘোড়া) ও কা’ম’রুল আহসান (হরিণ)। এরমধ্যে মনিরুল হক বিএনপির এবং নিজামউদ্দিন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছিলেন। বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদের দুজনকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৬ জন ও সংরক্ষিত না’রী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রার্থী ল’ড়াই করছেন। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি ভোট’কেন্দ্রে ৬৪০টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে না’রী ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন। তৃতীয় লি’ঙ্গের ভোটার দুইজন।

 

Back to top button