জাতীয়

বিএনপির সম্মেলন কবে হবে?

২০১৪ সালে তিন বছরের জন্য উপজে’লা ও পৌর বিএনপির কমিটি হয়। দেশের বৃহত্তম এ দলটি তাদের সহযোগী সংগঠন (ছাত্র-যুব-সেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল ও শ্রমীক দলের) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজে’লায় বছরের পর বছর পার হলেও সম্মেলন না হওয়ায় নতুন পদ প্রত্যাশীদের হতাশা বাড়ছে দিন দিন। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে এবং কমিটি হবে সেটিও নিশ্চিত নয় কেউ।

দলের এমন অবস্থায় হতাশ তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ। অনেক নেতাকর্মী মা’ম’লা-হা’ম’লার ভ’য়ে বিদেশ চলে গেছেন।

চলতি বছরে মা’র্চ মাসে জে’লা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে রায়পুরের চার নেতা মনিরুল ই’স’লা’ম হাওলাদার, নাজমুল ই’স’লা’ম মিঠু, এবিএম জিলানী ও আবদুজ জাহের মিয়াজিকে সদস্য করা হয়।

২০১৭ সাল থেকে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক ও কৃষক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। এতো বছরেও সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করতে পারছেন না সংগঠনের হাইকমান্ড। প্রায় চার মাস আগে বিএনপি ও যুবদলের কয়েক নেতা জে’লা কমিটিতে স্থান পান বলে জানান নেতারা।

বিএনপির কমিটি নেই নয় বছর:
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে অ্যাডভোকেট মনিরুল ই’স’লা’ম হাওলাদারকে সভাপতি ও নাজমুল ই’স’লা’ম মিঠুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের উপজে’লা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। একই সময়ে সাবেক মেয়র এবিএম জিলানীকে সভাপতি ও আবদুজ জাহের মিয়াজিকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের পৌর বিএনপির কমিটিও করা হয়েছিল ।গত তিন মাস আগে জে’লা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে রায়পুরের নেতা মনিরুল ই’স’লা’ম হাওলাদার, নাজমুল ই’স’লা’ম মিঠু, এবিএম জিলানী ও আবদুজ জাহের মিয়াজি সদস্য হয়েছে।

ছাত্রদলের কমিটি নেই ৬ বছর:
২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ৩ বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। এতে মো. মামুন সরদারকে সভাপতি ও রেজোয়ানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের কমিটি করা হয়। একই বছরে মো. ফয়সালকে সভাপতি ও মো. ফিরোজকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের উপজে’লা কমিটি করা হয়েছিল। একই বছরে নভেম্বরে ফজলে রাব্বিকে আহ্বায়ক ও সুজনকে যুগ্মআহবায়ক করে সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটি করা হয়। কিন্তু তারা দুইজনই বিদেশে অবস্থান করায় তা বিলুপ্ত।

যুবদলের কমিটি ৭ বছর:
২০১৫ সালে ইকবাল পাটোয়ারীকে সভাপতি ও মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের পৌরসভা কমিটি দেওয়া হয়। একই বছরে শফিকুল আলম আলমাসকে সভাপতি ও এম’রান হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যের উপজে’লা কমিটিও দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের গত ৮ জুন রায়পুরের যুবদলের নেতা এম’রান, ইকবাল, মামুন, ফরহাদ ও ছাত্রদলের সুজন পাটোয়ারীকে জে’লা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করে।

সেচ্ছাসেবকদলের কমিটি ৮ বছর:
২০১৫ সালের আগস্ট মাসে উপজে’লা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন হয়। এতে কাউছার আলমকে সভাপতি ও অহিদ মৈশালকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যের কমিটির করা হয়। পরে সাবেক সাংসদ আবুল খায়ের ভুঁইয়ার অনুসারী ছাত্রদলের সভাপতির পদে থাকা অবস্থায় ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর মো. ফয়সালকে উপজে’লা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও আরিফুর রহমানকে যুগ্মআহ্বায়ক করে ৩১ সদস্যের কমিটি দেওয়া হয়। প্রায় ৬ বছর পর ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর রিপন মিয়াজিকে আহ্বায়ক ও মো. বিপ্লবকে যুগ্মআহবায়ক করে ৩১ সদস্যের কমিটি দেওয়া হয়।

কৃষকদলের কমিটি ১২ বছর:
২০১০ সালে উপজে’লা কমিটি ও পৌরসভা’র কমিটি গঠন করা হয়। এতে নুরুল আমিন বেপারি সভাপতি ও জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক করে উপজে’লা এবং মো. খোকন সভাপতি ও সানা উল্লাহ সানাকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌরসভা কমিটি গঠন করা হয়। গত ১২ বছরেও সম্মেলন হয়নি ও কমিটি হয়নি।

রায়পুরের বাসিন্দা ও দলের কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক ড. মোহাম্ম’দ আশরাফুল আলম জিমি বলেন, দেশের এ মুহুর্তে সঠিক নেতৃত্বে দিয়ে রায়পুর উপজে’লা ও পৌর কমিটি ঢেলে সাজানোর প্রতাশা। এই সহযোগী সংগঠন স’ম্প’র্কে কোনো নেতাই সম্পুর্ণ-তথ্য দিতে পারেননি।

বিএনপিসহ তাদের সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় নেই ২০ বছর। অ্যাডভোকেট মনিরুল ই’স’লা’মের নিজস্ব কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পদ প্রত্যাশীদের দাবি, দীর্ঘদিনেও সম্মেলন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে না এ গুরুত্বপুর্ণ এ উপজে’লায়। অবিলম্বে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার দাবি জানান তারা।।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, চার মাস আগে জে’লা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে রায়পুর উপজে’লা ও পৌর বিএনপির চার নেতাকে সদস্য করা হয়। যুবদলের কয়েক নেতাকেও জে’লা কমিটিতে রাখা হয়। পৌর ও উপজে’লা বিএনপিসহ সকল সহযোগী সংগঠনের কমিটি সহসাই দেওয়া হবে। যারা দলের মধ্যে গ্রুপিং করেন। তারা দেউলিয়া। দলকে সাংগঠনিকভাবে চাঙা করার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

Back to top button