জাতীয়

‘হলি আর্টিজানে হা’ম’লার পর ঘুরে না দাঁড়ালে পদ্মা সেতু হতো না’

হলি আর্টিজানে জ’ঙ্গি হা’ম’লার পর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেলের মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা যেত না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পু’লিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ই’স’লা’ম।হলি আর্টিজানে হা’ম’লার সময় জি’ম্মিদের উ’দ্ধা’রে অ’ভিযানে নি’হ’ত দুই পু’লিশ কর্মক’র্তার স্ম’রণে নির্মিত ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্যে শুক্রবার শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে স’ন্ত্রা’সী হা’ম’লার ছয় বছর পূর্তিতে নি’হ’ত দেশি-বিদেশিদের গভীর শ্রদ্ধায় স্ম’রণ করেন ডিএমপি কমিশনার।সকাল ১১টায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুরাতন গুলশান থা’নার ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্যে নি’হ’তদের স্ম’রণে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তিনি। এছাড়াও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রে’বের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের মহাপরিচালক মো. কা’ম’রুল আহসান, বাংলাদেশ পু’লিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এসবির মহাপরিচালক মো. মনিরুল ই’স’লা’মসহ পু’লিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তা এবং ঢাকায় নিযু’ক্ত মা’র্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসসহ বিদেশি কূটনীতিকরা।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে শহিদের স্ম’রণে ডিএমপি কমিশনার বলেন, হলি আর্টিজানের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে যদি আম’রা ঘুরে দাঁড়াতে না পারতাম তাহলে আজ যে পদ্মা সেতু দেখছি, মেট্রোরেল দেখছি তা কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারতাম না। তখন হয়ত দেশের চিত্রটা অন্যরকম হতো; ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে কোনো বিদেশি টেকনিশিয়ান-ইঞ্জিনিয়ার জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে বাংলাদেশে আসত না।

তিনি বলেন, নব্য জেএমবির সদস্যদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকলেও হলি আর্টিজানের ঘটনার পর ধারাবাহিক অ’ভিযানে জ’ঙ্গিদের রুখে দিতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।দেশে এখনো জ’ঙ্গি তৎপরতা রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এখনো কিন্তু তাদের তৎপরতা মাঝে মাঝে চোখে পড়ছে। আম’রা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতে মনিটর করছি।মাঝে মাঝে কিন্তু আপনারা দেখবেন, আমাদের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ), আমাদের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) বিভিন্ন জে’লায় অ’ভিযান চালিয়ে এই জ’ঙ্গিদের গ্রে’প্তা’র করছে। তাদের যে নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা সেটা শুরুতেই আম’রা নস্যাৎ করে দিচ্ছি।’

শফিকুল ই’স’লা’ম বলেন, ‘বাংলাদেশে জ’ঙ্গিবাদের বিস্তার আ’ফ’গা’ন ফেরত মুজাহিদদের হাত ধরে। এরপর যখন ই’রাকে আ’ই’এ’সের তৎপরতা শুরু হল তখন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের কিছু মানুষ কানাডাফেরত তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে দলবদ্ধ হল।’হলি আর্টিজান পরবর্তী সময়ে পু’লিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যু’ক্তরাষ্ট্রকে পাশে পাওয়ার কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘হলি আর্টিজানে হা’ম’লার পর বাংলাদেশ পু’লিশ জ’ঙ্গি দমনের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট নামে বিশেষায়িত ইউনিট তৈরি করে। ওই ইউনিটের বেশিরভাগ সদস্য যু’ক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছে।সেখান থেকে অ’স্ত্র ও তাদের যে প্রটেকটিভ গিয়ার সেগুলোও যু’ক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের সরবরাহ করেছেন। এসব সরঞ্জাম পাওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে আমাদের সিলেট, মৌলভীবাজার এমনকি খুলনা বিভাগেরও কয়েকটি জে’লাসহ যেখানেই আম’রা খবর পেয়েছি… পুরো জ’ঙ্গি নেটওয়ার্কে তখন যারা ছিল আম’রা তছনছ করে দিয়েছি।’

মা’র্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘হলি আর্টিজান বেকারির হা’ম’লা পরবর্তী ছয় বছরে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে এবং দেশের মানুষকে নিরাপদ করতে বাংলাদেশে যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়েছে, সেজন্য আমি তাদের অ’ভিনন্দন জানাতে চাই। এই সফলতার পুরো ভাগীদার বাংলাদেশ। তবে আমা’র ভালো লাগছে যে, এসবের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকতে পেরেছে যু’ক্তরাষ্ট্র।’

২০১৬ সালের ১ জুলাই আজকের এই দিনে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জ’ঙ্গিরা ভ’য়াবহ হা’ম’লা চালায়। এতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশের দুই কর্মক’র্তাসহ দেশি-বিদেশি ২২ জন নিরীহ নাগরিক নি’হ’ত হন। এই স’ন্ত্রা’সী হা’ম’লা প্রতিহত করতে গিয়ে নি’হ’ত হন ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশের দুই নির্ভীক কর্মক’র্তা সিনিয়র সহকারী পু’লিশ কমিশনার মো. রবিউল করিম ও বনানী থা’নার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন খান।

তাদের স্ম’রণে ও হলি আর্টিজান বেকারিতে স’ন্ত্রা’সী হা’ম’লায় পু’লিশের আত্মত্যাগকে স্ম’রণ করতে পুরাতন গুলশান থা’নার সামনে ২০১৮ সালের ১ জুলাই ‘দীপ্ত শপথ’ নামে একটি ভাস্কর্য উদ্বোধন করেছিলেন ডিএমপি কমিশনার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে জ’ঙ্গি হা’ম’লার সর্ববৃহৎ এ ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের ১ জুলাই। সেদিন ছিল শুক্রবার। রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের হলি আর্টিজান বেকারিতে পাঁচজনের একটি জ’ঙ্গি দল উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর অ’তর্কিত হা’ম’লা চালায়। সেদিন হলি আর্টিজান বেকারির ভেতরে হা’ম’লাকারীদের নৃ’শং’সতার বলি হন দেশি-বিদেশি মোট ২০ জন নাগরিক। এদের প্রত্যেককেই কু’পিয়ে, গু’লি করে নি’র্ম’মভাবে হ’ত্যা করে জ’ঙ্গিরা।

সেদিনের হা’ম’লায় নি’হ’ত ২০ জনের একজন ছিলেন ভা’রতীয় নাগরিক। তার নাম তারিশি জৈন। নি’হ’তদের নয়জন ছিলেন ইতালির নাগরিক, যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতে কাজ করতেন। তারা হলেন নাদিয়া বেনেডেট্টি, ক্লদিও ক্যাপেলি, ভিনসেনজো ডি অ্যালেস্ট্রো, ক্লদিয়া মা’রিয়া ডি, অ্যান্টোনা, সিমোনা মন্টি, অ্যাডেলে পুগলিসি, ক্রিস্টিয়ান রসি, মা’রিয়া রিবোলি ও মা’র্কো টোনডাট। বাকি সাতজন জা’পানি নাগরিক, যারা ঢাকায় এসেছিলেন বিশেষজ্ঞ হিসাবে, ঢাকার তীব্র ট্রাফিক জ্যাম নিরসনে সহায়তা করতে। তারা হলেন হিদেকি হাশিমোতো, নোবুহিরো কুরোসাকি, কোয়ো ওসা’সাওয়ারা, মাকোতো ওশামুরা, ইয়োকু সাকাই, রুই শিমোদাই’রা ও হিরোশি তানাকা।

এদিকে নি’হ’ত সাত জা’পানি নাগরিকের মধ্যে ছয়জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষার কাজে সে সময় ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।রাতভর এই নারকীয় হ’ত্যাযজ্ঞের পর পু’লিশ ও সে’নাবাহিনীর প্রতিরোধ অ’ভিযানে ৩২ জনকে জীবিত উ’দ্ধা’র করা হয়। যার মধ্যে প্রথমে পু’লিশের অ’ভিযানে উ’দ্ধা’র হয় ২ জন বিদেশিসহ ১৯ জন, এরপর সে’নাবাহিনীর অ’ভিযানে উ’দ্ধা’র হয় দেশি-বিদেশি মোট ১৩ জন।

Back to top button