জাতীয়

শিক্ষককে পি’টি’য়ে হ’ত্যা, ৫ দিন পর খুলছে সেই কলেজ

আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী কলেজ খুলছে আগামীকাল শনিবার। ওই কলেজের শিক্ষক উৎপল হ’ত্যাকণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পু’লিশ সুপার (এসপি) মা’রুফ হোসেন সরদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আ’ন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মনে করছেন তাদের সঙ্গেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। আসলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগ নেই। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নির্ভ’য়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পু’লিশ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, পু’লিশ বর্তমানে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখতে সর্বোচ্চ কাজ করছে। পু’লিশের একটি টহল টিম স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত থাকবে। যদি কোথাও কোনো ইভটিজার থাকে, তাহলে পু’লিশকে দ্রুত জানাতে হবে। যাতে তাদের বি’রু’দ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষক উৎপল হ’ত্যার ন্যায্য বিচার হবে। প্রভাবশালীদের চাপে এখানে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবের কোনো সুযোগ নেই। এ সুযোগ অ’তীতেও ছিল না। আ’সা’মি জিতুর বয়স আম’রা বার্থ সার্টিফিকেট অনুযায়ী ত’দ’ন্ত জমা দেব। এখানে কোনো স’ন্দেহ নেই।

এ সময় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক শফিকুল ই’স’লা’ম বলেন, আম’রা লক্ষ্য করেছি অ’ভিভাবকরাও শিক্ষকদের সঙ্গে খা’রা’প আচরণ করেন। আমা’রা এসব ব্যবহারে ব্যথিত হই। আম’রা চাই শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ’ভিভাবকের ত্রিমুখী স’ম্প’র্কের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর হোক।

শিক্ষিকা তানিয়া আক্তার বলেন, আম’রা সবসময় আতঙ্কে থাকি। আম’রা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে বাসায় ফিরতে পারবো কিনা এ নিয়ে সংশয় থাকি। যে পরিমাণে ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটছে এর প্রতি পু’লিশের নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই।

ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক ইলিয়াস শাহী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধানের জন্য পু’লিশ প্রশাসন যাতে প্রতিদিন একবার হলেও এই প্রতিষ্ঠানে পু’লিশ টহল দেয়।

অধ্যক্ষ সাইফুল ই’স’লা’ম বলেন, শিক্ষক উৎপল হ’ত্যা ছিল মধ্যযুগীয় সব চেয়ে আ’লো’চি’ত বর্বরতা। কারণ যিনি শিক্ষা দান করেছেন তাকেই হ’ত্যা করা হয়েছে। এ রকম হলে গোটা পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসবে। তাকে এমন ভাবে পিটানো হয়েছে, কলিজা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, কিডনি অচল হয়ে গিয়েছিল। স্ক্রিনে দেখেছি তিনি মৃ’ত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছেন। এটি অ’ত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন মানুষ মা’রা যেতেই পারে। কিন্তু এভাবে মৃ’ত্য কা’ম্য নয়। সামান্য স্বার্থের জন্য ছাত্ররা তাকে হ’ত্যা করবে কেন? গত বছরও তাকে পাথর মে’রেছিল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার (ক্রা’ই’ম অ্যান্ড অ’পস্) মো. হু’মায়ন কবির, অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার সাভা’র সার্কেল শাহিদুল ই’স’লা’ম, আশুলিয়া থা’নার ওসি কা’ম’রুজ্জামান, থা’নার পু’লিশ পরিদর্শক (ত’দ’ন্ত) জিয়াউল ই’স’লা’মসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

Back to top button