জাতীয়

একই রাস্তায় এর আগেও প্রা’ণ হারায় ছোট ছে’লে ও ভাই

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মহাসড়ক পারাপারের সময় ট্রাকচাপায় মায়ের মৃ’ত্যুর ঘটনায় পেট ফেটে বের হওয়া সেই শি’শুটিকে নিয়ে সরব যোগাযোগমাধ্যম। বর্তমানে শি’শুটি মহানগরীর পাড়া লাবিব হাসপাতা’লে সুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। তবে এ দু’র্ঘ’ট’নায় মা-বাবা ও বোনকে হারায় হতভাগ্য নবজাতকসহ আরো দুই শি’শু। স’ম্প’র্কে তারা ভাই-বোন। দরিদ্র ও কুষ্ঠ রোগে আ’ক্রা’ন্ত প্রতিব’ন্ধী বৃদ্ধ দাদা মোস্তাফিজুর রহমান ও দাদি সুফিয়া বেগম ছাড়া ওই শি’শুদের লালন-পালনের জন্য পরিবারে আর কেউ না থাকায় এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে জানা যায়, প্রতিব’ন্ধী বৃদ্ধ মোস্তাফিজুর রহমান এবারই প্রথম সন্তান হারান নি। ২০০৪ সালে নিজ বাড়ির সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে রাস্তা পারের সময় দু’র্ঘ’ট’নায় মা’রা যান তার ছোট ছে’লে শামসুল হক। তারও আগে ১৯৯৫ সালে একই মহাসড়কে দু’র্ঘ’ট’নায় মা’রা যান তার ছোট ভাই ফজলুল হক। তারা সকলেই একই মহাসড়কে দু’র্ঘ’ট’নার শিকার হয়েছিলেন।

এর আগে শনিবার (১৬ জুলাই) ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় মোস্তাফিজুর রহমানের ছে’লে জাহাঙ্গীর আলম, পুত্রবধূ রত্না বেগম এবং নাতনি সানজিদার মৃ’ত্যু হয়। নি’হ’তদের বাড়ির সামনে কবর দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার নিজের কোনো জমি নেই। পুরনো টিন এবং মাটির তৈরি থাকার ঘরটিরও ভগ্নদশা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন জাহাঙ্গীর। তাকেসহ তিনজনকে একসঙ্গে হারিয়ে আরও অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। জাহাঙ্গীরের তিনি শি’শু সন্তানকে নিয়ে দু-চোখে অন্ধকার দেখছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। নবজাতকের বড় দুই ভাই-বোন এবাদত এবং জান্নাত। আলোচনায় আসেনি হতভাগ্য এই দুজনের কথা

স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, দাদা-দাদি দুজনই বৃদ্ধ হওয়ায় ওই তিন শি’শুর দেখাশোনা এবং ভরণপোষণের ব্যবস্থা তাদের পক্ষে অসম্ভব। এমন অবস্থায় সরকার কিংবা বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একে একে সব হারিয়েছি। আর হা’রা’নোর ভ’য় নাই। আল্লাহ কপালে যা লিখে রাখছে তাই হবে। ভিক্ষা করে হলেও নাতি নাতনিদের খাওয়াবো।এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জে’লা প্রশাসক এনামুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দু’র্ঘ’ট’নার পরপরই হতভাগ্য ওই পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং তাদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান।

Back to top button