জাতীয়

সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচনের পক্ষে সিইসি

সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে করার পক্ষে মতামত দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন,সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক হলে ক্ষতি কী? সংখ্যানুপাতিক যদি হয়, প্রত্যেকটা দল নির্বাচনে দাঁড়াবে।যে দল যত সংখ্যক ভোট পাবে, সেই হারে জাতীয় সংসদের আসন পাবে। সোমবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এমন মতামত জানান।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আম’রা কিন্তু কোনো প্রাপ্তির আশায় আসিনি। আম’রা যথেষ্ট পরিশ্রম করি। অনেকগুলো কাজে লাগে, অনেকগুলো কাজে লাগে না। সংসদ নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক হলে ক্ষতি কী? সংখ্যানুপাতিক যদি হয়, প্রত্যেকটা দল নির্বাচনে দাঁড়াবে। আপনি আপনার ৩০০ জন, আমি আমা’র ৩০০ জন, উনি উনার ৩০০ জন প্রার্থী দেবে। এক বছর পর গিয়ে নির্বাচন হবে। একটা দল যদি ৫০ শতাংশ ভোট পায় তাহলে ১৫০ আসন নিয়ে ফেলবে। ৩০০ নিতে পারবে না। আরেকটা দল যদি ২০শতাংশ পায় ৬০টি, ৫ শতাংশ হলে ১৫টি আসন পবে। আমি এতে ত্রুটি দেখিনা। এটা হলে আম’রা যে পরিশ্রম করি ৫০ শতাংশ কমে যেতো।

তিনি আরো বলেন, এতে সেন্টারে সেন্টারে মাস্তানি, পেশিশক্তির, অ’স্ত্রশক্তির প্রভাব কমে যেতো। এই ধরনের বেসিক সংস্কার ছাড়া… এটা আমা’র কিন্তু দায়িত্ব নয়। এগুলো হচ্ছে পলিটিক্যালি… কিন্ত এগুলো চাই। রাজনৈতিকভাবেই এগুলো বারবার চাইতে হবে। চাইতে চাইতে মানুষ বুঝবে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব জিনিসট কি। আম’রা কেবল এগুলো ভাবতে পারি। কিন্তু আমা’র তো রাজনৈতিক প্লাটফরম নাই। আমি নগন্য একজন ব্যক্তি।

দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি ‘পচে’ গেছে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।এমন বৈরি পরিবেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, বিলেতের চেয়ে বাংলাদেশে নির্বাচন করাটা অনেক কঠিন কাজ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইভিএমের বিরোধিতাঃ

সোমবার সংলাপে অংশ নিয়ে তিনটি দলই ইভিএমের বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশ ই’স’লা’মী ফ্রন্ট নির্বাচনের সময় পাঁচটি মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে রাখাসহ ৯ দফা সুপারিশ পেশ করে। খেলাফত মজলিস নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে কমিশনে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি তফসিল ঘোষণার পর সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার বিধানসহ ২০ দফা সুপারিশ দিয়েছে। সাংবিধানিক নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব রেখেছে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট। ইভিএমের সরাসরি বিরোধি না হলেও ত্রুটিমুক্ত করে প্রযু’ক্তিটি সংসদে পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহারের পক্ষে মত রয়েছে দলটির।

বিএনপি ছাড়া নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না:

খেলাফত মজলিসের সঙ্গে এর আগে সংলাপে বসে সিইসি বলেন, এটা কিন্তু অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, সংশয় সৃষ্টি করেছে। বিএনপি যদি অংশ না নেয়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন করার যে উদ্দেশ, সেটা হয়তো সফল হবে না। আম’রা হয়তো নির্বাচন করবো। বিএনপি কিন্তু অন্য দলের সঙ্গে বসে বিশেষ করে শাসক দলের সুরাহা করতে পারেন, একটা ঐক্যমতে পৌঁছতে পারে। তাহলে সেই ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন হতে কোনো বাধা নেই। সে প্রতিশ্রুতি আম’রা পাচ্ছি না। সেই অবস্থাটা আসেনি। এখনো একটা সংশয়, দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে আছি যে আল্টিমেটিলি বিএনপি কী নির্বাচনে আসছে? না ওই অবস্থাটা সরকারের সঙ্গে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটা অবস্থান সৃষ্টি করবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে এক টেবিলে বসার তাগাদা:

দুপুরে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সঙ্গে সংলাপে বসে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমি যেটা মনে করি সরকারি দল, তারা যদি বসতেন, বসে যদি পাঁচ সাতটা মিটিং করতেন সলভ হয়ে যেতো। তারা ভিন্ন ভিন্ন মঞ্চে মিটিং করছেন। একসঙ্গে কোনো মিটিং করেননি। কিন্তু আমাদের ধারণা, সীমিত জ্ঞান হলো- আমাদের ফ্যামিলিতে কোনো সমস্যা হলে মিমাংসায় বসি। মুরুব্বিদের ডা’কা হয়। এটা তো প্রচলন আছে। ওখানে বসতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আম’রা দেখতে পারছিনা যে আওয়ামী লীগের সম্মানিত নেতারা, বিএনপির সম্মানিত নেতারা একসঙ্গে বসছেন। টেবিলে বসে আলোচনা করলে অনেক ভালো হতো। এবং একটা সুরাহা হতো।

নির্বাচনের নামে নাট’ক নয়:

সকালে বাংলাদেশ ই’স’লা’মী ফ্রন্ট’র সঙ্গে সংলাপে বসে সিইসি বলেন, নির্বাচনের নামে নাট’ক মঞ্চস্থ হোক এটা কখনো চাইবো না। ইসির অনেক ক্ষমতা আছে, তা প্রয়োগের চেষ্টা করবো । বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নতুন কোনো ব্যবস্থায় নির্বাচনে আসে তাতে ইসির কোন আ’প’ত্তি থাকতে পারে না৷ আম’রা চাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন৷ অনুকূল পরিবেশ ও সমতল ভিত্তি তৈরি করতে চাই। একটি জবাবদিহিমূলক দায়িত্বশীল সংসদ দরকার। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব থেকে বিতাড়িত করতে হবে না। দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে পথ সুগম করে দিব। যেকোন উপায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অ’পরিহার্য।

দ্বিতীয় দিনের সংলাপে চারটি দলই অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ ই’স’লা’মী ফ্রন্ট নির্বাচনের সময় স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাসহ পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের কথা ইসির অধীনে আনার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া জে’লা প্রশাসকের পরিবর্তে ইসির নিজস্ব কর্মক’র্তাকে রিটার্নিং কর্মক’র্তা নিয়োগ, “জনতার মুখোমুখি সংসদ সদস্য প্রার্থী” শিরোনামে উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজনসহ বেশকিছু সুপারিশ করে।
নির্বাচনকালীন জাতীয় পরিষদ গঠনের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মৃক্তিজোট, যেখানে সকল দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আর জাতীয় পরিষদই নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা পালন করবে।

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নয় এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। এছাড়া জাতীয় সংসদের না’রী আসন ৬৪টিতে উত্তীর্ণকরণ এবং সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, নির্বাচনী ব্যয়সীমা পাঁচ লাখে আ’ট’কে দেওয়া, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার প্রচলনসহ ২০টি দাবি তুলেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

দু’দিনে মোট সাতটি দলের সঙ্গে সংলাপ সম্পন্ন করল ইসি। প্রথম’দিন রোববার (১৭ জুলাই) তিনটি দল- জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আ’ন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস সংলাপে এসেছিল। দ্বিতীয় দিন সোমবার বাংলাদেশ ই’স’লা’মী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সংলাপ করেছে ইসি সঙ্গে। প্রথম’দিন সংলাপে আসেনি বাংলাদেশ মু’সলিম লীগ-বিএমএল।

আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ধারারবাহিকভাবে দলগুলোর সঙ্গে সংসদ নির্বাচনি সংলাপের আয়োজন করেছে ইসি। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ই’স’লা’মী ঐক্য জোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এমএল; এই চারটি দল ইসিতে আসার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছে।

Back to top button