জাতীয়

ইভিএম নয়, সে’না চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ব্যালট পেপারে করার জন্য বলেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকেই সে’না মোতায়েনসহ ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে লিখিতভাবে এসব প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

প্রস্তাবগুলো হচ্ছে-

১। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সর্বাত্বক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
২। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মক’র্তাদের বদলির ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা এবং সব নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহণের সাত দিন আগে থেকে নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সে’নাবাহিনী মোতায়েন রাখা।

৩। নির্বাচনে যেভাবে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে ভোটারদের বিপথগামী ও চরিত্র নষ্ট করা হয়ে থাকে তাতে কোনো সৎ ও যোগ্য লোকের নির্বাচন করা খুবই কঠিন। আর এ অ’পতৎপরতা বন্ধ করা ইসির দায়িত্ব। অ’তীতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো সফলতা পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব চলছেই। এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে- ইসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে সব প্রার্থীর পক্ষ থেকে সার্বিক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা; একই পোস্টারে সব প্রার্থীর পরিচয় ও প্রতীক এবং একই মঞ্চে সব প্রার্থীর বক্তৃতার ব্যবস্থা। এজন্য জামানতের সঙ্গে এসব খরচের টাকা প্রার্থী/দল থেকে নেওয়া যেতে পারে।

৪। নির্বাচন সংক্রান্ত মা’ম’লা সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে ইসির মাধ্যমে নিস্পত্তি করা।
৫। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য যে কোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

৬। ধ’র্ম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোনো দলকে নিবন্ধন না দেওয়া।

৭। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য ধ’র্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিংবা বিরোধপূর্ণ কোনো আইন ও শর্ত আরোপ না করা।

৮। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভে’ঙে দেওয়া।

৯। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সব অ’বৈ’ধ অ’স্ত্র উ’দ্ধা’র ও লাইসেন্সকৃত অ’স্ত্র জমা’র জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

১০। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক মা’ম’লায় গ্রে’প্তা’রকৃত সব কারাব’ন্দিকে মুক্তি দেওয়া। নতুন কোনো রাজনৈতিক মা’ম’লা না দেওয়া। কোনো প্রার্থী ও তার কর্মীদের অযথা হ’য়’রানি না করা।

১১। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে করা।

১২। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

১৩। নিরপেক্ষভাবে ভোটের সংবাদ প্রচারে/সরাসরি সম্প্রচারে মিডিয়ার ওপর কোনোরূপ বাধা সৃষ্টি না করা।

১৪। প্রতিটি ভোট কেন্দ্র সিসি ক্যাম’রার আওতায় আনা (সিল মা’রার স্থান ব্যতিত)।

১৫। প্রবাসীরা যাতে ভোট দিতে পারেন সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

সংলাপে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভা’রপ্রাপ্ত মহাসচিব মা’ওলানা জালালুদ্দীন আহম’দের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তারাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

Back to top button