জাতীয়

৮০ হাজার টাকায় দুই মে’য়েকে বিক্রি করেন বাবা!

নিজের দুই মে’য়েকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন এম’রান হোসেন নামের এক বাবা। ৮০ হাজার টাকায় দুই সন্তানকে বিক্রির বিষয়টি প্রায় দুই বছর গো’প’ন রাখেন তিনি। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে পু’লিশ দুই বোনকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে উ’দ্ধা’র করে মা-বাবার কোলে তুলে দেয়। স্থানীয়রা বলছেন, বেকারি শ্রমিক এম’রান হোসেন দুই বিয়ে করে অভাবের তাড়নায় এই কা’ণ্ড করেছেন।

এম’রান হোসেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ৭ নম্বর বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামের বাসিন্দা। হাজীগঞ্জ থা’নার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্ম’দ জোবাইর সৈয়দ বুধবার বেলা ৩টায় মা জান্নাত বেগম ও বাবা এম’রান হোসেনের হাতে শি’শু দুটিকে তুলে দেন।

পু’লিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এম’রান আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী’ জান্নাতকে নিয়ে গ্রামে তথা নাটেহরায় বসবাস করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী’ থাকেন চট্টগ্রামে। প্রায় দেড় বছর আগে প্রথম স্ত্রী’র ঘরের তিন সন্তানের মধ্যে বড় মে’য়ে ইভাকে (৫) ৪০ হাজার টাকায় জে’লার ফরিদগঞ্জে ও ছোট মে’য়ে রিয়াকে (১৮ মাস) চাঁদপুর সদর উপজে’লায় ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন এম’রান।

গ্রামে থাকলে খাবারের ক’ষ্ট পাবে তাই ছোট স্ত্রী’র কাছে ভালো থাকবে―এমন মিথ্যা বুঝিয়ে প্রথম স্ত্রী’র কাছ থেকে তার দুই মে’য়েকে নিয়ে গো’প’নে বিক্রি করেন এম’রান। এম’রান তার দুই মে’য়েকে বিক্রি করেছেন―এমন খবর এলাকায় চাউর হয়ে যায়। এরপর পু’লিশ গতকাল মঙ্গলবার রাতে অ’ভিযান চালিয়ে ইভা ও রিয়াকে উ’দ্ধা’র করে।

আজ বুধবার থা’না কমপ্লেক্সে শি’শুদের লালন-পালনকারী দুই মাকেও নিয়ে আসা হয়। তারা জানান, লিখিতভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে শি’শুদের বাবার কাছ থেকে দত্তক নিয়ে দুই বছর ধরে তাদের লালন-পালন করছেন। তারা আরো বলেন, ওই সময় বলা হয়েছে, শি’শুদের মা মা’রা গেছেন। তাই তারাও প্রয়োজনে এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে শি’শুদের দত্তক নিয়েছেন।

শি’শুদের বাবা এম’রান হোসেন বলেন, ‘আমা’র ভুল হয়েছে। ওই সময়ে টাকার বিনিময়ে মে’য়েদের দত্তক দিয়েছি। আর এই ভুল হবে না। এখন আমি আমা’র মে’য়েদের লালন-পালন করব। ‘

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থা’নার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্ম’দ জোবাইর সৈয়দ জানান, তারা যে প্রক্রিয়ায় শি’শুদের দত্তক নিয়েছেন, তা বিধিসম্মত নয়। তাই শি’শুদের মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Back to top button