জাতীয়

‘শেখ হাসিনার ছবির নিচে ঘুমিয়ে থাকি, উনিও এ ঘরে থাকেন’

‘কা’মাই নাই, ঘরে কাওয়ান নাই, তেও তো ভ্যারাইটা ব্যাটা এইতা হুনতো না, খালি ট্যাহার লাইগ্যা ঘ্যানর-ঘ্যানর করতো, হেই দিনডা কতো যে ক’ষ্টে’র ছিল। আনহেরে হেডা ক্যামনে বুঝাইয়াম। তহন ক’ষ্টে বুকটা ফাইট্টা যাইতো গা। বেটাও ঘরে অ’সুখ, হের লাইগ্যাও ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। যহন তহন কইতো বার হইয়্যা যা, জাগা-বাসা নাই কই যায়াম, কথা হুইন্যাও থাকত্যাম— এভাবেই ক’ষ্টে’র দিনলিপি তুলে ধরেন আয়মনা (৬০)।

তিনি জালাল উদ্দিনের স্ত্রী’। পেয়েছেন ভূমিহীন-ঘরহীন তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ঘর ও জমি। ঠাঁই মিলেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজে’লার ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাঁতকুড়া গ্রামে।

আয়মনা জানান, এক মে’য়ে রাহেলা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন। মাত্র ৫ শতাংশ জমি ছিল তাদের। ছে’লে সন্তান নেই। তার স্বামী জালাল উদ্দিন পায়ের রগে সমস্যা হয়। সেই জমিটুকু বিক্রি করে স্বামীর চিকিৎসা করান। ভূমিহীন-ঘরহীন আয়মনা অ’সুস্থ স্বামীকে নিয়ে এ ইউনিয়নের লেবুর মোড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। রাস্তার পাশে দোকান দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা ও নিজের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। ভাড়া দিতে না পারায় প্রতিদিনেই নানা কটু কথা শুনতে হতো। সেই দিনের অবসান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শেখের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলো আমাদের আম্মা। উনার (শেখ হাসিনা) ছবি আমা’র বিছানার ওপরে রেখে দিয়েছি। শেখ হাসিনার ছবির নিচে আমি ঘুমিয়ে থাকি। উনিও এ ঘরে থাকেন।

তার স্বামী জালাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে উঠেছি প্রায় দেড় বছর হলো, সঙ্গেই মুদি দোকান দিয়েছি; যা আয় হয়, তাই দিয়ে চলছি আম’রা বুড়াবুড়ি। তবে গৌরীপুরের ইউএনও স্যার হাসান মা’রুফও আমাদের খোঁজখবর নেন। ঈদের সময় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছিলেন।

আয়মনার পাশের ঘরে থাকেন আমজত আলী (৭০)। তার ছে’লে সোহেল মিয়া ও পুত্রবধূ কল্পনা আক্তারও তাদের সঙ্গে থাকেন। দুই নাতি ৪র্থ শ্রেণির ছা’ত্রী সোহানা আক্তার ও প্রথম শ্রেণির ছা’ত্রী সুমি আক্তারকে নিয়ে তাদের সংসার।

আমজত আলী বলেন, আমা’র মা’থায় যত চুল আছে, প্রধানমন্ত্রী যেন তত বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর দু’হাত তুলে উনার জন্য মোনাজাত করি। সুখেই আছেন আমজত আলীর ঘরের পাশে ঠাঁই পাওয়া সাহেরা খাতুন আর আব্দুল হেলিমের পরিবার।

তাদের প্রসঙ্গে ডৌহাখলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মো. শহিদুল ই’স’লা’ম বলেন, মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন-ঠিকানাহীন মানুষদের আশ্রয় দিয়ে পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের হাতে ঘরের চাবি এবং দলিল হস্তান্তর করবেন। এ নিয়ে উপজে’লার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে চলছে উল্লাস।এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার উপজে’লা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন উপজে’লা নির্বাহী অফিসার হাসান মা’রুফ।

তিনি বলেন, এ উপজে’লায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তৃতীয় পর্যাযের দ্বিতীয় ধাপে ৭টি পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে সারা দেশে সুবিধাভোগীদের মাঝে এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনায় এ উপজে’লার এ পর্যন্ত ১৬২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর ও জমি প্রদান করা হয়েছে। এবারের ৭টিসহ মোট ১৬৯টি পরিবার ঘর পেয়েছে। এছাড়া উপজে’লার ভাংনামা’রী ইউনিয়নের ব্যারাকে ২৫টি পরিবার ও অচিন্তপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জে ব্যারাকে ১০টি পরিবারকে আবাসন দেওয়া হয়েছে। সবমিলে ২০৪টি পরিবার স্বপ্নের ঠিকানায় ঠাঁই পেয়েছে।

উপজে’লা অফিসার্স ক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজে’লা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. নিকহাত আরা, উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তা সোহেল রানা পাপ্পু, উপজে’লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন সোহেল, উপজে’লা সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।উপজে’লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন সোহেল জানান, প্রত্যেকটি গৃহে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা হয়েছে।

Back to top button