জাতীয়

সড়কে প্রা’ণ গেল স্বামীর: তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা গৃহবধূ

বুধবার রাত পৌনে ১২টা। পোশাক কারখানায় কাজ করতে ঢাকার উদ্দেশে স্ত্রী’ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজে’লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। বাড়িতে মায়ের কাছে রেখে যান তিন সন্তানকে। কয়েকদিন পর আবার আসবেন বলে মা ও সন্তানদের থেকে বিদায় নেন। কিন্তু এটিই যে তাদের শেষ দেখা ছিল- তা কে জানত? ম’র্মা’ন্তি’ক এক সড়ক দু’র্ঘ’ট’নায় না ফেরার দেশে চলে যান ত্রিশোর্ধ্ব যুবক জাহাঙ্গীর। রেখে যান স্ত্রী’, তিন শি’শু সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে।

যুবক বয়সী জাহাঙ্গীরের মৃ’ত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে স্তব্ধ গোটা গ্রামবাসীও। স্বামীর এমন মৃ’ত্যুতে বাকরুদ্ধ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী’ সেতারা বেগম। ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে কী করবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না।

জানা যায়, ঢাকায় যাওয়ার জন্য বুধবার রাতে স্ত্রী’কে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন কুমা’রগাড়ি গ্রামের মম’দেল হোসেন ছে’লে জাহাঙ্গীর। পীরগঞ্জ গিয়ে কোনো বাসের টিকিট না পেয়ে বাড়িতে আসার জন্য একটি অটোরিকশায় ওঠেন তারা। ভেতরে জায়গা না পেয়ে জাহাঙ্গীর বসেন চালকের পাশে আসনে।

অটোটি সাতগড়া বালুয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছার পর চতরা হাটের দিক থেকে আসা একটি ট্রাক জাহাঙ্গীরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। একে ট্রাকটির নিচে পড়ে এক পা থেঁতলে যায় তিন সন্তানের জনক জাহাঙ্গীরের। যখম হয় শরীরের অনেক স্থানেও।

অটোতে থাকা লোকজন দ্রুত উ’দ্ধা’র তাকে পীরগঞ্জ উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে নেওয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যায় জাহাঙ্গীর।

বৃহস্পতিবার বিকালে জাহাঙ্গীরের ম’রদেহ যখন গ্রামে ঢোকে তখন অন্যরকম শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ম’রদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুমা’রগাড়ি গ্রামে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে যানটির পিছে দৌঁড়াতে থাকেন মানুষ। সন্তানের লা’শ পৌঁছামাত্র মা নূরজাহান বেগম ছুটে যান গাড়িটির দিকে। সন্তানের লা’শ দেখে আহাজারি করছিলেন আর বারবার মুর্চ্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

স্ত্রী’ সেতারা বেগমও বাকরুদ্ধ হয়েছেন। বড় ছে’লে সিহাব হাসান ও মেঝ ছে’লে সাঈদ হাসানও কাঁদছেন অঝোরে। বাবার মৃ’ত্যুর বিষয়টি বুঝার ক্ষমতা না থাকলেও সবার কা’ন্না দেখে কাঁদছেন ছোট ছে’লে মু’সাদ্দিক হাসানও। যারা সান্ত্বনা দিতে এসেছেন এমন দৃশ্য দেখে তারাও চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি। অশ্রুসজল চোখে সবাই সান্ত্বনা দিচ্ছেন ছে’লেহারা মা আর স্বামী হারা স্ত্রী’। কিন্তু কিছুতেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষণ ব্যক্তিতে হা’রা’নোর শোক পরিবারের কেউ ভুলতে পারছেন না।

বাকরুদ্ধ স্ত্রী’ স্বামীর লা’শ দেখে অঝোরে কাঁদছেন আর বলছেন, ‘আমা’রে একা করে এভাবে চলে গেলা। তিন সন্তানকে নিয়ে আমি এখন কী করব।’

এলাকাবাসী জানায়, বাবা শা’রীরিকভাবে তেমন সক্ষম না হওয়ায় ছোট থেকেই সংসারের ভা’র কাঁধে তুলে নিতে হয় জাহাঙ্গীরকে। গরিব বাবার সংসারে কিছুটা স্বচ্ছলতা আনতে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন তিনি। বাবা মা’রা যাওয়ার পর ছয় সদস্যের পরিবারের সংসার টানতে হিমশিত খেতে হয় তাকে। উপায় না পেয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য স্ত্রী’ নিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন তিনি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসার পর আবার কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দু’র্ঘ’ট’নায় মা’রা যায় তিনি।

পীরগঞ্জ থা’না পু’লিশের কর্মক’র্তা জানান, দু’র্ঘ’ট’নায় মৃ’ত্যুর খবর শুনে পু’লিশ কুমা’রগাড়ি গ্রাম পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অ’ভিযোগ না থাকায় তার ম’রদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে নি’হ’ত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী’ সেতারা বেগম বিকাশ নম্বরে ০১৯৩২৩৭৬৬০৪ পাঠাতে পারেন।

Back to top button