খেলাধুলা

‘বাসায় বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে এসেছি’

দেশের ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আরও পেশাদার আচরণের প্রত্যাশা করছেন বিসিবির পরিচালক ও টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের জীবন একরকম, মাঠে আরেকরকম। দুইয়ের ভেতরে যোগসূত্র থাকলেও পেশাদারিত্ব দেখিয়ে ক্রিকেটারদের সতর্ক হয়ে চলার পরাম’র্শ খালেদ মাহমুদের। সেই সঙ্গে দলের সংস্কৃতি তৈরি করা, সেই সংস্কৃতি ধারণ করা এবং নিজেদের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে আরও চাপ সামলে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ফেসবুকে র’হ’স্যময় পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, ‘আমি যখন উঠে অনুশীলন করি, তখন আপনাদের অনেকেই ঘুমিয়ে থাকেন।’ এরপর জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে নিজের ফেসবুক পেজে এমন একটি ছবি শেয়ার করেছেন, তা বিতর্ক বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। ছবিতে দেখা যায়, অনুশীলনের পর ড্রেসিংরুমে গা এলিয়ে বসে আছেন তিনি। চোখ দুটি বন্ধ। সঙ্গে যে ইমোজি ব্যবহার করেছেন, তাতে বার্তা দিচ্ছেন ‘বিশ্রাম’ নিচ্ছেন তিনি।

মনে হতেই পারে টিম ম্যানেজমেন্টের চাপিয়ে দেওয়া ‘বিশ্রামের’ সিদ্ধান্তকে রীতিমতো কটাক্ষ করছেন। মুশফিকের এমন পোস্টে অ’বা’ক অনেকেই। প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধও হচ্ছেন তিনি। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে খালেদ মাহমুদ বলেছেন, ‘আমা’র মনে হয় এটা অনেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি এসব নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না। কিন্তু আমি আজকে ছে’লেদের একটা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছি যে, পেশাদারিত্ব তৈরি করতে হবে। আমাদের পেশাদার হতে হবে। আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। হ্যাঁ আমাদের অনেকের মন খা’রা’প হতে পারে। বাদ পড়লে মন খা’রা’প হবে স্বাভাবিক। দলে ঢুকলে খুশি লাগে। ভালো খেললে ভালো লাগে, খা’রা’প খেললে খা’রা’প লাগে।’

তিনি আরও বললেন, ‘ক্রিকেট একটা মনস্তাত্ত্বিক খেলা, এখানে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ আসে। আম’রা কেন ভালো খেলি না? মানসিক দুর্বলতার কারণেই তো এমন হয়। আমা’র কথা হচ্ছে যতদিন পর্যন্ত এসব সংস্কৃতি আম’রা তৈরি করতে পারবো না ততদিন পর্যন্ত ভালো একটা দল হয়ে উঠতে পারবো না।’

নিজেকে দৃষ্টান্ত দিয়ে খালেদ মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমি যেমন পেশাদার। আমা’র চাকরির খবর তো বাসায় যায় না বা আমা’র বাসার খবর তো চাকরির জায়গায় এসে জানাই না যে, আজকে আমি আমা’র বউয়ের সাথে ঝগড়া করে এসেছি। এখানে বিষয়টা একইরকম। আম’রা কীভাবে পেশাদার হতে পারি এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট একটা পরিবার, এখানকার কথাগুলো বাইরে যাওয়াটাও একটা ভুল বার্তা দেয়। সেটা যে-ই দিচ্ছে বা যারা-ই দিচ্ছে এটা ভালো না, স্বাস্থ্যকর না। আম’রা এসব নিয়েও কথা বলেছি। আমা’র মনে হয় যে এটা আমাদের সময় সংস্কৃতি গড়ে তোলার।’

খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘মানুষই তো ভুল করে, ভুল থেকে শেখে। আমি মনে করি আজকের পর থেকে এগুলো আর হবে না। সবাই দায়িত্বশীল, যারাই বাংলাদেশ দলে খেলে। তারা দেশের ক্রিকে’টের আইকন, দেশের আইকন। যেমন নুরুল হাসান সোহানকে শুধু দেশে না দেশের বাইরেও মানুষ চেনে। সুতরাং তারা নিজেদের দায়িত্ব স’ম্প’র্কে বুঝবে। খেলাটা শুধু মাঠের না, মাঠের বাইরেও অনেক খেলা আছে। সে জায়গাগুলোতেও আমাদের ভালো’ভাবে সামলে নিতে হবে, খুব সাবধানে সামলাতে হবে।’

Back to top button