জাতীয়

পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীসংকটে গ্রিন লাইন লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ

বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রীদের দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে চালু করা হয়েছিল গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজ। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চালুর পর গ্রিন লাইন স্বল্প সময়ে নৌপথের দিনের যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছিল। মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় বরিশাল থেকে ঢাকা পৌঁছে দিত গ্রিন লাইন। সেই দ্রুতগামী জলযান এমভি গ্রিন লাইনের দিনের যাত্রীসেবা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা প্রান্ত থেকে নির্ধারিত সার্ভিসটি স্থগিত করা হয়। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে গ্রিন লাইনের ফেসবুক পেজে এসংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ঢাকা-কালীগঞ্জ-ভোলা (ইলিশা) রুটের এমভি গ্রিন লাইন-২ নিয়মিত চলাচল করবে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে থেকেই আলোচনা ছিল নৌপথে যাত্রীর চাপ কমবে। এ নিয়ে লঞ্চ মালিকরাও বেশ উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। সেতু চালুর পর লঞ্চে যাত্রীসংকট দেখা দেয়। যাত্রীদের ধরে রাখতে লঞ্চ মালিকরা ভাড়া কমিয়েছিলেন।

তবে সেতু চালুর প্রথম কয়েক দিন পর সেই সংকট ঈদুল আজহায় কে’টে যায়। তখন যাত্রী সমাগম বেড়ে যায়। কিন্তু ঈদে ঘর ও কর্মস্থলমুখী যাত্রীর চাপ কমে যাওয়ার পর আবার নৌপথে যাত্রী অনেকটা কমে যায়। হঠাৎ গ্রিন লাইনের সার্ভিস স্থগিত করায় নৌপথের যাত্রীদের মধ্যে নানা রকম আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রিন লাইনের সার্ভিস স্থগিতের মাধ্যমে সেই আশ’ঙ্কা অনেকটা সামনে এলো।

দিনের সার্ভিসটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ঘোষণায় কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে কর্মক’র্তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যাত্রী কমে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাতে এই রুটে যাত্রীসেবায় নিয়োজিত লঞ্চগুলো ভাড়া কমিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

গ্রিন লাইনের ফেসবুক পেজে দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২৬ জুলাই থেকে সার্ভিস বন্ধ থাকবে। গ্রিন লাইনের ঢাকা-বরিশাল ভায়া হিজলা নৌপথে জাহাজটি চলাচল করত। তবে ঢাকা-কালীগঞ্জ-ভোলা (ইলিশা) রুটের এমভি গ্রিন লাইন-২ নিয়মিত চলাচল করবে।

গ্রিন লাইনের বরিশাল কাউন্টারের হিসাবরক্ষক আল আমিন বলেন, সার্ভিসটি আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে এটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর নৌপথে যাত্রী কমে গেছে। মূলত এ কারণেই আপাতত সার্ভিসটি স্থগিত করা হয়েছে।

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। পরদিন সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে বরিশালসহ দক্ষিণের নৌপথে যাত্রীসংকট দেখা দেয়। সড়কপথে চাপ বাড়ে যাত্রীর। গেল কয়েক দিনে অন্তত ৫০০ নতুন বাস বিভাগের বিভিন্ন সড়কপথে যাত্রী পরিবহনে যু’ক্ত হয়েছে।

Back to top button