জাতীয়

রান্নায় তেল বেশি দেওয়ায় স্ত্রী’র হাতের সাত আঙুল কে’টে ফেললেন স্বামী

এবার নাটোরের হরিশপুরে রান্না করার সময় তরকারিতে তেল বেশি দেওয়ায় কু’পিয়ে স্ত্রী’র দুই হাতের সাত আঙুল কে’টে ফেলার ঘটনায় স্বামী আব্দুল হাই (৪৫) ও তার সহযোগী মো. রাব্বি মিয়াকে (২০) গ্রে’প্তা’র করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রে’ব)। আজ বুধবার ২৭ জুলাই ভোরে অ’ভিযান চালিয়ে নাটোরের হালসা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকা তাদের গ্রে’প্তা’র করে রে’ব-৫। গ্রে’প্তা’র আব্দুল হাই নাটোরের বড় হরিশপুর এলাকার মৃ’ত ফজলু মিয়ার ছে’লে ও মো. রাব্বি মিয়া একই এলাকার আব্দুল খালেকের ছে’লে।

জানা যায়, গত রবিবার ২৪ জুলাই নাটোরের হরিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামে রান্না করার সময় তরকারিতে তেল বেশি দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কু’পিয়ে স্ত্রী’ মুক্তি বেগমের (৩০) দুই হাতের সাতটি আঙুল কে’টে দেন স্বামী আব্দুল হাই। পরে আ’হত মুক্তি বেগমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে নাটোর সদর থা’নায় একটি মা’ম’লা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ’ভিযান চালিয়ে আ’সা’মিদের গ্রে’প্তা’র করে রে’ব-৫।

গ্রে’প্তা’রের পর রে’ব-৫ সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তিতে জানায়, বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে রে’বের একটি দল নাটোরের হালসা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে প্রধান আ’সা’মি আব্দুল হাই ও তার মামাতো ভাই মো. রাব্বি মিয়াকে গ্রে’প্তা’র করেছে।

সূত্র জানায়, নাটোরের বড় হরিশপুর এলাকার মৃ’ত ফজলুর রহমানের ছে’লে আব্দুল হাই আগের তিনটি বিয়ের কথা গো’প’ন রেখে সদর উপজে’লার আটঘরিয়া গ্রামের মৃ’ত জয়নাল আবেদিনের মে’য়ে মুক্তিকে বিয়ে করেন। ১৩ বছরের সংসারে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল হাই স্ত্রী’ মুক্তি বেগমের ওপর নি’র্যা’তন চালিয়ে আসছিলেন। তারপরও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি তা সহ্য করে আসছিলেন।

গত রবিবার দুপুরে তরকারি রান্না করার সময় তেল বেশি দেওয়ায় আব্দুল হাই ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী’কে এলোপাতাড়ি কু’পিয়ে দুই হাতের সাত আঙুল কে’টে দেন। মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কু’পিয়ে র’ক্তাক্ত জ’খ’ম করেন। স্বজনরা তাকে উ’দ্ধা’র করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতা’লে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে পাঠানো হয়।

এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজা উন নবী বলেন, তার হাতের আঙুলের অবস্থা খুবই খা’রা’প। সাতটি আঙুল কর্তনের পাশাপাশি একটি হাত ভে’ঙেও গেছে। ভুক্তভোগী মুক্তি বেগম বলেন, ওইদিন দুপুরে তরকারিতে বেশি তেল দিয়েছি বলে মা’রধর করা শুরু করে। এক পর্যায়ে হাসুয়া দিয়ে আমা’র গলাকা’টার চেষ্টা করলে আমি হাত দিয়ে বাঁ’ধা দিই। তারপরও এলোপাতাড়ি কো’পাতে থাকে। আমা’র মুখে হাসুয়া দিয়ে আ’ঘাত করে। আমি দৌড়ে না পালালে আমাকে মে’রেই ফেলতো। আমি এই পাষণ্ডের বিচার চাই।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, আব্দুল হাই এর আগে আরও তিনটি বিয়ে করেন। সেসব স্ত্রী’রা অ’ত্যাচার নি’র্যা’তন সইতে না পেরে তাকে ছেড়ে চলে যান। বর্তমান স্ত্রী’ও বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। ঈদের আগে আব্দুল হাইয়ের অনুরোধে স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি তাকে স্বামীর বাসায় ফিরিয়ে আনেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রে’প্তা’র আ’সা’মিরা মুক্তি বেগমকে প্রতিনিয়ত শা’রীরিক ও মানসিক নি’র্যা’তনসহ ওইদিন (২৪ জুলাই) হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কু’পিয়ে জ’খ’মের কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাদের নাটোর সদর থা’নায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

Back to top button