{{ news.section.title }}
বিশ্ববাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় মঙ্গলবার বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৭১ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে সোমবারের লেনদেনে স্বর্ণের দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। ফলে একদিনের ব্যবধানে বাজারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে।
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারসের দামও বেড়েছে। এদিন ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭০ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো নাজুক। যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আবারও মূল্যবান ধাতুর দিকে ফিরেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য সুদের হার নীতিও স্বর্ণবাজারে নতুন করে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সাধারণত সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ দেয় না। ফলে কম সুদের পরিবেশে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি আবারও কঠোর অবস্থানে যায়, তাহলে স্বর্ণের বাজারে নতুন চাপও তৈরি হতে পারে।
এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের স্বর্ণের মজুত বাড়িয়েছে। ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৈচিত্র্যময় করার কৌশলের অংশ হিসেবে অনেক দেশ স্বর্ণ ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদা শক্ত অবস্থানেই রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি তথ্য, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণবাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। আর সেই অনিশ্চয়তাকেই পুঁজি করে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজার। ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে।