{{ news.section.title }}
ঈদের দিন বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস
আর মাত্র কয়েক দিন পরই দেশে উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কোথাও আকাশ মেঘলা, কোথাও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি, আবার কোথাও টানা রোদ ও তাপপ্রবাহ-এমন বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার মধ্যেই ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, ঈদের সময় দেশের সব অঞ্চলে একই ধরনের আবহাওয়া থাকবে না। কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি স্বস্তি এনে দিতে পারে, আবার দেশের কিছু অংশে গরমের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ঈদের নামাজ, কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রক্রিয়াকরণ এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি নয়; বরং ঢাকা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ফলে ঈদের নামাজ ও কোরবানির আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে ঢাকাবাসীকে গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে; অন্যদিকে রংপুর ও রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ মে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে ২৪ ও ২৫ মে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে এই বৃষ্টি সব অঞ্চলে সমানভাবে হবে না। কোনো এলাকায় সাময়িক বৃষ্টি হলেও পাশের জেলায় তীব্র ভ্যাপসা গরম থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষাকালের আগমুহূর্তে দেশের ওপর দিয়ে আর্দ্র ও উষ্ণ বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় আকাশে মেঘ তৈরি হচ্ছে, আবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে গরম আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। এ কারণেই দিনের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও অনুভূত গরম বেশি লাগছে।
বর্তমানে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর আগে রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস–সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আগামী ২৬ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ মে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে এ সময় দিনের তাপমাত্রা সারাদেশে প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
২৭ মে থেকে বৃষ্টির বিস্তার কিছুটা বাড়তে পারে। ওই দিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময় কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল আজহা ২৮ মে উদ্যাপিত হলে সেদিনের আবহাওয়াও অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ২৪ মে প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে ২৮ মে সকাল ৯টা থেকে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ওই দিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
তবে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় ঈদের দিনের পূর্বাভাস শেষ মুহূর্তে বদলাতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় মেঘ, বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া বা কালবৈশাখী ধরনের পরিস্থিতি অনেক সময় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তৈরি হয়। তাই ঈদের নামাজ, পশুর হাটে যাতায়াত, কোরবানির প্রস্তুতি এবং দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, শ্রমজীবী মানুষ এবং দীর্ঘসময় বাইরে থাকা ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ঈদের দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাইরে থাকতে হলে পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং সম্ভব হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা উচিত। কোরবানির কাজের সময় দীর্ঘসময় রোদে থাকলে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা বা বমি বমি ভাব দেখা দিলে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে হবে।
বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, নদী, জলাশয়, গাছের নিচে বা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ। ঈদের নামাজের জামাত খোলা মাঠে হলে আকাশের অবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন জায়গা প্রস্তুত রাখা, বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং পানি জমে যাওয়ার ঝুঁকি এড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।