{{ news.section.title }}
ভিসা আবেদনে জাল নথি? হতে পারে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাজ্যের ভিসা আবেদনে জাল, ভুয়া বা প্রতারণামূলক নথি জমা দিলে আবেদনকারীকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন। রোববার (২৪ মে) এক বার্তায় হাইকমিশন জানায়, ভিসা আবেদনে ভুল বা মিথ্যা তথ্য নয়, বরং সঠিক তথ্য ও প্রকৃত নথি জমা দেওয়াই নিরাপদ পথ।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ভিসা আবেদনে জাল নথি জমা দেওয়ার ফল হতে পারে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা। তাই ভিসা আবেদনের আগে সঠিক তথ্য, নির্ভরযোগ্য জিজ্ঞাসা এবং সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে আবেদনকারীদের যুক্তরাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ভিসা ও ইমিগ্রেশন নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ভিসা সংক্রান্ত সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় GOV.UK–এর অফিসিয়াল নির্দেশনা দেখতে হবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের এই সতর্কতা এমন সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা, কাজ, ভ্রমণ ও পারিবারিক কারণে ভিসা আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অনেক আবেদনকারী বিভিন্ন এজেন্সি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেন। হাইকমিশন আগেও জানিয়েছিল, ভিসা প্রতারণা ঠেকাতে এবং ভুয়া ইমিগ্রেশন সহায়তাকারীদের কারণে আবেদনকারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য তারা সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে ব্রিটিশ হাইকমিশনের বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য বৈধ ভিসা আবেদনকে স্বাগত জানায়, তবে যারা প্রতারণার চেষ্টা করেন, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে, যার মধ্যে ১০ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন রুলসের Part Suitability-তে বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসা আবেদনে মিথ্যা উপস্থাপন, ভুয়া নথি, মিথ্যা তথ্য বা প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপনের মাধ্যমে প্রতারণা করলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। নিয়মে আরও বলা আছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে যে আবেদনকারী deception বা প্রতারণা করেছেন, তখন entry clearance বা permission–এর আবেদন বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যাখ্যানের আওতায় পড়তে পারে।
যুক্তরাজ্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ ভিসা বা entry clearance আবেদনে প্রতারণা করেছেন বলে প্রমাণিত হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ১০ বছরের mandatory refusal period বা বাধ্যতামূলক প্রত্যাখ্যানের সময়সীমার আওতায় পড়তে পারেন। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, permission to stay, entry clearance-যার মধ্যে visitor আবেদনও অন্তর্ভুক্ত-অথবা নির্দিষ্ট permission to enter আবেদনে প্রতারণা প্রমাণিত হলে এই ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাল নথির মধ্যে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মিথ্যা চাকরির কাগজ, ভুয়া শিক্ষাগত সনদ, মিথ্যা স্পন্সরশিপ ডকুমেন্ট, ভুয়া ট্রাভেল হিস্ট্রি, ভুয়া আয় বা ব্যবসার প্রমাণ এবং উদ্দেশ্য গোপন করা-এসব বিষয় থাকতে পারে। অনেক সময় আবেদনকারী নিজে না বুঝে এজেন্টের দেওয়া নথি জমা দেন; তবে ভিসা আবেদনের দায় শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীর ওপরই পড়ে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি নথি নিজে যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাজ্যের অফিসিয়াল GOV.UK ভিসা ও ইমিগ্রেশন পোর্টালে ভিজিট, স্টাডি, ওয়ার্ক, ফ্যামিলি, ই-ভিসা, ETA এবং অন্যান্য ভিসা–সংক্রান্ত তথ্য আলাদা বিভাগে দেওয়া আছে। সেখানে আবেদনকারী কোন ভিসার জন্য যোগ্য, কী নথি লাগবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে-এসব নির্দেশনা পাওয়া যায়।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের সতর্কতার মূল বার্তা হলো-দ্রুত ভিসা পাওয়ার আশ্বাস, ভুয়া গ্যারান্টি, ‘ব্যাংক ব্যালান্স বানিয়ে দেওয়া’, ‘চাকরির কাগজ করে দেওয়া’ বা ‘স্পন্সর ম্যানেজ করে দেওয়া’ ধরনের প্রলোভনে পড়া বিপজ্জনক। এ ধরনের প্রতারণা শুধু একটি আবেদন বাতিলের কারণ নয়; ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগও নষ্ট করে দিতে পারে।
ভিসা আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ হলো, সব তথ্য সত্য ও যাচাইযোগ্য দিতে হবে, নথি নিজে পরীক্ষা করতে হবে, সন্দেহজনক এজেন্টের ওপর নির্ভর করা যাবে না এবং আবেদন জমা দেওয়ার আগে GOV.UK–এর সর্বশেষ নির্দেশনা মিলিয়ে নিতে হবে। কোনো নথি বা তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা গোপন না করে বৈধ পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ভিসা আবেদন করার জন্য নিচের লিঙ্ক দেখতে অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন: gov.uk/browse/visas-immigration
তথ্যসূত্র: British High Commission Dhaka/GOV.UK