{{ news.section.title }}
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিচ্ছে যেসব দেশ
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ এবার শুধু পরিচিত শক্তিধর দলগুলোর লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে চারটি নতুন দেশ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে কুরাসাও, উজবেকিস্তান, জর্ডান ও কেপ ভার্দেকে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, একের পর এক ব্যর্থতা আর ধারাবাহিক উন্নয়নের পর অবশেষে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে জায়গা করে নিয়েছে দেশগুলো। ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও বিষয়টি তৈরি করেছে বাড়তি আগ্রহ ও কৌতূহল।
এই চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখ মানুষের দেশটির আয়তন মাত্র ১৭১ বর্গমাইল, যা ঢাকা শহরের থেকেও সামান্য বড়। এত ছোট একটি দেশ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ায় ফুটবল বিশ্বে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাসের অন্যতম ক্ষুদ্র দেশ হিসেবেও তারা বিশ্বকাপের মঞ্চে নাম লেখাতে যাচ্ছে।
জামাইকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ড্র করেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে কুরাসাও। একসময় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৫০-এর নিচে অবস্থান করা দলটি এখন উঠে এসেছে ৮০-এর ঘরে। তাদের এই অবিশ্বাস্য উত্থানকে অনেকে ফুটবলের রূপকথা বলেও অভিহিত করছেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও যে বড় স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব, কুরাসাও যেন তারই উদাহরণ।
প্রথমবার বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলোর তালিকায় রয়েছে এশিয়ার উজবেকিস্তানও। এর আগে ২০০৬ জার্মানি ও ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খুব কাছাকাছি গিয়েও মূল আসরের টিকিট হারাতে হয়েছিল তাদের। তবে এবার আর হতাশ হতে হয়নি উজবেকদের। বর্তমান দলে থাকা কয়েকজন তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করেই তারা ইতিহাস গড়েছে। দেশটির ফুটবল অবকাঠামো ও যুব উন্নয়ন পরিকল্পনার ফল এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
এশিয়ার আরেক নতুন প্রতিনিধি জর্ডান। প্রায় চার দশক আগে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নেওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি টানা নয়বার ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে পেয়ে গেছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। এএফসি বাছাইয়ের গ্রুপ ‘বি’ থেকে রানার্সআপ হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। জর্ডানের এই অর্জনে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে এবং ফুটবলকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের আগ্রহও বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেও জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে। প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার দেশটির এই অর্জন হঠাৎ করে আসেনি। ১৯৯০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে নিজেদের ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী করে তুলেছে তারা। দীর্ঘ পরিকল্পনা, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশে থাকা খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ত করার কৌশল তাদের সাফল্যের বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
কেপ ভার্দের উন্নয়নের অন্যতম বড় কৌশল ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দে বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা। বর্তমান স্কোয়াডেও রয়েছে নানা দেশের সংযোগ। দলে আছেন নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া ছয়জন ফুটবলার। এছাড়া আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া একজন ডিফেন্ডারও রয়েছেন দলে। বহুজাতিক অভিজ্ঞতা ও ভিন্নধর্মী ফুটবল সংস্কৃতির মিশ্রণে দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কেপ ভার্দে ফুটবল কর্তৃপক্ষ রবার্তকে খুঁজে পেয়েছিল লিংকডইনের মাধ্যমে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যে এখন ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সেটিই যেন প্রমাণ করেছে এই ঘটনা।
বিশ্বকাপের এবারের আসরে এই চার নতুন দলের অংশগ্রহণ ফুটবলে নতুন বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। ছোট দেশ, সীমিত সামর্থ্য কিংবা দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা-সব বাধা পেরিয়েও যে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব, সেটিই আবারও প্রমাণ করল কুরাসাও, উজবেকিস্তান, জর্ডান ও কেপ ভার্দে। তাদের এই যাত্রা ভবিষ্যতে আরও অনেক ছোট দেশের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।