ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ, সমর্থকদের কাছে ক্ষমা ভিনিসিয়ুসের

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ, সমর্থকদের কাছে ক্ষমা ভিনিসিয়ুসের
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন নিয়েই উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে যায় শেষ ষোলোর মঞ্চেই। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় সেলেসাওরা। এই পরাজয়ের মাধ্যমে ২০০২ সালের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল, আর হেক্সা জয়ের অপেক্ষা গড়াল অন্তত ২৮ বছরে।

হতাশাজনক এই বিদয়ের পর চার দিন নীরব ছিলেন ব্রাজিলের অন্যতম বড় তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।

 

নিজের পোস্টে ভিনিসিয়ুস লেখেন, ‘বিশ্বকাপের আরেকটি হতাশার গল্পের পর কী লিখব, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। সবাই আমাদের সমর্থন করেছে, আমাদের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বানিয়েছে। তাই চুপ করে থাকাটা ঠিক হতো না। কিন্তু সবকিছু বুঝে নিতে এবং নিজের অনুভূতিগুলো গুছিয়ে নিতে আমার কয়েকটা দিনের প্রয়োজন ছিল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মতো জায়গা থেকে বিদায় নেওয়ার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমি জানি, এই টুর্নামেন্টের জন্য কতটা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমার পরিবার, সতীর্থ এবং কোটি কোটি সমর্থকের জন্য বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। আমি সবাইকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আবারও ব্রাজিলকে বিশ্বের সেরা দল বানানোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

 

এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকেই চোটের ধাক্কা সামলাতে হয়েছে ব্রাজিলকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান রদ্রিগো ও এস্তেভাও। পরে গ্রুপ পর্ব চলাকালেই ইনজুরিতে পড়েন রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতা। শেষ ষোলোর আগে পর্যন্ত নেইমারও পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। ফলে আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এসে পড়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাঁধে।

 

সেই দায়িত্ব অনেকটাই সফলভাবে পালনও করেন তিনি। পাঁচ ম্যাচে করেন ৪টি গোল এবং ১টি অ্যাসিস্ট। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে জাপানের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচ পর্যন্ত ব্রাজিলের আক্রমণের সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র ছিলেন ভিনি। তবে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলের সামনে তাঁর পারফরম্যান্স দলকে রক্ষা করতে পারেনি।

 

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে ব্রাজিলে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারাইসের পেনাল্টি মিস, কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং দ্বিতীয়ার্ধে নেইমারকে নামানোর সময় নিয়ে সমালোচনা করেছেন সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকেরা। তবে এসব বিতর্কের মাঝেও ভিনিসিয়ুস নিজের পোস্টে কোনো অজুহাত দেননি; বরং পরাজয়ের দায় দলের সঙ্গেই ভাগ করে নিয়েছেন।

 

ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমেও ভিনিসিয়ুস পেনাল্টি প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। কেন তিনি স্পটকিক নেননি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পেনাল্টি শুটার আগে থেকেই কোচ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং দলের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেছেন। তাঁর ভাষায়, ব্যক্তিগত পুরস্কার বা গোলসংখ্যার চেয়ে দলের জয়ই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

ব্রাজিলের বিদায়ের পর দেশটির সংবাদমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন করে দল গঠনের আলোচনা। তবু সিবিএফ কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর আস্থা রেখেছে এবং ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁকেই দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন বিশ্বকাপ চক্রে ভিনিসিয়ুসকে কেন্দ্র করেই ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ দল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

 

বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ব্রাজিলের। কিন্তু ২৬ বছর বয়সী ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বার্তায় স্পষ্ট-এই ব্যর্থতাই শেষ নয়। বরং এটিকে নতুন পথচলার শুরু হিসেবেই দেখছেন তিনি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাঁর শেষ কথাটি ছিল সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক-‘আমি লড়াই থামাব না। একদিন আবার ব্রাজিলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আসনে ফিরিয়ে আনতেই চাই।’


সম্পর্কিত নিউজ